এবার ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৮০০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ। এক আরএসএস সদস্যের অভিযোগের পর মসজিদটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এলাকাটিতে পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, আরএসএস-সংশ্লিষ্ট এক হিন্দু গোষ্ঠীর অভিযোগের পর বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত মহারাষ্ট্র রাজ্যের কর্তৃপক্ষ ৮০০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে। মসজিদটি মহারাষ্ট্রের জলগাঁওয়ে অবস্থিত।
স্থানীয় এক নাগরিক সম্প্রতি অভিযোগ করেন, মসজিদটি একটি হিন্দু উপাসনালয়ের ওপরে তৈরি করা হয়েছিল এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষের সেটি দখল করা উচিত। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, জুম্মা মসজিদ ট্রাস্ট জায়গাটি ‘অবৈধভাবে’ দখল করেছে। অভিযোগকারী কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল আরএসএস এবং বজরং দলের সদস্য।
এরপর অভিযোগের শুনানির সময় জেলা কালেক্টর আকস্মিকভাবেই মসজিদটিতে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন এবং মসজিদটিকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয় তহসিলদারকে মসজিদের দায়িত্ব নিতে বলেন।
৮০০ বছরের পুরোনো মসজিদটি উত্তর মহারাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত একটি সম্পত্তি।
দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, কালেক্টরের আদেশ এবং সেটি পাস করার ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে মুম্বাই হাইকোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চে। এরপরও জুম্মা মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য আসলাম আশঙ্কা করছেন, এই আদেশটি রাজ্যের আট শতাব্দী প্রাচীন মসজিদকে ঘিরে সাম্প্রদায়িকতার সূচনা করেছে।
জুম্মা মসজিদ ট্রাস্টের সদস্যরা বলেছেন, তারা গত জুন মাসে এ বিষয়ে একটি নোটিশ পান। তার আগে পর্যন্ত মসজিদ নিয়ে দাবি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
মসজিদের ট্রাস্ট কমিটির পাশাপাশি ওয়াকফ বোর্ড এবং আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকেও এ বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে মসজিদ ট্রাস্ট ইতোমধ্যেই ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়কার বিভিন্ন নথি নিয়ে আদালতে আবেদন করেছে। এসব নথির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া আদালতের নানা আদেশ এবং ব্রিটিশ ভারত সরকারের অনুমোদিত নানা নথিও রয়েছে।


