হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার মাঝে দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা যখন চরমে পৌঁছেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত সাময়িকভাবে থামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে—যদি ইরান কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রনালি (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, এই ঘোষণা কার্যত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে পরিস্থিতিকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে এনেছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
যুদ্ধের মুখে শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত
গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি কঠোর সময়সীমা দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন—যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে। এমনকি তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”
এই হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা দ্রুত বেড়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে নির্ধারিত সামরিক হামলার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখবে, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি এই বিরতিকে “double-sided ceasefire” বা দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এই উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্রকে সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং একই সঙ্গে ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই উদ্যোগের পরই যুক্তরাষ্ট্র হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
ইরানের অবস্থান
ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির নেতারা বলছেন, তারা চাপের কাছে নত হবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত।
তবে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, তারা সংঘাত বন্ধের ব্যাপারে আলোচনা করতে পারে—তবে শর্ত হিসেবে হামলা বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইরানিরা ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছে।
সংঘাতের মূল কারণ: হরমুজ প্রণালী
বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রনালি—যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ।
এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, দুই সপ্তাহের এই বিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে যদি কূটনৈতিক আলোচনা এগোয়, তাহলে বড় যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং সামান্য উত্তেজনাও দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে শেষ মুহূর্তে ঘোষিত দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিতাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় যুদ্ধকে অন্তত সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে। এখন নজর কূটনৈতিক আলোচনার দিকে—এই আলোচনাই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি আবার নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে।


