কুয়েত

কুয়েতের টাকার মান

মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট একটি দেশ কুয়েত। তবে আয়তনে ছোট হলেও যেকোন বিবেচনায় উন্নত বিশ্বের কাতারে অবস্থান করছে দেশটি। যে কারণে কুয়েতকে বলা হয় পার্ল অব গালফ বা উপসাগরীয় মুক্তা। বিশ্ব রাজনীতির অনেকগুলো জটিল ইতিহাসের সাথেও জড়িয়ে আছে দেশটির নাম। ছোট দেশ হওয়ার কারণে একাধিকবার প্রতিবেশীদের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে দেশটি। তবে সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে দেশটি ঠিকই এগিয়ে গেছে সমৃদ্ধির পথে। এই লেখায় জানবো কুয়েতের রাজধানী, কুয়েতের টাকার মান সহ নানা দিক সম্পর্কে

কুয়েতের মুদ্রার নাম কি

আসুন জানি কুয়েত সম্পর্কে কিছু তথ্য।

কুয়েতের অফিশিয়াল নাম : স্টেট অব কুয়েত, রাজধানী : কুয়েত সিটি। দেশটি বৃটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ১৯ জুন, ১৯৬১ সালে। দেশটির আয়তন ১৭ হাজার ৮১৮ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৪৪ লাখ ২০ হাজার। জাতীয়তা : কুয়েতি, অফিশিয়াল ভাষা : আরবি, মুদ্রা : কুয়েতি দিনার। (কুয়েতের মুদ্রার মান নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে নিচের দিকে)।

ধর্ম : ৭৫ শতাংশ ইসলাম, ১৮ শতাংশ খ্রিস্টান, বাকিরা অন্যান্য, সরকার ব্যবস্থা : আধাগণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, পার্লামেন্ট : এক কক্ষ বিশিষ্ট, শিক্ষিতের হার : ৯৬ শতাংশ

কুয়েত ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা
কুয়েতের মুদ্রার নাম দিনার

কুয়েত কোন মহাদেশে অবস্থিত

মধ্যপ্রাচ্যের ছোট কিন্তু শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ কুয়েত। আয়তনের দিক থেকে দেশটি বাংলাদেশের আয়তনের ৮ ভাগের এক ভাগের চেয়েও কিছুটা ছোট। দুই বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরব ও ইরাক তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে কুয়েতকে। উত্তর ও পশ্চিমে ইরাক আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে সৌদি আরব। আর পূর্ব দিকে আছে পারস্য উপসাগর। মূল ভূখ-ের বাইরেও পারস্য উপসাগরের কয়েকটি ছোট দ্বীপ রয়েছে দেশটির অধীনে।

শুরুতে অঞ্চলটি ছিলো স্থানীয় শেখদেরর দ্বারা শাসিত। অষ্টদশ শতাব্দীতে আরবের বনি উতাব উপজাতীর লোকেরা কুয়েতে বসতি স্থাপন করে। তার আগে মূলত পারস্য উপসাগরের মৎসজীবী লোকদের বসবাস ছিলো সেখানে। ১৮৯০ এর দশকে তুরস্কের ওসমানীয় স¤্রাজ্যের সৈন্যরা দখল করতে পারে এমন ভয়ে কুয়েতের শাসক শেখ মুবারক আল সাবাহ ভারতীয় ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চান।

কুয়েত সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ভিডিওতে

ব্রিটিশরা তাদের নিরাপত্তা দেয় এবং এক চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশদের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয় কুয়েত। ১৯৬১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কুয়েত।

কুয়েতের রাজধানীর নাম কি

প্রাচীনকাল থেকেই কুয়েত ব্যবসায় বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত ছিলো। দক্ষিণ এশিয়ার সাথে আরব বিশ্বের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বাণিজ্য রুটের গুরুত্বপুর্ণ কেন্দ্র ছিলো কুয়েত সিটি। ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে কুয়েত নামে পারস্য উপসাগরের কোলঘেষে একটি শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল, সেই শহরটিই আজকের কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি। ধীরে ধীরে বন্দর নগরী হয়ে ওঠে সেটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বণিকদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে কুয়েত।

হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ভারত থেকে ওমান, সৌদি আরব হয়ে ইরাকের বাগদাদ পর্যন্ত বাণিজ্য রুটের অন্যতম একটি স্পট ছিল কুয়েত সিটি। এরপর সেই রুট বিস্তৃত হয় সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নগরী আলেপ্পো পর্যন্ত। গুরুত্ব আরো বেড়ে যায় কুয়েতের। সে সময় কুয়েতের জাহাজ তৈরির কারিগরা দ্রুত উন্নতি করতে থাকে। যে কারণে পারস্য উপসাগর হয়ে ভারত মাহাসরগর পর্যন্ত দাপটের সাথে ঘুড়ে বেড়াতে তাকে কুয়েতি জাহাজ।

বাণিজ্যের এই ধারা কুয়েত আজো ধরে রেখেছে। যে কারণে দেশটির মোট বাসিন্দার ৭০ শতাংশই বিদেশী। যারা চাকরি কিংবা ব্যবসায় বাণিজ্যের কারণে কুয়েতে বসবাস করেন। মাত্র ৩০ শতাংশ নাগরিকের শেকড় কুয়েতি। বিদেশীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে কুয়েতের জীবনযাত্রায় স্থানীয় আরর সংস্কৃতির পাশাপাশি বিদেশী সংস্কৃতির ছাপও দেখতে পাওয়া যায়। একদিকে ইসলামি ঐতিহ্য, অন্যদিকে ইউরোপ, আমেরিকার সংস্কৃতি পাশাপাশি অবস্থান করে দেশটিতে। কুয়েতের শাসন পদ্ধতির উদারতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

রাজধানী কুয়েত সিটি এখন বিশ্বের সমৃদ্ধ নগরীগুলোর একটি। সাজানো-গোছানে ঝকঝকে আর পরিপাটি এক নগরী কুয়েত সিটি। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী আর নান্দনিক সব স্থাপনা নগরীটিকে নিয়ে গেছে উন্নত বিশ্বের কাতারে। আধুনিকতা আর বিলাসিতার সব উপকরণই সেখানে আছে। তবে তা সত্ত্বেও কুয়েতিরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়ে সে সবে গা ভাসায়নি।

কুয়েত ১০০ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা

অনেকেই জানতে চান কুয়েতের টাকার মান কেমন সে বিষয়ে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যারা কাজের ভিসায় যেতে আগ্রহী তাদের কাছে বিষয়টি জরুরী। বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কুয়েতে রয়েছে। তারা কুয়েতের তেলক্ষেত্র ছাড়াও অবকাঠামো নির্মাণ ও সেবাখাতে নিয়োজিত রয়েছে।

এই আরব দেশটির মুদ্রা আন্তর্জাতিক বিনিময় বাজারে খুবই শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চেয়েও শক্তিশালী কুয়েতের দিনার। শুধু তাই নয় পুরো বিশ্বেই সবচেয়ে দামী মুদ্রা হচ্ছে কুয়েতি দিনার। এক দিনার সমান ১ হাজার ফিলস। অর্থাৎ বাংলাদেশের মতো ১০০ পয়সায় এক টাকা- এই হিসাব কুয়েতের মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মূ্ল্যমান বেশি হওয়ার কারণে কুয়েতি মুদ্রাকে ১ হাজার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার নাম ফিলস।

<yoastmark class=

কুয়েতের বাজারে সর্বোচ্চ ২০ দিনার থেকে ১০ দিনার, ৫ দিনার ও এক দিনারের কাগজের নোট রয়েছে। এছাড়াও কাগজের নোট আছে ২৫০ ও ৫০০ ফিলসের। বাজারে কয়েন আছে ৫, ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ ফিলসের।

কুয়েতের টাকার মান

আগেই বলেছি বিশ্ববাজারে সবচেয়ে দামী হচ্ছে কুয়েতের মুদ্রা। কুয়েতের এক দিনারে বর্তমানে (জুলাই ২০২৩) পাওয়া যাচ্ছে ৩.২৭ মার্কিন ডলার (৩৫৫টাকা)। সে হিসেবে ১০০ দিনারে পাওয়া যাবে ৩২৭ ডলারের কিছু বেশি।

বাংলাদেশি টাকার সাথে কুয়েতের বিনিময় হার ৩৫৫ টাকা প্রায়। অর্থাৎ কুয়েতের এক টাকায় বাংলাদেশের ৩৫৫ টাকা মিলবে (জুলাই ২০২৩)। সে হিসেবে কুয়েতের ১০০ টাকা সমান বাংলাদেশের ৩৫ হাজার ৪৯০ টাকা পাওয়া যাবে।

কুয়েতের মুদ্রার এই উচ্চমূল্যের কারণে দেশটিতে যেতে আগ্রহী অনেকে। বিশেষ করে দেশটির শ্রমবাজারে ঢুকতে সারা বিশ্বের মানুষেরই প্রবল আগ্রহ রয়েছে। টপিক : কুয়েতের টাকার মান

ইরাকের কুয়েত দখল

বাণিজ্যিক কারণে খ্যাত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর মতোই কুয়েতের অর্থনীতির প্রধান চালিকা তেল শিল্প। তেল রফতানি করে দেশটি তার বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্জন করে। জিডিপির অর্থেক ও সরকারের আয়ের ৯০ শতাংশ আসে তেল থেকে। আয়তনে ছোট্ট দেশ হলেও কুয়েতের ভূগর্ভের নিচে তেল মজুদের পরিমান ১০ হাজার ৪০০ কোটি ব্যারেল। যা সারা বিশ্বের তেল মজুদের ১০ শতাংশ প্রায়। দেশটির গড় তেল উৎপাদনের পরিমাণ ২৯ লাখ ব্যারেল।

বলা হয়ে থাকে, তেল শিল্পের ওপর ভাগ বসানোর লোভেই ১৯৯০ সালের আগস্টে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের সরকার কুয়েত দখল করে এবং দেশটিকে ইরাকের সাথে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। এ বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে তারা কুয়েতকে মুক্ত করতে সেনা অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশাল সামরিক জোটের অভিযানের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইরাকি বাহিনী। কিন্তু যাওয়ার আগে, ইরাকি সৈন্যরা বেশ কিছু তেলক্ষেত্রে আগুণ ধরিয়ে দিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুয়েত অবশ্য তেলনির্ভরতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কুয়েত ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি নামের একটি স্বার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করছে কুয়েত। জার্মানির মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিশ্বের অনেক নামী দামি প্রতিষ্ঠানে কুয়েতি বিনিয়োগ আছে।

কুয়েতের আবহাওয়া

কুয়েতের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ও রুক্ষ। পুরো দেশটিই অ্যারাবিয়ান ডেজার্টের মধ্যে অবস্থিত। দেশটিতে তাই বছরের বেশির ভাগ সময়ই গরম পড়ে। কুয়েতের গ্রীষ্মকাল সারা বিশ্বের মধ্যেই সবচেয়ে উত্তপ্ত মৌসুম। ২০১৬ সালে দেশটিতে সর্বোচ্চ ৫৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপামাত্র রেকর্ড করা হয়েছিল, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার রেকর্ড।

মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশটির গড় তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ওপরে। জুলাইতে যা পৌছে যায় ৪৫ ডিগ্রির আশপাশে। জুনের প্রচ- গরমের কারণেই দেশটি তার স্বাধীনতা দিবস ১৯ জুনের পরিবর্তে পালন করে ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের সময়টাতে গড় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির আশপাশে থাকে। এত উষ্ণতার দেশে আবার তুষারপাতেরও নজির আছে। মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রার রেকর্ডও আছে কুয়েতে। প্রায় সব সিজনেই মরু ঝড় হয়, তবে বৃষ্টিপাত হয় খুব কম।

কুয়েতের শাসন ব্যবস্থা

শাসন ব্যবস্থার দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই ব্যতিক্রম কুয়েত। দেশটিতে সাংবিধানিক রাজত্রন্ত্রের পাশাপাশি আধাগণতান্ত্রিক শাসন চালু রয়েছে। আমির দেশটি রাষ্ট্রপ্রধান, কুয়েতের বর্তমান আমির সাবহ আহমেদ আল সাবাহ। ২০০৬ সাল থেকে তিনি আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পরিবারটিই বহু বছর ধরে কুয়েত শাসন করে আসছে। পাশাপাশি রয়েছে একটি নির্বাচিত পার্লামেন্ট।

চার বছর পরপর জনগনের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন পার্লামেন্টের ৫০ জন এমপি। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন আমির। নির্বাহী ক্ষমতা থাকে সরকারের হাতে। পাশাপাশি সরকারের যে কোন কার্যক্রমে জবাবদিহিতা চাইতে পারে পার্লামেন্ট।

সব কিছুতেই আমিরের প্রত্যক্ষ কিংবা পারোক্ষ প্রভাব থাকলেও তুলনামূলক মধ্যপ্রাচ্যের অন্য যে কোন দেশের চেয়ে রাজনৈতিক দিক থেকেও অনেক বেশি উদার কুয়েত। নিয়মমত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও অবশ্য দেশটিতে স্বীকৃত কোন রাজনৈতিদ দল নেই। স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে হয় প্রার্থীদের।

রাজনীতির মতো সামাজিক অন্যন্য ক্ষেত্রেও কুয়েত অনেকটাই উদার। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম হলেও কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিচরণ ব্যাপক হারে দেশটিতে। ২০১৫ সালে আরব দেশগুলোর মধ্যে জেন্ডার বৈষম্য রোধের সূচকে সেরা দেশ নির্বাচিত হয়েছে কুয়েত। মুসলিম পারিবারিক আইন ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে শরীয়া আইন চালু নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার দিক থেকেও কুয়েত প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমে সরকার ও শাসক পরিবারের সমালোচনা করতে পারে, যদিও আমিরের সমালোচনা নিষিদ্ধ। দেশটিতে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ১৫টি।

কুয়েতের জীবনযাত্রা

রাষ্ট্রীয় এই উদার নীতির কারণেই কুয়েতের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাও কিছুটা নির্বিঘœ। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও রয়েছে নাগরিকদের। প্রায় সবারই বসবাস দরিদ্রসীমার ওপররে। জিডিপি পার ক্যাপিটার হিসেবে কুয়েত বিশ্বের সপ্তম ধনী দেশ। দেশটির মুদ্রা কুয়েতি দিনার বিশ্বের সবচেয়ে দামী মুদ্রা। বর্তমানে ১ কুয়েতি দিনার সমান বাংলাদেশের ২৭৮ টাকা।

আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকারগুলোর ক্ষেত্রে সরকার প্রচুর ভর্তুকি দেয় প্রতি বছর। কুয়েতে কোন নদী নেই, কিছু জলাশয় আছে যেগুলোকে বলা হয় ওয়াদি- সেগুলোতেও সারা বছর পানি থাকে না। তাই সুপেয় পানির চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি উদ্যোগে পারস্য উপসাগরের পানিকে লবনমুক্ত করা হয় দেশটিতে। যে কারণে দেশটিতে সুপেয় পানির দাম কোন কোন ক্ষেত্রে তেলের চেয়েও বেশি। ১৯৫১ সালে প্রথম পানি লবনমুক্ত করে ব্যবহার শুরু হয় কুয়েতে।

ছোট্ট দেশ হলেও প্রতি বছর প্রচুর বিদেশী পর্যটক কুয়েত ভ্রমণে যান। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকার ধনীদের কাছে নির্বিঘ্নে ছুটি কাটানোর ভালো জায়গা কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি। এর সৈকতগুলোতে- বিশেষ করে শীত ও বসন্তে প্রতিদিন ভীড় করেন পর্যটকরা। নগরীতেও দেখার মতো অনেকজায়গা আছে।

কুয়েত ন্যাশানাল মিউজিয়াম, গ্রান্ড মস্ক, সায়েন্টিফিক সেন্টার, কুয়েত টাওয়ারসহ দর্শনীয়স্থানের অভাব নেই। নিরিবিলিতে সময় কাটাতে অনেক পর্যটক ছুটে যান উপসাগরের বুকের ফাইলাকা দ্বীপে। ইরাকের আগ্রাসনের সময় দ্বীপটি অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। তবে এরপর ধীরে ধীরে সেটিকে আবার পর্যটনের নানা উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে। সৈকতে পারস্য উপসাগরের পানিতে সার্ফিং কিংবা গা ভেজাতে তাই আবার ঢল নামতে শুরু করে পর্যটকদের।

মরুভূমির মাঝে এক টুকরো রত্ন যেন কুয়েত। সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা আর শৃঙ্খলা থাকলে সমৃদ্ধির জন্য আয়তন যে কোন সমস্যা নয় তার বড় উদাহরণ কুয়েত। যে কারণে দেশটি বিশ্ব মাঝে স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে।

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন : আহমেদ স্টোর

২১-০৮-২০২০

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top