ইরান ইমেজ

ইরানের রাজধানীর নাম কি । ইরান সম্পর্কে সব তথ্য

ইরান IRAN

মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র অনারব দেশ ইরান । ইতিহাসের অতি দাপুটে পারস্য স¤্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল দেশটি। শেখ সাদি, রুমি, ফেরদৌসি, হাফিজ, ওমর খৈয়ামের জন্মভূমি ইরান। আর আধুনিক ইরান একই সাথে পরাশক্তি আর প্রতিবেশী দেশগুলোর বৈরীতার মুখে টিকে থাকা এক স্বাবলম্বী রাষ্ট্রের উদাহরণ। ধর্মীয় নেতাদের শাসনে থাকা দেশটি পশ্চিমা অবরোধে আর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করেও টিকে থাকার জন্য যেমন প্রশংসার দাবিদার, সেই সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ অনেক ইস্যুতে সমালোচনাও কুড়াচ্ছে। সব কিছু মিলে ইরান কেমন, ইরানের রাজধানীর নাম কি সেসব সেটি জানাবো এই লেখায়-

ইরানের আয়তন কত

রাষ্ট্রীয় নাম : ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান Islamic Republic of Iran । দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১ এপ্রিল, ১৯৭৯ সালে।
রাজধানীর নাম তেহরান, আর ইরানের আয়তন ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা : ৮ কোটি ৩১ লাখ ৮৪ হাজার।
অফিশিয়াল ভাষা : ফারসি, ধর্ম : ৯৯.৪ ইসলাম (প্রধানত শিয়া), জাতীয়তা : ইরানী
পার্লামেন্ট : দুই কক্ষ বিশিষ্ট, মুদ্রা : ইরানি রিয়াল, শিক্ষার হার : ৯০

ইরান কোন মহাদেশে অবস্থিত

এশিয়া মহাদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইরান। আয়তনে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বিশ্বে ১৭তম। দেশটির উত্তর-পশ্চিমে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর, উত্তর-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান আর পূর্বে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসগার। এই দুই সাগরের অপর পারে আছে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ইরান পিক
মানচিত্রে ইরান

প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইরান। ইতিহাসের বিখ্যাত দুটি সম্রাজ্য ছিলো রোমান ও পারস্য সম্রাজ্য। এই পারস্য সম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিলো ইরান। খ্রিস্টের জন্মের কয়েক হাজার বছর আগেই দেশটিতে এলামাইট রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আর আরব মুসলমানরা ইরানে আসে সপ্তম শতাব্দীতে। ইরান হয়ে ওঠে মুসলিম রাষ্ট্র। আর আধুনিক ইরানে ১৯৭৯ সালে পশ্চিমা মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক রেজা শাহ পাহলভির বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ থেকে সংঘটিত হয় বিপ্লব। রেজা শাহ দেশ ছেড়ে পালান, আর দেশে ফেরেন নির্বাসিত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

ইরানের শাসন ব্যবস্থা

ওই বিপ্লবের পর নতুন পথচলা শুরু হয় ইরানে। ঘোষণা করা হয় ইসলামি প্রজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। প্রবর্তন করা হয় নতুন সংবিধান। বিপ্লবের পর প্রবর্তিত নতুন সংবিধানে ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন একটি রুপ দেয়া হয়।

সেই শাসন ব্যবস্থায় একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো রয়েছে, সেখানে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিতও হন। তবে সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরে রয়েছেন একজন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। বর্তমানে দেশটির প্রধান ধর্মীয় নেতা সাইয়েদ আলী খামেনি। বিপ্লবের নেতা রুহুল্লা খামেনির পর তিনি ১৯৮৯ সালে এই দায়িত্বে আসেন।

ইরানের শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির প্রধান নীতি নির্ধারকও তিনি। সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ তিনি, একই সাথে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ও যুদ্ধ ঘোষণা কিংবা বন্ধ করার ক্ষমতাও তার হাতে। এছাড়া বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তার নিয়ন্ত্রণে।

প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মতো মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়া হয় সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন সাপেক্ষে। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও তিনিই প্রধান নীতি নির্ধারক। মোট কথা দেশটির যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্যই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা।

এছাড়া দেশটির নীতি নির্ধারনী পর্ষদ হিসেবে পরিচিত গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ১২ সদস্যের মধ্যে ছয় জনকে সরাসরি নিয়োগ দেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ধর্মীয় আইনে অভিজ্ঞ ছয়জন আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয় তার মাধ্যমে। বিচার বিভাগের প্রধানের প্রস্তাবনা থেকে কাউন্সিলের বাকি সদস্যদের মনোনীত করে পার্লামেন্ট মজলিশ। এই ছয়জন হয়ে থাকেন অন্যান্য আইনের বিষয়ে দক্ষ।

ইরানের নির্বাচন

যদিও বিচার বিভাগের প্রধানকেও নিয়োগ দেন ধর্মীয় নেতা। আর ধর্মীয় নেতাকে নিয়োগ কিংবা পদচ্যুত করার ক্ষমতা থাকে অ্যাসেম্বেলি অব এক্সপার্ট নামের একটি পরিষদের হাতে। তবে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কোন সিদ্ধান্তকে এই পরিষদ চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এমন নজির ইতিহাসে নেই।

প্রতি চার বছর পর পর ইরানে অনুষ্ঠিত হয় পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি থাকেন ৮ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদেরও পেতে হয় গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন। যেমন ২০০৫ সাল থেকে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০১৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থীই হতে পারেননি। গার্ডিয়ান কাউন্সিল তার প্রার্থীতা অনুমোদন করেনি।

আবার নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নিতে হয় সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন। যে কোন সময় প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন সর্বোচ্চ নেতা। তাই ইরানের শাসন ব্যবস্থায় আসলে সর্বোচ্চ নেতাই শেষ কথা। রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে থাকে তার প্রত্যাক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব।

ইরানের প্রেসিডেন্ট

পরপর দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেননা ইরানের প্রেসিডেন্ট। ২০১৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসান রুহানি। এখন চলছে তার দ্বিতীয় মেয়াদ। উদার ও সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হাসান রুহানির নেতৃত্বেই ৬ বিশ্বশক্তির সাথে পরমাণ চুক্তি করেছিল ইরান।

যেটিকে দেখা হয় আধুনিক ইরানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সফলতা হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ে করা ওই চুক্তির অধীনে পারমাণবিক কর্মসূচি বর্জন করে নিষেধাজ্ঞা থেকে বেড়িয়ে এসেছিল ইরান।

ইরানি মেয়েদের
কয়েকজন ইরানি তরুণী

 

নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছিল দেশটির সামনে; কিন্তু সেই সুদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই চুক্তি বাতিল করে দেন। যে কারণে আবার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বহাল হয় ইরানের ওপর। আবার সঙ্কটময় পথচলা শুরু হয় ইরানে।

পশ্চিমা দেশগুলো ছাড়াও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সাথেও সুসম্পর্ক নেই ইরানের। যে কারণে দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি। তবে এতসব বৈরীতা সত্ত্বেও যে ইরান মাথা উচু করে চলতে পারছে সেই অবাক করার মতো বিষয়।

ইরানের মুদ্রার নাম কি

দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকা তেল উৎপাদন। জ্বালানি উৎপাদনে যে দেশগুলো সুপার পাওয়ার আখ্যা পেয়েছে ইরান তার একটি। বিশ্বে তেল মজুদের দিক থেকে ইরানের অবস্থান চতুর্থ। তেল শিল্প থেকেই আসে ইরানের-অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অংশ। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশার মজুদ রয়েছে দেশটিতে। যার পরিমাণ ৩৩.৬ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার, বিশ্বে রাশিয়ার পর যা দ্বিতীয়।

ইরানের মুদ্রার নাম ইরানিয়ান রিয়াল। ৪০০ ইরানি রিয়াল সমান বাংলাদেশের এক টাকা। অন্যদিকে ৪২ হাজার ইরানি রিয়াল সমান এক মার্কিন ডলার।

ইরানের ৫০০০ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা

১২.৭৩ টাকা

তবে অর্থনীতিকে তেল নির্ভরতা থেকে বেড় করে আনতে ইরানের নেতৃবৃন্দ আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গাড়ি প্রস্তুত করছে ইরান। আছে পরিবহণ ও স্থাপনা নির্মাণ সামগ্রী, গৃহস্থলি সামগ্রীর বিশাল শিল্প। এছাড়া কৃষি বিশেষ করে মসলা উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি ইরান। সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান উৎপাদিত হয় ইরানে। এছাড়া হস্তশিল্প বিশেষ করে ইরানের কার্পেট বিশ্বে বিখ্যাত একটি পণ্য। বাহারি ডিজাইনের কার্পেট উৎপাদনে ইরানিদের জুড়ি নেই।

ইরানের সেনাবাহিনী

পশ্চিমাদের বৈরীতার মুখে ইরান যেমন অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে, তেমনিভাবে সামরিক খাতেও করেছে ব্যাপক উন্নতি। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলছে অনেক বছর ধরেই। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ভূপাতিত করেছে অনেকবার। পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ।

ইরানে প্রথাগত সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীর বাইরেও একটি বিশেষ বাহিনী রয়েছে যার নাম বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ইরান নিজেরাই ট্যাঙ্ক, আর্মার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন তৈরি করেছে। এমনিক সামরিক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ বিমানও বানাচ্ছে দেশটি। বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে সমৃদ্ধ ইরানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগার।

ইরানের রাজধানীর নাম কি

ইরানের রাজধানী ও সবচেয়ে বড় নগরী তেহরান। দেশটির শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুও তেহরান। কায়রো আর ইস্তাম্বুলের পর ওই অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল নগরীটির গোড়াপত্তন হয়েছিল অতি প্রাচীন যুগে। কাজার রাজবংশের শাসক আগা মোহাম্মাদ খান ১৭৮৬ সালে তেহরানে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। বর্তমানে তেহরানে বসবাস করে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ।

বর্হিবিশ্বের কাছে তেহরান মানেই আজাদী স্কয়ার ও আজাদী টাওয়ার। ইরানের শাসক রেজা শাহ পাহলভির সময়ে ১৯৭১ সালে এই টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ইরান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আড়াই হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে এই টাওয়ারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে তেহরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানও এটি। ৪৫ মিটার বা ১৪৮ ফুট উচু টাওয়ারটি সম্পূর্ণ মার্বেল পাথরের তৈরি। টাওয়ারের চারপাশে বিশার খোলা সবুজ চত্বর নিয়ে গঠিত আজাদী স্কয়ার।

এর কাছেই রয়েছে আজাদী কালচারাল কমপ্লেক্স ও একটি ভূগর্ভস্থ জাদুঘর। এছাড়াও গোলেস্তান প্যালেস, সাদাবাদ প্যালেস ও নিয়াভারন প্যালেস তেহরানের প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। আর আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন মিলাদ টাওয়ার ও তিয়াবাদ ব্রিজ দর্শণার্থীদের মুগ্ধ করে।

ইরানের চলচ্চিত্র শিল্প বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে শালীন ও সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে বেশ সফলতা দেখিয়েছে ইরান। ইরানি নির্মাতা আসগার ফরহাদির দুটি চলচ্চিত্র অস্কার পুরস্কার লাভ করেছে ২০১২ ও ২০১৬ সালে।

সব কিছু মিলে তাই অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্বেও এগিয়ে চলা এক দেশের নাম ইরান। টিকে থাকার লড়াই যাদের ক্রমেই স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে তুলছে। যে কারণে বিশ্বরাজনীতিতেও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠছে দেশটি।

ইরান ইরাক যুদ্ধ

১৯৮০ এর দশকে টানা আট বছর যুদ্ধ চলেছে দুই প্রতিবেশী দেশ ইরান ও ইরাকের মধ্যে। ৮০ সালের সেপ্টেম্বরে ওই যুদ্ধ শুরু হয়। ইরানে বিপ্লবের পর শিয়া আলেমদের নেতৃত্বে শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই সাদ্দাম হোসেনের ইরাকের সাথে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। ইরানি নেতারা প্রকাশ্যে সাদ্দামের সরকারকে উৎখাতের আহ্বান জানান। তারা ইরাকের শিয়া গ্রুপগুলোকে ইন্ধন দিতে থাকেন। যদিও সাদ্দাম ইরানের বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়ে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ছিলেন।

এরকম একটি সময়ে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারিক আজিজ আততায়ীদের হাতে নিহত হয়। এ জন্য ইরানি এজেন্টদের দায়ী করে সাদ্দাম হোসেনের সরকার।

সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ এক যোগে ইরানের কয়েকটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরাকি যুদ্ধবিমান। এরপর শুরু হয় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ। উভয় পক্ষের কয়েক লাখ সেনা নিহত ও নিখোঁজ হয়। দেশ দুটি অর্থনৈতিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে যুদ্ধের অবসান হয়। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় একেক পক্ষ জয় পেলেও চূড়ান্তভাবে এই যুদ্ধে কেউ জেতেনি।

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ স্টোর

২৬-০৭-২০২০

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top