হিন্দুত্ববাদীদের বয়কটের কারণে বলিউডে সুপার ফ্লপ হয়েছে আমির খানের সর্বশেষ ছবি লালা সিং চাড্ডা। বলা হচ্ছে, আমির খান মুসলিম অভিনেতা হওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে ক্ষেপেছে হিন্দুত্ববাদীরা- যারা বলিউডে মুসলিমদের আধিপত্য খর্ব করতে চায়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে টুইটারে বয়কটের প্রচারণা চালানো হয়। যে সব অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগই উচ্চবর্ণের হিন্দু ঘেঁষা বলে মনে করা হচ্ছে এবং এসব প্রচারণা ছিলো ইসলামভীতি মূলক। এসবের পেছনে বিজেপির সংযোগ ছিলো বলেও মনে করা হয়।
অনেকে বলছেন, ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আমির খানের পিকে সিনেমার জন্য তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। ধর্মের নামে কিভাবে মানুষকে শোষণ করা হয় সেটিই ছিলো পিকে সিনেমার বিষয়বস্তু। ছবিটি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়েছিলো; কিন্তু একটি শ্রেণি গল্পটিকে ভালোভাবে নেয়নি।
এছাড়া বিভিন্ন সময় ভারতে মুসলিমদের গণপিটুনি ও সাম্প্রদায়িক সংহিসতার বিষয়ে আমির খানের প্রতিবাদকেও এবার সামনে আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রচারণার অংশ হিসেবে। কেউ আমির খানকে হিন্দুবিদ্বেষী হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।
২২ থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটের লাল সিং চাড্ডা সিনেমাটি নিয়ে বলিউড বোদ্ধাদের বড় প্রত্যাশা ছিলো; কিন্তু ছবিটি ব্যবসায় সফল হয়নি। এমনকি খরচেও টাকাও উঠে আসেনি।
শিব সেনা হিন্দের জাতীয় প্রেসিডেন্ট ইশান্ত শর্মা আলজাজিরাকে জানান, ছবিটি মুক্তির দিন তার নেতৃত্বে একটি মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। দিল্লি, উত্তর প্রদেশসহ আরো অনেক জায়গায় এ ধরণের প্রতিবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিরোধ এই সিনেমার বিরুদ্ধে নয়, বরং আমির খানের বিরুদ্ধে।
হিন্দুরা সিনেমাটি দেখেনি বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়ার ভারতের শীর্ষস্থানীয় কিছু মিডিয়াও সিনেমাটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করেছে।
মুম্বাইয়ের নামকরা এক চলচ্চিত্র পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ছবির উদ্দেশ্য মুসলিমদের কণ্ঠরোধ করা। বলিউডে মুসলিমরা যে দাপটের সাথে বিচরণ করছে তাতে বিজেপি খুশি নয়। ভারতের ক্ষমতাসীন দলটি বলিউডকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলেও তিনি মনে করেন।


