আটলান্টিক মহাসাগরের ছবি

আটলান্টিক মহাসাগর

বিশ্বের ৫টি মহাসাগরের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম আটলান্টিক মহাসাগর । উত্তর থেকে দক্ষিণ দিক বরাবর পৃথিবীকে প্রধান দুটি অংশে বিভক্ত করেছে এই মহাসাগর। ইউরোপীয় ধারণা অনুযায় আটলান্টিকের পূর্ব পাড়ে রয়েছে পুরাতন পৃথিবী অর্থা, এশিয়া, আফ্রিকা আর ইউরোপ। আর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে নতুন পৃথিবী, অর্থা উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ (লাতিন) আমেরিকা মহাদেশ।

এই ধারণার কারণ হচ্ছে, একটা সময় পর্যন্ত ইউরোপীয়রা জানতোই না যে আমেরিকা নামের ভূখ-ও পৃথিবীতে আছে। ইউরোপীয় নাবিক কলম্বাস প্রথম আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কার করেন বলে বহুর প্রচলিত আছে। তবে ইতিহাসবিদদের মতে নর্সম্যানরাই প্রথম আটলান্টিক পাড়ি দেয়া মানুষ।

Atlantic ocean map
মানচিত্রে আটলান্টিক মহাসাগর

আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতা ও আয়তন

প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়ে আয়তন ও গভীরতা- দুদিক থেকেই এই মহাসাগর পিছিয়ে আছে। আটলান্টিক মহাসাগরের মোট আয়তন ৮ কোটি ৫১ লাখ ৩৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। বিশ্বের মোট উপরিভাগের (সারফেস) ২০ শতাংশ জুড়ে আছে এই মহাসাগর। আর বিশ্বের মোট জলসীমার ২৯ শতাংশ নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর।

আটলান্টিকের গড় গভীরতা ৩ হাজার ৬৪৬ মিটার বা ১১ হাজার ৯৬২ ফুট। এর সবচেয়ে গভীর জায়গাটির নাম পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ (খাড়ি), যেখানে গভীরতা ৮ হাজার ৩৭৬ মিটার বা ২৭ হাজার ৪৮০ ফুট।

আটলান্টিক মহাসাগরের রহস্য

আটলান্টিক একটি ইংরেজি এস আকৃতির মহাসাগর। এই মহাসাগরকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর। উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম প্রান্তে আছে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো প্রভৃতি দেশ। আর পূর্ব প্রান্তে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের মূলভূখণ্ড।

দক্ষিণ আটলান্টিকের পশ্চিমে আছে লাতিন আমেরিকা অর্থাৎ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে প্রভৃতি দেশ, আর এর বিপরীত পাড়ে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ। ব্রাজিল থেকে আফ্রিকার লাইবেরিয়া বা সিয়েরা লিওন- এই জায়গায় আটলান্টিকের প্রস্থ সবচেয়ে কম। আর সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পর্তুগাল থেকে মেক্সিকো এই জায়গায়।

আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে বিমানে কত সময় লাগে

এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেয়া সম্ভব নয়। কারণ আগেই বলেছি, এই মহাসাগরের প্রশস্ততা সব জায়গায় এক রকম নয়। তাই অঞ্চলভেদে সময়ের পাথক্য হতে পারে। আবার উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী ফ্লাইটের সময় কমবেশি হয়। উদাহরণ দিচ্ছি, আটলান্টিকের দুই পাড়ের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হচ্ছে লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক।

এই যাত্রায় বিমানে সময় লাগে ৮ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বা সামান্য কম বেশি। যেহেতু শহর দুটি আটলান্টিকের ঠিক পাড়ে অবস্থিত নয় তাই মহাসাগ পাড়ি দেয়ার পরও কিছু সময় স্থলভাগের ওপর দিয়ে উড়তে হয় বিমানকে।

সেক্ষেত্রে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার সময় ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। অর্থাৎ এই সময়টা বিমান সাগরের ওপর থাকে। আবার ব্রাজিল থেকে যদি লন্ডন যেতে হয় সেক্ষেত্রে কোনাকুটি আটলান্টিক পাড়ি দিতে ১৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগে বিমানে। ব্রাজিল থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে গেলে সাড়ে চার থেকে ৫ ঘণ্টায় যাওয়া যায়। তবে বিমানের ধরণ ও গতির ওপর সামান্য কমবেশি হতে পারে।

আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থানের নাম পুয়ের্তো রিকো ট্রেঞ্চ

টলান্টিক মহাসাগরের আশপাশে বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন নাম ধারণ করেছে যেমন ল্যাবরাডর সাগর, ক্যারিবীয় সাগর, মেক্সিকো উপসাগর, গিনি উপসাগর।

লেখকের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top