মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কয়টি

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য একটি ভূরাজনৈতিক অঞ্চলের নাম মধ্যপ্রাচ্য । এর মধ্যে রয়েছে আরব উপদ্বীপ, তুরস্ক, ইরান, ইরাক, মিসর ও লেভান্ত। লেভান্ত একটি ঐতিহাসিক এলাকা যার মধ্যে সাইপ্রাস থেকে শুরু করে ইসরাইল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও তুরস্কের কিছু অঞ্চল রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রধানত আরবদের বসবাস। তবে আরব ছাড়াও বেশ কিছু জাতিগোষ্ঠি রয়েছে অঞ্চলটিতে। তাদের মধ্যে তুর্কি, আজেরি, আর্মেনিয়ান, আসিরিয়ান, বালুচ, দুর্জ, গ্রিক, কপ্টস, কুর্দি, আলবেনিয়ান, ক্রাইমিয়ান তাতারসহ বহু জাতির লোকের বসবাস অঞ্চলটিতে।

আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশ পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কয়টি

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তর্ভূক্ত দেশ সংখ্যা ১৮টি। এর মধ্যে ১৩টি আরব দেশ। আরব দেশ বলা হয় সেই সব দেশকে যেগুলোতে প্রধানত আরবি ভাষাভাষী মানুষের বসবাস। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় সৌদি আরব। আর সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিসর। ভৌগলিকভাবে মিসর আফ্রিকার দেশ। এটি উত্তর আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই আরব দেশ এবং জনসংখ্যা মুসলিমপ্রধান।

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটিই প্রধানত মুসলিম প্রধান। ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ এই অঞ্চল থেকে। ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সা. এর জন্ম সৌদি আরবে। তার ইসলাম প্রচার ও প্রসারের কারণে পুরো অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম বিস্তার লাভ করে। এ জন্যই মূলত এই অঞ্চলের জনসংখ্যা প্রধানত মুসলিম।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মাঝে রয়েছে বাহরাইন, সাইপ্রাস, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
এর মধ্যে মিসর, ইয়েমেন উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ। সাইপ্রাস ও তুরস্ক ইউরোপ মহাদেশের অংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র

মানচিত্রে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান দেখনু।

মধ্যপ্রাচ্য
মানচিত্রে মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য কেন বলা হয়

ইউরোপীয়দের ভাবনা থেকে বিশ্বকে দুটি অংশে বিবেচনা করা হয়, এক পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা বিশ্ব, দুই- প্রাচ্য বা পূর্বাঞ্চল। পশ্চিমা বিশ্ব বলতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপ মহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলকে বিবেচনা করা হয়। অন্য দিকে পূর্বাঞ্চল বলতে এশিয়া মহাদেশ, রাশিয়ার কিছু অংশ, ককেশাস অঞ্চল ইত্যাদিকে বোঝানো হয়। একটি বিশ্ব মানচিত্র সামনে নিয়ে বসলে আপনি বুঝতে পারবেন বামদিকটা হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়া আর ডান দিকটা হচ্ছে প্রাচ্য বা পূর্ব দুনিয়া।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ইউরোপীয়রা ‘নিয়ার ইস্ট’ বা নিকট প্রাচ্য বলতে বলকান অঞ্চল বিশেষ করে ওসামনীয় খিলাফার অধীনস্ত তুরস্ক ও অন্যান্য অঞ্চলকে বোঝাতো। ফার ইস্ট বা দূর প্রাচ্য বলতে চীন, জাপান, কোরিয়াকে বোঝাতে। আর মধ্যপ্রাচ্য বলতে, ইরান, আফগানিস্তানসহ আরব অঞ্চলটিকে বোঝানো হতো। অর্থাৎ প্রাচ্য বা পূর্ব দুনিয়ার মাঝখানের অংশটা। এভাবেই মধ্যপ্রাচ্য নামটার ব্যবহার শুরু হয়।

তবে অনেক সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে ভারতীয়রা মধ্যপ্রাচ্য শব্দটা ব্যবহার করতে চায় না, তারা মধ্যপ্রাচ্যকে পশ্চিম এশিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্থাৎ এশিয়ার পশ্চিমাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্য নামটাই বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত।

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট বলতে প্রধানত ফিলিস্তিন সঙ্কটেই বোঝানো হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ইহুদিরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এনে বসতি গড়ার সুযোগ দেয় ব্রিটেন। এরপর এটিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র। ধীরে ধীরে তারা ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ১৯৪৮ সালে বিশাল সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করে প্রতিষ্ঠা হয় ইসরাইল রাষ্ট্র। এরপর থেকে ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ক্রমশ দখল করে তাদের দেশের সীমানা বৃদ্ধি করেই চলছে।

লেখকের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top