ফিলিপাইনে আবার মার্কোস পরিবার

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ফার্ডিনান্ড মার্কোস জুনিয়র। তিনি সাবেক স্বৈরশাসক ফার্ডিনান্ড মার্কোস ও ফার্স্টলেডি ইমেলদা মার্কোসের ছেলে। সদ্য বিদায়ী আলোচিত প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতার্তের স্থলাভিষিক্ত হলেন মার্কোস জুনিয়র। দুতার্তের মেয়ে সারা দুতার্তে ইতিমধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কোস জুনিয়রের নির্বাচিত হওয়া রাজনীতিতে মার্কোস পরিবারের বিস্ময়কর পুনরুত্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৮৬ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ফার্ডিনান্ড মার্কোসের পতনের মধ্য দিয়ে ফিলিপাইনের রাজনীতি থেকে মার্কোস পরিবার বিদায় নিয়েছিল।

সাবেক স্বৈরশাসক ফার্ডিনান্ড মার্কোস দুই দশকের বেশি সময় দেশটি শাসন করেছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। তার শাসনামলে ফিলিপাইনে তিন হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ আছে। বাবার ক্ষমতাচ্যুতির সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট হলেন মার্কোস জুনিয়র।

ফার্ডিন্যান্ড মার্কোসের পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়ার অভিযোগ আছে। ফার্স্টলেডি ইমেলদা মার্কোসের বিলাসী জীবনযাপনও সময় বিশ^ মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলো। বলা হয়ে থাকে, তার জুতা, হাতব্যাগ আর অলঙ্কারের কালেকশন ছিলো বিশ^সেরা। এই পরিবারের বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি মামলা হয়েছিলো ফিলিপাইনে।

গত মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কোস জুনিয়র বড় ব্যবধানে জয় পান। প্রতিদ্বন্দ্বী লেনি রোব্রেদোর চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পান তিনি। ৬৪ বছর বয়সী মার্কোস জুনিয়র যখন দায়িত্ব নিচ্ছেন, তখনো দীর্ঘ মহামারি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশটি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কোসের পরিবার তাদের হারানো ইমেজ পুনরোদ্ধারে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। এছাড়া এখনাকার ভোটারদের বড় অংশই তার বাবার দুঃশাসন দেখেনি। গত দুই দশকে ফিলিপাইনের সরকারগুলোর ব্যর্থতাও জনগনকে আবার এই পরিবার মুখী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top