আফগানিস্তানের আজকের খবর

আফগানিস্তানের আয়তন কত । হিন্দু জনসংখ্যা । সব তথ্য

মধ্য এশিয়ার এক পাহাড়ি জনপদ আফগানিস্তান। যুদ্ধ বিগ্রহ আর অস্থিতিশীলতা দেশটির সমার্থক। পাহাড়ি রুক্ষ ভুমির দেশটিতে তাইতো অর্থনীতির প্রধান উৎস হয়েছে কৃষি। অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠির বাস আফগানিস্তানে। আবহাওয়া কখনো প্রচণ্ড শীতল আবার কখনো খুব গরম। আফগানিস্তানের আয়তন কত , দেশটির অর্থনীতি কেমন, দেশটির ইতিহাস কেমন চলুন সেসব জানি-

আফগানিস্তান এর জনসংখ্যা কত

আফগানিস্তানের জনসংখ্যাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন এক নজরে :

নাম :  ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান
রাজধানী : কাবুল
আয়তন : ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৪ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা : ৩ কোটি ১৪ লাখ (প্রায়)
জনসংখ্যার ঘনত্ব : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৮ জন।
জাতীয়তা : আফগান
অফিশিয়াল ভাষা : দারি ও পশতু
জাতিগোষ্ঠি : ৪২ শতাংশ পশতুন, ২৭ শতাংশ তাজিক, ৯ শতাংশ উজবেক, ৯ শতাংশ হাজারা, ৪ শতাংশ আইমাক, ৩ শতাংশ তুর্কমেন, ২ শতাংশ বালুচ ও বাকিরা অন্যান্য।
ধর্ম : প্রায় শতভাগ ইসলাম, অল্প কিছু ভিন্ন ধর্মাবলম্বী আছে।
মুদ্রা : আফগানি, ১ মার্কিন ডলার = ৭৫ আফগানি
শিক্ষার হার : পুরুষ ৬০ শতাংশ, নারী ৪০ শতাংশ

হিন্দুকুশ অঞ্চলের প্রাচীন জাতিগোষ্ঠি আসভাকান থেকে আফগান শব্দটির উদ্ভব বলে বেশির ভাগ গবেষকের ধারণা। আফগানিস্তান শব্দের অর্থ আফগানদের ভুমি বা দেশ। এক সময় আফগান বলতে শুধু পশতুন জাতির লোকদের বোঝানো হলেও বর্তমানে দেশটির সব নাগরিকই আফগান হিসেবে পরিচিত।

আফগানিস্তান
মানচিত্রে আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের আয়তন কত

মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত একটি ভূ বেষ্টিত দেশ আফগানিস্তান। অর্থাৎ দেশটির কোন সমুদ্র উপকূল নেই। দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণে পাকিস্তান, পশ্চিমে ইরান, উত্তরে তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান। আর উত্তর-পূর্ব দিকে আছে চীন। দেশটির মোট আয়তন ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৪ বর্গকিলোমিটার। আয়তনে বিশ্বে র ৪১ তম দেশ আফগানিস্তান। যা ফ্রান্সের চেয়ে কিছুটা বড় ও মিয়ানমারের চেয়ে ছোট। ১৮৯৩ সালে ডুরান্ড লাইন চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসিত ভারত উপমহাদেশের সাথে আফগানিস্তানের সীমান্ত নির্ধারিত হয়। যেটি বর্তমানে পাক-আফগান সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।

অন্তত ৫০ হাজার বছর আগে দেশটিতে মানববসতি স্থাপিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিকদের ধারণা। প্রাচীন কাল থেকে বহু রাজবংশের উত্থান হয়েছে আফগানিস্তানে। গ্রিকো-ব্যাকট্রিয়ানস, ইন্দো-সিথিয়ান, কুশান থেকে শুরু করে লোদি, মুঘল, দুররানি রাজবংশসহ অনেকে আফগানিস্তান থেকে স¤্রাজ্যের গোড়াপত্তন করে বিশে^র বিভিন্ন অঞ্চল শাসন করেছেন। দেশটির কাবুল, কুন্দুজ, হেরাত, গজনি, কান্দাহারের মতো শহরগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজবংশের রাজধানী ছিলো।

আফগানিস্তানের ইতিহাস

৬৪২ খ্রিস্টাব্দে আরব মুসলিমরা আফগানিস্তানের হেরাত ও জারাঞ্জ জয় করে। মুসলিমদের আগমনের আগে অঞ্চলটির মানুষেরা বৌদ্ধ ও জরাস্তুবাদে বিশ্বাসী ছিলো। দশম শতাব্দীতে গজনভী শাসনের আওতায় আসে কাবুল। একাদশ শতাব্দীতে মাহমুদ গজনভী আশপাশের এলাকার হিন্দু শাসকদের পরাজিত করে পুরো অঞ্চল মুসলিম স¤্রাজ্যের অধীনে আনেন।

তার আমলেই গজনী শহরটি সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। সুলতান মাহমুদ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেন, যার ফলে বিজ্ঞানী আল বিরুনী, কবি ফেরদৌসির মতো পন্ডিত ব্যক্তিরা এই শহরটিকে কেন্দ্র করে তাদের জ্ঞানচর্চা চালাতে পেরেছিলেন নির্বিঘেœ।

১২১৯ সালে চেঙ্গিসখানের মোঙ্গল বাহিনী আফগানিস্তানের অনেক এলাকা দখলে নিলে কয়েক শতাব্দী সেখানে অমুসলিম শাসন চালু ছিলো। ষষ্ঠদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মুঘল স¤্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর কাবুল জয় করেন।
আফগানদের আধুনকি ইতিহাস সংগ্রাম আর লড়াইয়ের। কখনো বিদেশী শক্তির দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আবার কখনো বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছে দেশটিতে।

আফগানিস্তান সম্পর্কে ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন

উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব, বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ও একবিংশ শতাব্দীতে মার্কিনীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস আছে আফগানদের। এবং প্রতিটি পরাশক্তিকেই তারা দেশ থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে যুদ্ধ বিগ্রহের কারণেই দেশটির প্রচুর সংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ৩০ লাখের বেশি আফগান নাগরিক উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছে পাকিস্তান ও ইরানে। কেউ শৈশবে দেশ ছেড়েছেন, কারো বা জন্মই হয়েছে বিদেশের উদ্বাস্তু শিবিরে।

আফগানিস্তানের প্রদেশ কয়টি

মোট ৩৪টি প্রদেশ বিভক্ত দেশটি। আয়তনে সবচেয়ে বড় দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশ। আর সবচেয়ে বেশি ৫২ লাখ লোক বাস করে কাবুল প্রদেশে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে রাজধানী শহর কাবুল ও এর আশপাশের ১৫টি জেলা নিয়ে গঠিত কাবুল প্রদেশ। হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলের মাঝখানে একটি সরু উপত্যকায় গড়ে উঠেছে কাবুল শহরটি, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ হাজার ফুট উচু।

১৭৭৬ সালে আহমদ শাহ দূররানীর ছেলে তিমুর শাহের সময় কাবুল আফগাস্তিানের রাজধানী হয়। চারদিকে পাহাড় ঘেরা এক শহর কাবুল। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে কাবুল নদী। বেশ কয়েকটি সেতু নদীর দুই পাড়ের শহরকে যুক্ত করেছে। তবে শুষ্ক ও রুক্ষ আবহাওয়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই নদীতে পানি থাকে না।

কাবুলে আছে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা। বিভিন্ন রাজবংশের শাসনের কারণে শহরটির প্রাচীন স্থাপত্য নকশাও বৈচিত্রময়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কান্দাহার, হেরাত, মাজার-ই শরিফ, জালালাবাদ, কুন্দুজ।

ইতিহাসের বিখ্যাত খোরাশান অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে আফগানিস্তানের কিছু এলাকা। দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চল ছিলো খোরশানের অন্তর্ভূক্ত। খোরাশানের চারটি রাজধানীর মধ্যে দুটি- হেরাত ও বলখ বর্তমান আফগানিস্তানের মধ্যে পড়েছে।

আফগানিস্তানের সমাজ ও সংস্কৃতি

জাতিগত বৈচিত্রময় এক দেশ আফগানিস্তান। পশতুন, তাজিক, উজবেক, হাজারা, তুর্কমেন সহ বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠির লোক বাস করে দেশটিতে। এদের মধ্যে পশতুনরা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আছে ভাষাগত বৈচিত্র। অফিশিয়াল ভাষা দারি ও পশতু। দেশটির বেশিরভাগ মানুষ একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারে।

রাজধানী কাবুল এবং উত্তর ও উত্তর পশ্চিমে দারি ভাষার প্রচলন বেশি। ফার্সি ভাষার একটি আফগান সংস্করণ বলা চলে এই ভাষাটিকে। পশতুন বা পাঠান জাতির নিজস্ব ভাষা পশতু। তবে বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে দারি ভাষার প্রচলন বেশি হওয়ায় পাঠানদের প্রায় সবাই দারি ভাষা জানে।

যে কারণে এই ভাষায় কথা বলতে পারে দেশটির ৭৮ শতাংশ লোক। বহু শতাব্দী ধরে দেশটির রাজনীতিতে পাঠানরা প্রভাব বিস্তার করলেও পশতুর চেয়ে দারি ভাষা কিভাবে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেটি একটি রহস্য। সরকারি ও আমলাতান্ত্রিক কাজেও দারি ভাষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

আফগানিস্তান হিন্দু জনসংখ্যা

প্রায় শতভাগ মুসলিমের দেশটিতে আছে কিছু হিন্দু ও শিখ। সামান্য কিছু খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীও রয়েছে। কাবুল, জালালাবাদ, কান্দাহারের মতো বড় শহরগুলোতে তাদের বসবাস। দেশটিতে এক সময় হিন্দু জনগোষ্ঠির সংখ্যা বড় থাকলেও তা ক্রমশ কমেছে। এর একটি বড় কারণ ইসলাম ধর্ম ও ধর্মীয় শাসনের প্রভাব। এহসান সায়েগান নামের এক আফগান গবেষক আলজাজিরাকে বলেন, ১৯৭০ এর দশকে আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বী মিলে ৭ লাখের মতো লোক ছিলো। কিন্তু বর্তমানে তাদের সংখ্যা ৭ হাজারের কম হবে।

আফগানিস্তান হিন্দু জনসংখ্যা
একজন আফগান হিন্দু

দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ বিগ্রহ চলার কারণে দেশটিতে আদম শুমারি বা অন্য কোন পরিসংখ্যান ঠিকভাবে রক্ষা করা হয়নি। যে কারণে হিন্দু কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা আলজাজিরাকে জানান, শিখ ও হিন্দুদের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে। কাবুল, নানগারহার ও গজনীতে প্রধানত তাদের বসবাস।

সোভিয়েত পরবর্তী মুজাহেদিন শাসন ও গৃহযুদ্ধের সময় তাদের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া তালেবান শাসনকে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা। ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর হামিদ কারজাইয়ের শাসনামলে পরিস্থিতি আরো উন্নত হয়।

মুসলিমদের ৯০ শতাংশই হানাফি মাজহাবের অনুসারী। ঐতিহ্যগতভাবেই আফগানরা ধর্মপ্রাণ। ছোট বেলা থেকেই পারিবারিকভাবে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। মাদরাসা শিক্ষাও ব্যাপকভাবে প্রচলিত দেশটিতে।

আফগানিস্তান তালেবান

সোভিয়েত আগ্রাসন শেষ হওয়ার পর মুজাহিদিন আমলের গৃহযুদ্ধের মাঝেই তালেবানের জন্ম। মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর, মোহাম্মাদ ঘৌস, হাসান আখুন্দ, মোহাম্মাদ রব্বানি চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে নিজেদের মাঝে আলোচনা শুরু করেন।  তারা সবাই ছিলেন সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে সহযোদ্ধা এবং সবার বাড়িই ছিলো উরুগান প্রদেশে।

তারা কয়েকটি বিষয়ে একমত হন, যার মধ্যে ছিলো- দেশে স্থিতিশীলতা আনা, জনগনের হাত থেকে অস্ত্র ফিরিয়ে নেয়া, ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা চালু করা এবং ইসলামপন্থীদের আফগানিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা। সবাই মাদরাসার ছাত্র ছিলেন তাই সংগঠনের নাম হিসেবে তালিব বা তালেবান শব্দটি গৃহীত হয়।

১৯৯৪ এর গ্রীষ্মে কান্দাহারের কাছে সংগঠনটি গঠিত হয়। মোল্লা ওমর ছিলো প্রধান উদ্যোক্তা।  ৫০ জন মাদরাসা ছাত্রকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা তালেবান এক মাসের মধ্যে এই সংখ্যা ১৫ হাজারে পৌছায়।  সশস্ত্র সংগ্রামের শুরুতেই তালেবান মুখোমুখি দাড়ায় কান্দাহারের ওয়ারলর্ড বা যুদ্ধবাজ নেতাদের। তারা স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে শুরু করে। যে কারণে সাধারন মানুষ তালেবানকে পছন্দ করতে শুরু করে। তালেবানের এলাকাগুলোতে সন্ত্রাস, দুর্নীতি কমে আসায় তালেবানের প্রতি তাদের সমর্থন ক্রমেই জোরালো হয়।

ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা তালেবান ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে মাইওয়ান্দ থেকে কান্দাহার অভিমুখে আকস্মিক অভিযান শুরু করে। কান্দাহার নগরী ও এর আশপাশের এলাকা তালেবানের দখলে যায়। ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তালেবান নিয়ন্ত্রিত প্রদেশের সংখ্যা দাড়ায় ৩৪-এ।

তখন কাবুলের নিয়ন্ত্রন ছিলো আহমদ শাহ মাসুদের বাহিনীর কাছে। ওই সমাবেশ থেকে এদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে তালেবান। ১৯৯৬ এর আগস্টে জালালাবাদ দখল করে তারা। এরপর তারা শুরু করে কাবুল অভিযান।
ওই বছরই ২৬ সেপ্টেম্বর আহমদ শাহ মাসুদের বাহিনী কাবুল ছেড়ে পানশির উপত্যকায় চলে যায়। যার ফলে পরদিন তালেবানের কাবুল দখল সহজ হয়। দ্রুত সব সরকারি দফতরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান যোদ্ধারা।

আফগানিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কি

২০২১ সালে তালেবান সরকার গঠন করার পর থেকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। প্রধান মন্ত্রীর পদে আছেন মোল্লা হাসান আখুন্দ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের পুত্র মোল্লা ইয়াকুব। তিনি একই সাথে তালেবানের সামরিক প্রধান।

ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়া

অবস্থানগত দিক থেকে আফগানিস্তান পড়েছে এশিয়ার ক্রসরোডে, বাংলায় যেটিকে চৌরাস্তা বললেই সবচেয়ে ভালো বোঝানো যায়। অনেকে দেশটিকে হার্ট অব এশিয়া নামেও ডাকেন। দেশটির ভূপ্রকৃতিতে বৈচিত্র আছে। তবে বেশির ভাগই রুক্ষ ও পার্বত্য অঞ্চল। এমন অনেক পাহাড়ি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা রয়েছে যেখানে সহসা মানুষের পা পড়ে না। দেশটির প্রায় অর্ধেক এলাকার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার মিটার বা তারও চেয়ে উচুতে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত ২৪ হাজার ৫৮০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট নওশাক আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। পর্বতটি আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বে হিন্দুকুশ পর্বতমালার অংশ। এছাড়া রয়েছে পারোপামিসুস পর্বতমালা, সফেদ কোহ পর্বতমালা প্রভৃতি। সফেদ কোহ পর্বতামালার ভেতর দিয়েই চলে গেছে বিখ্যাত খাইবার গিরিপথ, যা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথ।

অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিগুলি দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থিত। কিছু নদী থাকলেও আফগানিস্তানের বেশির ভাগ এলাকা শুষ্ক। নদী উপত্যকা ও কিছু ভূগর্ভস্থ পানিবিশিষ্ট নিম্নভূমি ছাড়া অন্য কোথাও কৃষিকাজ হয় না বললেই চলে। মাত্র ১২ শতাংশ এলাকা পশু চারণযোগ্য। দেশটির মাত্র ১ শতাংশ এলাকা বনাঞ্চল- এগুলি মূলত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বনভূমি দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানে মূলত দুইটি ঋতু। গরম গ্রীষ্মকাল এবং অত্যন্ত শীতল শীতকাল। উত্তরের উপত্যকায় গ্রীষ্মে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। নি¤œ অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা বেশি থাকে। সেসব অঞ্চলে গ্রীষ্মের গড় তাপামত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কখনো সেটি ৪০ এর উপরে চলে যায়। আর পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে শীত আসে তীব্র ঠা-া নিয়ে। যেমন ওয়খান করিডোর এলাকায় জানুয়ারিতে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এমনকি একই দিনে তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্য ঘটতে পারে। বরফজমা ভোর থেকে দুপুরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠা বিচিত্র নয়। খুবই কম বৃষ্টিপাত হয় দেশটিতে।

আরো পড়ুন : 

ভারত আফগানিস্তান সম্পর্ক যুগে যুগে

আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা

যুদ্ধবিগ্রহ আর বিশৃঙ্খলার কারণে আফগানিস্তানের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রিজার্ভ আটকে দেয়ায় দেশটি নতুন তালেবান সরকার পরিস্থিতি শামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া বিদেশী আর্থিক সাহায্যও বন্ধ হয়ে গেছে দেশটিতে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমান খুবই কম। নিরাপত্তা সঙ্কটের কারণে বিদেশী বড় কোম্পানিগুলো দেশটিতে ব্যবসায় করতে আগ্রহী নয়। যে কারণে কৃষিই দেশটির অর্থনীতির মেরুদ-। পাবর্ত্য ও রুক্ষ হলেও প্রকৃতি উপযোগী কিছু কৃষি আছে আফগানিস্তানে। সবচেয়ে বেশি জন্মে ডালিম।

এছাড়া আঙ্গুরসহ আরো কয়েক ধরণের ফল চাষ হয় দেশটিতে। কর্মক্ষম মানুষদের ৪০ শতাংশই কৃষির সাথে জড়িত। সবচেয়ে দামী মশলা জাফরান উৎপাদিত হয় আফগানিস্তানে। বিশেষ করে হেরাত প্রদেশ জাফরান উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। অনেক কৃষকই আফিম চাষ বাদ দিয়ে জাফরান চাষের দিকে ঝুকছে ইদানিং। ২০১৯ সালে দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার কেজি জাফরান উৎপাদন হয়েছে।

আর কিছু এলাকায় আফিম চাষ হয় বলে জানা যায়। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী দেশটির ১৬ শতাংশ মানুষ আফিম চাষের সাথে জড়িত। বেশ কিছু মূল্যবান খনিজ সম্পদ আছে আফগানিস্তানে। তবে অস্থিতিশীলতার কারণে দেশটির খনি শিল্প প্রসার লাভ করতে পারেনি।

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন : আহমেদ স্টোর

১৭-০৮-২০২১

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top