খেলার জন্য টাকা না পেয়ে মাকে মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অনলাইন গেম খেলার জন্য টাকা না পেয়ে নিজের মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. জাবেদ (১৮) ওই এলাকার কালা গাজীর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত মো. ইয়াকুবের ছেলে। পাঁচ-ছয় বছর আগে তার বাবা মারা যান। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পরিবারের একমাত্র ছেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ভেতরে হাতে ধারালো বটকি নিয়ে জাবেদ তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করছেন। একপর্যায়ে তিনি ভয় দেখাতে দেখাতে মাকে মারধর শুরু করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি ভুক্তভোগী নারী। ভিডিওতে তাকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “তোরে আমি টাকা দিব, আর মারিস না বাপ, তোর মাথা ছুঁয়ে বলছি।”

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মারধরের সময় মা বারবার ছেলেকে থামার অনুরোধ জানান এবং টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি অভিযুক্তের বোন মোবাইল ফোনে ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনেকে মাদক ও অনলাইন গেম আসক্তিকে যুব সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

খবর পেয়ে বুধবার রাতেই আনোয়ারা থানা পুলিশ ভুক্তভোগীর বাড়িতে যায়। পুলিশ জানায়, ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো অনলাইন গেমে আসক্তির কারণে অভিযুক্ত প্রায়ই পরিবারের কাছে টাকা চাইতেন। সর্বশেষ টাকা না পেয়ে তিনি মাকে মারধর করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযুক্তের বোন জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে গেমে আসক্ত। প্রতিদিন মোবাইল ইন্টারনেট কেনার জন্য প্রায় এক হাজার টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে গেম আসক্তির কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top