সৌদি-হিজবুল্লাহ গোপন বৈঠক

সৌদি আরবের সাথে লেবাননের হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের গোপন বৈঠকের পরই ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিত্ব করেছে হিজবুল্লাহ। এরপর উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, পরস্পরকে চরম শত্রু জ্ঞান করা দুই পক্ষের মাঝে বৈঠকটি হয়েছে গত মার্চ মাসে। যেখানে সৌদি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছেন হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাশেম। ইয়েমেনের হুথিদের সাথে সম্পর্ক না রাখার যে দাবি এতদিন হিজবুল্লাহ করে এসেছিলো, এই খবরে তা মিথ্য প্রমাণিত হয়েছে। এই গোষ্ঠিটি হুথিদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেয় বলে অভিযোগ আছে।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হিজবুল্লাহর উপপ্রধান হুথিদের পক্ষ থেকে কতগুলো দাবি লিখিত আকারে তুলে ধরেন সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিলো ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদু রব্বু মানসুর হাদির পদত্যাগ। এছাড়া হোদেইদা বন্দর ও সানা বিমানবন্দরের অবরোধ তুলে নেয়া এবং বন্দী বিনিময়- যার মধ্যে ছিলো বাহরাইনসহ কয়েকটি আরব দেশে কিছু শিয়া কারাবন্দীর মুক্তির দাবি।

এই বৈঠকের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি সৌদি আরব কিংবা হিজবুল্লাহ।

বৈঠকের পরই প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদি পদত্যাগ করেন এবং একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের চাপেই তিনি ক্ষমতা ছাড়েন।

মিডল ইস্ট আই আরো জানিয়েছে, বাগদাদে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার গোপন বৈঠক থেকেই ইয়েমেন ইস্যুটি নিষ্পত্তির প্রস্তাব ওঠে। সে সময় সৌদি আরবকে হুথিদের সাথে বৈঠকে বসার পরামর্শ দেয় ইরান; কিন্তু সৌদি আরব হুথিদের স্বীকৃতি দেয়নি, যে কারণে তাদের সাথে বৈঠক করার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে।

এরপর ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয় হিজবুল্লাহর সাথে বৈঠকে বসতে। যার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব তাদের দাবিগুলো মেনে নেয় এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়।
এতদিন হুথিদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা দেয়ার অভিযোগ ইরান ও হিজবুল্লাহ অস্বীকার করলেও এই খবরের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top