ইসরাইলের মাটিতে অভিযানের জন্য দুই বছর ধরে অত্যন্ত গোপনে প্রস্তুতি নিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। তবে ঘুনাক্ষওে তা টের পায়নি ইসাইলের গোয়েন্দারা। হামাস এই অভিযানের নাম দিয়েছে আল আকসা প্লাবন। ইহুদিবাদী দেশটি বলছে, এটি ইসরইলি নাইন ইলেভেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২১ সালের মে মাসে ইসরাইলি বাহিনী যখন মুসলিমদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদে অভিযান চালায়, এরপরই হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মাদ দেইফ এই অভিযানের পরিকল্পনা করতে শুরু করেন। গত শনিবার তাদের আকস্মিক অভিযানে ইসরাইলে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২০০ জনের লাশ পাওয়া গেছে।
একটি সূত্র বলছে, পবিত্র রমজান মাসে আল আকসায় মুসল্লিদের ওপর বর্বর হামলার ভিডিও দেখে হামাস ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইসরাইলের সেনারা শিশু থেকে বৃদ্ধ- সবাইকে আক্রমণ করে। ওই সময় ১১ দিন হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ চললেও ভেতরে ভেতরে ইসরাইলে ঢুকে বড় ধরণের অভিযানের পরিকল্পনা করতে থাকেন মোহাম্মাদ দেইফ। খুব গোপনে চলে এর প্রস্তুতি।
সাত বার ইসরাইলি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া মোহাম্মাদ দেইফ ২০০২ সাল থেকে হামাসের সামরিক শাখা আলকাসসাম ব্রিগেডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। তাকে খুব একটা জনসম্মুখে দেখা যায় না। এবারের অভিযানের পর তিনি একটি ভিডিও বিবৃতিতে বলেছেন, দখলদারিত্ব অবসানের লক্ষ্যেই এই অভিযান।
হামাসের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন
একটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবারের অভিযানের সিদ্ধান্ত হয় দুজন ব্যক্তির মাঝে, প্রথম জন মোহাম্মাদ দেইফ আর দ্বিতীয়জন গাজায় হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার। তবে সিনওয়ার শুধু বিষয়টি সম্পর্ক জানতেন, যাবতীয় পরিকল্পনা করেছেন দেইফ। হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের মাঝে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। সাধারণ যোদ্ধাদেরও জানতে দেয়া হয়নি এই পরিকল্পনা সম্পর্কে।
হামাসের সামরিক অভিযান
গোপনীয়তা এতটাই ছিলো যে, হামাসের শক্তি ও অর্থের অন্যতম উৎস ইরানকেও এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তেহরানকে শুধু বলা হয়েছিলো, বড় কিছুর পরিকল্পনা চলছে; কিন্তু সেটা কবে হবে সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। ইরানও যেটুকু জেনেছে সেটুকু অন্য কোন মিত্রপক্ষের সাথে আলোচনা করেনি। এসব কারণেই গোপন রাখা সম্ভব হয়েছে বিষয়টি।
হামাসের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বিষয়ক প্রধান আলী বারাকা রয়টার্সকে বলেন, আমরা এই যুদ্ধের জন্য দুই বছর ধরে খুব গোপনে প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি দিন দখলদার বাহিনী আমাদের গ্রাম ও শহরগুলোতে হামলা চালিয়েছে। হত্যা করেছে, নিপীড়ন করেছে। একই সময়ে হাজার হাজার একর জমি দখল করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে।


