আফ্রিদি : বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় নাম। বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে এই নামটি জনপ্রিয়। এই নামটি প্রথম আলোচনায় আসে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির কারণে। এরপর আরেক তারকা শাহিন আফ্রিদি এখন ক্রিকেট বিশ্ব ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব কারণে এই নামটির ক্রেজ দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেকেই জানতে চান আফ্রিদি নামের অর্থ কি – আসলে আফ্রিদি কোন মানুষের নাম নয়। এটি একটি উপজাতীয় গোত্রের নাম। সে সম্পর্কেই বিস্তারিত বলবো এই লেখায়
আফ্রিদি নামের অর্থ কি
অনেকের মতে, আফ্রিদি শব্দটি পশতুন ভাষার একটি শব্দ। তবে শব্দটি আরবি থেকে পশতুন ভাষায় যোগ হয়েছে বলেও কেউ কেউ মেন করেন। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস তার বই পুস্তুকে আপারিতাই নামের একটি উপজাতীয় গোত্রের কথা উল্লেখ করেছেন যারা ইরান, আফগানিস্তানসহ মধ্য এশিয়ায় বসবাস করতো। পরবর্তীতে অন্য ইতিহাসবিদরা এই গোত্রটির সাথে আফ্রিদি উপজাতীর সংযোগ আছে বলে দাবি করেছেন।
আফ্রিদি উপজাতি
মূলত আফ্রিদিরা হচ্ছে পশতুন বা পাঠান জাতির একটি উপজাতি। পাঠানরা মূলত ইরানি জাতিগোষ্ঠির অন্তর্গত। তাদের বসবাস প্রধানত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায়। এর মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেই বেশি। আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ পাঠান। আর পাকিস্তানে তারা দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠি। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পাঠান। পাঠানদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই লেখাটি
আফ্রিদি উপজাতীর লোকদের বাস মূলত পকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। আধুনিক ইতিহাসে মুঘল সম্রাট বাবরের সময় তাদের সাহসীকতার কথা পাওয়া যায়। তখন তারা খাইবার পাস নিয়ন্ত্রণ করতো, যে গিরিখাদটি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের যোগাযোগের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মুঘল সম্রাটরা আফ্রিদিদের দমন করতে অনেক চেষ্টা করেও সফল হননি।
তারা যেমন সাহসী তেমনি কৌশলি আর শক্তিমান। ১৬৭০ এর দশকে দারিয়া খান আফ্রিদির নেতৃত্বে মুঘলদের বিরুদ্ধে তাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। পেশওয়ার ও কাবুলে তারা মুঘলদের দুটি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে যথাক্রমে ১৬৭২ ও ১৬৭৩ সালে।
এরপর ব্রিটিশ আমলে এবং পরবর্তীতে কাশ্মির যুদ্ধেও তাদের সাহসীকতা দেখা গেছে। বর্তমানে আফ্রিদিদের বেশিরভাগের বসবাস ডুরান্ড লাইনের আশপাশে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তটি ডুরান্ড লাইন হিসেবে পরিচিত। এই সীমান্ত রেখার কারণে আফ্রিদিরা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ভাগ হয়ে গেছে। বেশির ভাগই পড়েছে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে। যদিও তারা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত ভাবে এক। আাফ্রিদিদের মধ্যে আবার ৮টি উপগোত্র রয়েছে।
শহীদ আফ্রিদি ও শাহিন আফ্রিদি Shahid Afridi Shaheen Afridi
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এই দুই ক্রিকেটারের মাধ্যমে আফ্রিদি নামটি সারা দুনিয়ায় খ্যাতি পেয়েছে। শুরুতে ১৯৯০ এর দশকে অভিষেকের পর শহীদ আফ্রিদি বিশ্ব ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন প্রায় ২৫ বছর। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি হৈচৈ ফেলে দেন। এরপর হয়ে ওঠেন পুরো দস্তুর অলরাউন্ডার।
এরপর এখন দলটির সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি খেলছেন। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে খাইবার এজেন্সি এলাকায় শহীদ আফ্রিদির বাড়ি। আর শাহিন আফ্রিদির বাড়ি একই অঞ্চলের ছোট শহর লন্ডি কোটালে। দুজনে আবার শ্বশুর-জামাই। শহীদ আফ্রিদির বড় মেয়েকে বিয়ে করেছেন শাহিন আফ্রিদি।
শাহিন আফ্রিদির বড় ভাই রিয়াজ আফ্রিদিও পেস বোলার ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের হয়ে অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছেন এবং একটি টেস্ট ম্যাচও খেলেছেন। পাকিস্তানের আরেক পেসার ওমর গুলও আফ্রিদি উপজাতির মালাকদিন খেল গোত্রে জন্ম নিয়েছেন।
আফ্রিদিরা শারিরীকভাবে বেশ লম্বা ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। গায়ের রং ফর্সা ও চওড়া কাঁধ তাদের আরেক প্রধান বৈশিষ্ট। খুবই হাসিখুশি স্বভাবের হয়ে থাকেন। শহীদ আফ্রিদি, শাহিন আফ্রিদি কিংবা রিয়াজ আফ্রিদিকে যার চেনেন তারা সহজেই বুঝতে পারবেন আফ্রিদিদের চেহারা ও শারিরীক গঠন কেমন হয়ে থাকে। জাতি হিসেবে তারা সাহসী ও অতিথিপরায়ন।
লেখকের ফেসবুক পেজে যুক্ত হতে লাইক দিন : আহমেদ


