Hungary

হাঙ্গেরি কেমন দেশ

ইউরোপ মহাদেশের মধ্যখানে অবস্থিত হাঙ্গেরি । কিংবদন্তী ফুটবলার ফেরেঙ্ক পুসকাসের দেশ। ওসমানীয়, রোমান ও অস্ট্রিয় সম্রাজ্যসহ ইতিহাসের অনেক অধ্যায়ের স্বাক্ষী এই দেশটি। আধুনিক হাঙ্গেরি উন্নত দেশ হলেও ঠিক যেন ইউরোপীয় ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হতে পারেনি অনেক ক্ষেত্রে। ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সদস্য হলেও বিশ্ব রাজনীতিতে খুব বেশি প্রভাবও ফেলতে পারেনি দেশটি। হাঙ্গেরি কেমন দেশ সে সম্পর্কে জানাবো এই লেখায়

হাঙ্গেরি কোন মহাদেশে অবস্থিত

মধ্য ইউরোপের মাঝারি আয়তনের দেশ হাঙ্গেরি। বিশ্ব রাজনীতি বা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব না থাকায় দেশটি আমাদের অনেকের কাছেই অচেনা। চারদিকে ভূবেষ্টিত একটি দেশ, যাকে ইংরেজীতে বলা হয় ল্যান্ডলকড কান্ট্রি। হাঙ্গেরিকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও স্লোভেনিয়া। ইউরোপের বিখ্যাত দানিয়ুব নদী বয়ে গেছে দেশটির মাঝখান দিয়ে।

Hungary map
ইউরোপের মানচিত্রে হাঙ্গেরি

হাঙ্গেরিতে মানব বসতির ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো। ৩৫ খ্রিস্টাব্দে বা তারও বছর পঞ্চাশেক আগে দানিয়ুব নদীর দুই পাড় রোমান সম্রাজ্যের অধীনে আসে। পরবর্তীতে ওসমানীয়সহ ইউরোপের বিভিন্ন রাজবংশ দেশটি শাসন করেছে। দেশটির অনেক এলাকা ওসমানীয় সম্রাজ্যের অধীনে ছিলো দেড়শো বছরেরও বেশি সময়। আবার মধ্যযুগে স্থানীয় রাজাদের শাসনেও ছিলো দেশটি। আর এসব দখল, পুণর্দখলের মাঝখানে পড়ে দেশটির বাসিন্দাদের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অনেক যুদ্ধবিগ্রহ। শেষ দিকে দেশটি ছিলো অস্ট্রিয়ার সাথে যৌথভাবে গঠিত অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান রাষ্ট্র হিসেবে।

হাঙ্গেরি কেমন দেশ

মূলত প্রথম বিশ^যুদ্ধের পর হাঙ্গেরি একক পথচলা শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধেও দেশটি অনেক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। এবং যুদ্ধের পর অনেকদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছে দেশটির গণতান্ত্রিক পথচলা।

এককক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১০৬টিতে সরাসরি নির্বাচিত হন এমপিরা, বাকি ৯৩টি আসন প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দলগুলোর মাঝে ভাগ করা হয়। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সরকার পরিচালিত হয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। তার রয়েছে নির্বাহী ক্ষমতাও।

২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কট্টর ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবান। তার নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনেক বছর ধরে সরকার পরিচালনা করলেও দেশটির ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। ইউরোপ জুড়ে ডানপন্থার উত্থানের যে ধারা চলছে, সেটি হাঙ্গেরিতে বেশ জোরেশোরেই সক্রিয়। ২০১৫ সালের পর ইউরোপ জুড়ে অভিবাসী গ্রহণের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার ঘোর বিরোধী ছিলো ভিক্টর অরবানের সরকার। ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ও ২০০৭ সালে শেনজেন গ্রুপে যোগ দেয় দেশটি।

হাঙ্গেরির রাজধানীর নাম কি

এক নজরে : হাঙ্গেরি
অফিশিয়াল নাম : রিপাবলিক অব হাঙ্গেরি, রাজধানী : বুদাপেস্ট
প্রাজাতন্ত্র ঘোষণা : ২৩ অক্টোবর, ১৯৮৯, আয়তন : ৯৩ হাজার ৩০ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা : ৯৮ লক্ষ (প্রায়), জাতীয়তা : হাঙ্গেরিয়ান
ধর্ম : ৫৪ শতাংশ খ্রিস্টান, ১৮ শতাংশ ধর্মহীন, বাকিরা অন্যান্য
মুদ্রা : ফোরিন্ত, শাসনব্যবস্থা : সংসদীয় গণতন্ত্র, পার্লামেন্ট : এক কক্ষবিশিষ্ট
অফিশিয়াল ভাষা : হাঙ্গেরিয়ান, শিক্ষার হার : ৮৪ শতাংশ

হাঙ্গেরির অর্থনীতি

অর্থনৈতিক ভাবে মাঝারি মানের দেশ হাঙ্গেরি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহিলের হিসেবে বিশে^র ১৮৮টি দেশের মধ্যে হাঙ্গেরির অর্থনীতির আকারের দিক থেকে ৫৭তম। আর মাথাপিছু মোট জাতীয় উৎপাদনের হিসেবে দেশটির অবস্থান বিশে^ ৪৯তম। হাঙ্গেরির অর্থনীতি মূলত রফতানি নির্ভর। ২০১৫ সালে তারা রফতানি করেছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

Budapest
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট

তবে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ গ্রহণের দিক থেকে দেশটি ইউরোপের অনেক দেশের চেয়ে উদার। গাড়ি, ঔষধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য প্রযুক্তি পণ্য, রাসায়নিক, যন্ত্রাংশ দেশটির প্রধান প্রধান উৎপাদিত পণ্য। মধ্য ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনে দেশটি শীর্ষে অবস্থান করছে।

বিশেষ করে গত ২০ বছরে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ও পণ্য উৎপাদনে দেশটি ব্যাপক উন্নতি করেছে। গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও দেশটির অবদান কম নয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত ১২ জন হাঙ্গেরীয় বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভিটামিন সি এর আবিষ্কারক আলবার্ট গিয়র্গি। এছাড়া বিশে^র সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলনা রুবিকস কিউবের উদ্ভাবক এনরো রুবিকও একজন হাঙ্গেরীয়। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে সবচেয়ে বেশি মেডেল জেতা দেশগুলোর তালিকায় হাঙ্গেরির অবস্থান তিন নম্বরে।

হাঙ্গেরিতে উচ্চশিক্ষা

এই সেক্টরে হাঙ্গেরির অবদানের নেপথ্যে রয়েছে দেশটির উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা। বিশ্বের অনেকগুলো প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দেশটিতে অবস্থিত। ১৩৬৭ সালে স্থাপিত হয় দেশটির পেস ইউনিভার্সিটি। আরেকটি প্রাচীন শিক্ষা প্রািতষ্ঠান ওবুদা ইউনিভার্সিটি যেটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩৯৫ সালে। বিশে^র প্রথম প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছিল হাঙ্গেরিতেই।

এই প্রতিবেদনের ভিডিও দেখুন

১৭৩৫ খ্রিস্টাব্দে হাঙ্গেরির সেলমেকবানিয়া শহরে স্থাপিত সেই প্রতিষ্ঠানটিই পরে ইউনিভার্সিটি অব মিসকলক হিসেবে রূপ লাভ করে। এছাড়া বুদাপেস্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এন্ড ইকোনমিক্স বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে হাঙ্গেরিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ রয়েছে।

হাঙ্গেরি কাজের ভিসা

হাঙ্গেরি বেতন কত

এ ধরণের প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে এই লেখাটি আপনার জন্য নয়।

 

খাবার দাবারের বিষয়ে হাঙ্গেরির খ্যাতি আছে। দেশটির সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার গৌলাস। গোশত ও সবজি দিয়ে তৈরি এক ধরনের স্যুপ এটি। আর সব ধরনের খাবারে ব্যবহৃত হয় পাপরিকা নামের একটি কমন মশলা যেটি লাল রংয়ের ফল শুকিয়ে গুড়ো করে তৈরি করা হয়। হাঙ্গেরির আরেকটি বিখ্যাত জিনিস হচ্ছে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় ওয়াইন। বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন তৈরি হয় দেশটিতে। সেই মধ্যযুগেই ইউরোপসহ বিভিন্ন স¤্রাজ্যের শাসকরা পান করার জন্য ওয়ানই আমাদিন করতেন হাঙ্গেরি থেকে।

এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, হাঙ্গেরীর লোকেরা সাধারণ মদ বা অন্য কোন পানীয় গ্রহণের সময় পরস্পরের সাথে গ্লাস ঠুকতে পছন্দ করেন না। কারণ ১৮৪৯ সালে ১৩ জন হাঙ্গেরীয় বিদ্রোহীর মৃত্যুদ- কার্যকরের পর অস্ট্রিয়ার শাসকরা মদের গ্লাস ঠুকে আনন্দ করেছিল। যে কারণে এই সংস্কৃতিটিকে হাঙ্গেরীয়া নিজেদের ইতিহাসের দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে দেখে। তরুণ প্রজন্মের অনেকে অবশ্য এটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন।

পুসকাসের দেশ হাঙ্গেরি

দুই বার ফুটবল বিশ^কাপের ফাইনাল খেলেছে দেশটি। অলিম্পিক ফুটবলের শিরোপা জিতেছে তিন বার। দেশটির সাবেক ফুটবলার ফেরেঙ্ক পুসকাস বিশ^ ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। অলিম্পিক গেমসে সবচেয়ে বেশি পদক জেতা দেশের তালিকায় ১১ নম্বরে অবস্থান দেশটির। অবশ্য ধারবাহিকতার অভাবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সেই সফলতা এখন দেশটির সোনালী অতীত হয়েই আছে।

অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবে বড় শক্তি না হলেও হাঙ্গেরি সুন্দর দেশ। যে কারণে দেশটি প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক ভ্রমণ করেন। ইউরোপের সেরা টুরিস্ট ডেস্টিনেশনগুলোর তালিকায় হাঙ্গেরিকে রাখা হয়। ২০১৭ সালের এক হিসেবে দেখা গেছে, দেশটি ভ্রমণে গিয়েছে ১৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন বা এক কোটি ৫৮ লাখ পর্যটক। হাঙ্গেরিতে সাধারণত পর্যটকদের প্রথম পা পড়ে রাজধানী বুদাপেস্ট নগরীতে।

প্রাচীন এই নগরীতে বিশ^ ইতিহাসের অনেক স¤্রাজ্যের স¤্রাটদের পা পড়েছে। যে কারণে এখানে এখনো টিকে আছে অনেক স¤্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ। বুদাপেস্ট নগরীর মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ইউরোপের বিখ্যাত দানিয়ুব নদী।

নদীর দুই পাড়ে স্বগর্বে দাড়িয়ে আছে আজকের আধুনিক বুদাপেস্ট। এখন একটি নগরী হলেও নদীর দুই পাড়ে অবশ্য আগে দুটি শহর ছিলো। আরো স্পষ্ট করে বললে, দানিয়ুব নদীর দুই পাড়ের মোট তিনটি শহর মিলে ১৮৭৩ সালে গঠিত হয় বুদাপেস্ট। দানিয়ুব নদীর পশ্চিমা পাড়ে ছিলো বুদা আর ওবুদা নামের দুটি শহর এবং পূর্বপাশে ছিলো পেস্ট শহর। একত্রিতকরণের সময় এগুলো মিলে বুদাপেস্ট নামটি গৃহীত হয়। বুদাপেস্ট বসবাসের জন্য চমৎকার একটি নগরী। ঝকঝকে তকতকে নগরী আর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নগরীটিকে করেছে লোভনীয়। তুলনামূলক জীবনযাত্রার ব্যয়ও কম।

সৌন্দর্যের নগরী বুদাপেস্ট

বুদাপেস্টের সৌন্দর্যের বড় একটি উৎস দানিয়ুব নদী। নদীর ওপর গড়ে তোলা ফ্রিডম ব্রিজে দর্শনাথীদের ভীড় লেগেই থাকে। রিভারক্রুজে চড়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করেন অনেক পর্যটক। সন্ধ্যায় দুই পাড়ে জ¦লে ওঠে হাজারো রঙিন বাতি। যা সৃষ্টি করে সৌন্দর্যের অনন্য মুর্ছনা। নগরীর পেস্ট সাইডে দানিয়ুব নদীর পাড়ে ঘেষেঁ অবস্থিত হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট ভবন। চমৎকার নির্মাণশৈলির এই বিশাল ভবন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পার্লামেন্টের অধিবেশন না থাকলে ১৯০২ সালে নির্মিত ভবনটিতে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে গাইড ট্যুরের ব্যবস্থা।

এই নগরীতে আরো রয়েছে বুদা ক্যাসল, যা প্রাচীন হাঙ্গেরীয় স¤্রাজ্যের আরেক নিদর্শন। এটি ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। আরো আছে অনেকগুলো গরমপানির স্পা সেন্টার। হাঙ্গেরির স্পা সিস্টেম ইতিহাস বিখ্যাত। রাজধানী বুদাপেস্ট ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন স্থানে আছে এই স্পা। কেজথেলি শহরের বাইরে বিখাত উষ্ণ পানির লেক হেভিজ। মূলত সাতার প্রেমীদের জন্যই লেকটিতে কৃত্রিমভাবে গরমপানির ব্যবস্থা রাখা হয়। সারা বছর এখানে দর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই থাকে।

লেকের কথা বললে অবশ্য মধ্য ইউরোপের সবচেয়ে বড় লেক বালাটোনের প্রসঙ্গ আসবে। প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটারের লেকটি সবুজ আর সৌন্দর্যের আধার। এটি অবশ্য সাধারণ পানির লেক। যার দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি শহর। লেকের মাঝে একটি দ্বীপে গড়ে তোলা হয়েছে তিহানি নামের ছোট্ট কিন্তু অসম্ভব সুন্দর একটি পর্যটন শহর।

এর বাইরে আগতেলেক ন্যাশনাল পার্ক ও তার বিখ্যাত গুহা, বুদা হিলস, ভিসেগ্রাড রয়েল প্যালেস, পেস ক্যাথেড্রাল, এসারগোম ব্যাসেলিকা হাঙ্গেরির গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। আছে প্রাণী বৈচিত্রে ভরপুর কয়েকটি ন্যাশনাল পার্ক। আর আছে অনেগুলো জাদুঘর।

লেখকের ফেসবুক পেজে যুক্ত হতে লাইক দিন : আহমেদ

০৮-০২-২০২১

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top