তিউনিসিয়ার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে আফ্রিকান মানবাধিকার আদালতের শরানপন্ন হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রধান বিরোধী নেতা রশিদ ঘানুশি সহ দেশটিতে ২০ জনের বেশির ভিন্ন মতাবলম্বী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসবের নিন্দা জানালেও তাদের মুক্তি দেয়া হয়নি।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জুলাই মাসে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে এবং মন্ত্রী পরিষদকে বরখাস্ত করে উত্তর আফ্রিকার দেশটির সব ক্ষমতা নিজের হাতে নেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ। পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণও করায়ত্ব করেন তিনি।
দেশটিতে গত কিছুদিনে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে আন-নাহদা পার্টির প্রধান ও প্রেসিডেন্ট সাইদের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ৮১ বছর বয়সী রশিদ ঘানুশি। আন-নাহদা দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।
ঘানুশির কন্য ইয়ুশরা জানিয়েছেন, তানজানিয়ায় অবস্থিত আফ্রিকান কোর্ট অব হিউম্যান এন্ড পিপলস রাইটস এর দফতরে গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের পক্ষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আমরা এখানে আমাদের বাবা-মা’র জন্য ন্যায় বিচার চাইতে এসেছি, যারা তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করছেন।
ঘানুশি-কন্যা আরো বলেন, আশা করি আফ্রিকান আদালত এটি স্পষ্ট করবে যে, কাইস সাইদের পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বাধীনতা হরণ বিনা বিচারে পাড় পেয়ে যেতে পারে না। তাকে অচিরেই বিচারের মুখোমুখী করা হোক।
চলতি মাসের ১৫ তারিখে গ্রেফতারের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই রশিদ ঘানুশিকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেয় তিউনিসিয়ার একটি আদালত। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। অন্য গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন ধরণের মামলায় আসামী করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এসবের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট সাঈদ ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করতে চান।
গ্রেফতারকৃতদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত।


