পার্লামেন্টে শপথ নিতে গিয়ে ব্রিটিশ রানীকে ঔপনিবেশিক বা উপনিবেশ স্থাপনকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এক আদিবাসী সিনেটর। সোমবার( ১ আগস্ট) তার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংবিধান বিরোধী এই মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের মুখে পড়েন ওই সিনেটর। তবে সিনেটরের এই সাহসী পদক্ষেপের পর দেশটিতে ব্রিটিশ রানীকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বহাল রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভিক্টোরিয়া থেকে নির্বাচিত গ্রিন পার্টির সিনেটর লিডিয়া থর্প সোমবার শপথ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সিনেটরদের শপথে রানী এলিজাবেথের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু শপথ পাঠ করতে গিয়ে থর্প রানীর নামের আগে ঔপনিবেশিক বা উপনিবেশ স্থাপনকারী বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে স্পিকার এর প্রতিবাদ জানান। আশপাশ থেকেও একাধিক এমপি প্রতিবাদ করেন। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার শপথ পাঠ করতে হয়।
দ্বীপরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৮৮ উপনিবেশ বানায় ব্রিটিশরা। এসময় তারা স্থানীয় আদিবাসীদের ওপর ব্যপক দমন পীড়ন ও হত্যাকা- চালায়। এক সময় ইউরোপের অপরাধীদেরও শাস্তি হিসেবে পাঠানো হতো সেখানে। যার ফলে অস্ট্রেলিয়া হয়ে ওঠে অপরাধীদের আবাসভুমি।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনীতিতে আদিবাসীদের অবস্থা জোরালো হচ্ছে। যে কারণে ব্রিটিশ অতীত নিয়ে আলোচনা সমালোচনা জোরালো হচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রজাতন্ত্র বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেটওয়েট বলেছেন, আমাদের একজন নিজস্ব রাষ্ট্রপ্রধান থাকা উচিত। কারণ আমরা আর ব্রিটিশ নই। তিনি এই প্রথাকে হাস্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ রানীকে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের জায়গা থেকে সরানোর কথা উঠলেও এটি গণভোট ছাড়া সম্ভব নয়।


