Gaddafi

গাদ্দাফির বিমানে মিসাইল ছুড়েছিলো ফ্রান্স

লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি কে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বিমান লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা করেছিলো ফ্রান্স। কিন্তু ভুলক্রমে মিসাইলটি ইতালির একটি বেসামরিক বিমানে আঘাত হানে। এমন দাবি করেছেন ইতালির সাবেক এক প্রেসিডেন্ট। ওই হামলায় ৮১ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয়।

ইতালির দুই মেয়াদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিলিয়ানো আমাতো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তার এই যুক্তি খণ্ডন করতে অথবা বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে।

ইতালির লা রিপাবলিকান পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আমাতো বলেন, ১৯৮০ সালের ২৭ জুন লিবিয়ার একটি সামরিক বিমানকে টার্গেট করতে গিয়ে ফ্রান্স ওই বেসামরিক বিমানটিতে হামলা চালায়। যদিও এ বিষয়ে কোন শক্ত প্রমাণ তার হাতে নেই।

ইতালি আগেই এই হামলা সম্পর্কে টের পেয়ে গাদ্দাফিকে সামরিক বিমানে চড়তে নিষেধ করে। ঘটনার দিন যুগোস্লাভিয়া থেকে লিবিয়ায় ফেরার কথা ছিলো মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির।

বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের খবরে বলা হয়েছে, ওই বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছিলো সেটি আধুনিক ইতালির দীর্ঘস্থায়ী একটি রহস্য। অনেকে বলছেন, বোলোগনা থেকে সিসিলিগামী বিমানে বিস্ফোরণ ঘটেছিলো। তবে সাগর থেকে তোলা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে মিসাইল হামলার সন্দেহ করছেন অনেকে।

গিলিয়ানো আমাতোর মতে, সেদিন সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে আকাশে সামরিক তৎপরতা চালিয়েছিলো ফ্রান্সের বিমান বাহিনী। ন্যাটোর অনেকগুলো বিমান সামরিক মহড়া চালিয়েছিলো, যার মধ্য থেকে একটি মিসাইল ছোড়া হয় গাদ্দাফিকে টার্গেট করে; কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান গাদ্দাফি। যদিও ঘটনার পর ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো কোন ধরণের মহড়ার কথা অস্বীকার করে।

নিজের ক্ষমতার মেয়াদে এ ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ফ্রান্সের জ্যাক শিরাককে চিঠি দিয়েছিলেন আমাতো; কিন্তু উভয় দেশই তার চিঠির বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তারা বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি চুপ থেকেছে।

২০১১ সালে লিবিয়ায় সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে গাদ্দাফি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফ্রান্সসহ ন্যাটো দেশগুলো। ওই সময় গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top