সেনা না পাঠিয়েই তাইওয়ান দখল করবে চীন!

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাইওয়ান দখল করার জন্য দ্বীপটিতে সেনা পাঠানোর প্রয়োজন নেই চীনের। বরং পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেই তাদের শ্বাসরোধ করতে পারবে চীনা বাহিনী। বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন

তাইওয়ানের চারপাশে চীনের দ্বিতীয় দফায় সামরিক মহড়া শুরুর পর এই আশঙ্কা বেড়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে, তাইওয়ানকে এর মাধ্যমে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিতে পারে বেইজিং।

ন্যান্সি পেলোসির সফরের পরই তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীনের নৌ ও বিমান বাহিনী। এছাড়া মূল ভূখণ্ড থেকে ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়ে এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে সেনাবাহিনীর মিসাইল ইউনিট। যার ফলে চারপাশ থেকে ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে গেছে তাইওয়ান। এবং মহড়া চলাকালীন কোন বেসামরিক জাহাজ ও বিমান তাইওয়ানে প্রবেশ করতে পারেনি।

চীনের পিএলএ ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মেং জিয়াংকিং মনে করেন, যে ছয়টি স্পটে চীন মহড়া দিয়েছে তাতেই প্রমাণ হয় যে- বেইজিং চাইলেই তাইওয়ানের বন্দরগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারে। এবং কোন বিদেশী সহায়তা আসাও বন্ধ করে দিতে পারে।

এই বিশ্লেষক বলেন, এই ছয়টি পয়েন্টের মধ্যে একটি রেখা টানলেই বোঝা যাবে তাইওয়ান কিভাবে আটকা পড়েছে। এর বাইরে শুধুমাত্র দক্ষিণ চীন সাগর দিয়েই তাইওয়ানে বিদেশী সাহায্য আসতে পারবে; কিন্তু সেখানে ব্যবস্থা নিতে চীনের মিসাইলগুলোই যথেষ্ট।

অস্ট্রেলিয়ান আর্মির সাবেক জেনারেল মাইক রায়ান এক টুইটার পোস্টে বলেছেন, চীনের মহড়ার ছয়টি অবস্থানই বলে দেয় তারা তাইওয়ানকে ভয় দেখানোর জন্য কোন কৌশল নিচ্ছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের সাবেক কর্মকর্তা কাল শুস্টার সিএনএনকে বলেছেন, চীনের মহড়ার স্থানগুলো দেখে বোঝা যায়- তারা তাইওয়ানকে দখল করতে চাইলে আগে দ্বীপটিকে অবরুদ্ধে করবে এবং বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।

এই বিশ্লেষক মনে করেন, চারপাশ থেকে অবরোধ করে আর মিসাইল হামলা করেই তাইওয়ান দখল করতে পারবে চীন। তাদের তাইওয়ানের ভূখণ্ডে সেনা পাঠাতে হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top