রাশিয়ার সাথে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের অতীত ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও ইসলাম আর কমিউনিজমের বিপরীত নীতির কারণে সামগ্রিকভাবে এই সম্পর্ক কখনোই গাঢ় হয়নি। তবে গত দুই দশকে এই চিত্র পাল্টাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারিতা ও রাশিয়ার কমিউনিস্ট শাসন থেকে বের হয়ে আসার কারণে- মুসলিম বিশ্বের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম হয়েছে। দুই পক্ষই নিজ নিজ স্বার্থে কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে। সেসব নিয়েই এই লেখা:
২০০৫ সালে চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে এক বক্তৃতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়া ইসলামিক বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাষ্ট্র। রাশিয়ার স্বায়ত্বশাসিত প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টের অধিবেশনে একথা বলেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। কথাগুলো তিনি চেচনিয়ায় বলেছিলেন বলেই এর আলাদা তাৎপর্য খুজে পাওয়া যায়। কারণ চেচেন মুসলিমদের ওপর মস্কোর শাসকদের নির্যাতনের কলঙ্কজনক অতীতের কথা বিশ্ব মুসলিমরা কখনোই ভুলতে পারবে না।
আদর্শিক কারণেই মুসলিম বিশ্বের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা আজকের রাশিয়ার সম্পর্ক অতীতে ভালো ছিলো না। ১৯১৭ সালে দেশটিতে কমিউনিস্ট বিপ্লব হয়। এরপর সারা বিশ্বেই কমিউনিজম কায়েমের চেষ্টায় মেতে ওঠে সোভিয়েত শাসকরা। বিভিন্ন দেশে বামপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে শুরু করে তারা। যে কারণে মুসলিম বিশ্বের নাগরিকরা রাশিয়ার প্রতি কখনোই খুব একটা টান অনুভব করেনি। তার ওপর চেচেন মুসলিমদের ওপর রুশ বর্বরতা সারা বিশ্বের মুসলিমদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। যে কারণে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা কিংবা এশিয়া- কোথাও মুসলিমরা রাশিয়াকে ইতিবাচকভাবে নিতে পারেনি। আবার একই কারণে রুশরাও মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে খুব একটা আগ্রহী ছিলো না।

রাশিয়ার মুসলিম প্রদেশ
তবে রাশিয়ায় মুসলিমরা বসবাস করছে যুগযুগ ধরে। দেশটির বেশিরভাগ নাগরিক প্রধানত অর্থোডক্স খ্রিস্টান। তা সত্ত্বেও দেশটির কোন কোন অঞ্চলে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। পুরো ইউরোপ মহাদেশে যে পরিমান মুসলিম রয়েছে, তার সমান মুসলিম আছে রাশিয়ায়। কাউন্সিল অব দ্য মুফতি’স অব রাশিয়ার তথ্য মতে, রাশিয়া ফেডারেশনে ১৪৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ২৩ মিলিয়ন মুসলিম রয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, বর্তমান রাশিয়ান ফেডারেশনভূক্ত অঞ্চলগুলোতে ইসলামের আগমন ঘটেছিলো ৯২২ সালে। ওই সময় ভলগা বুলগার অঞ্চলের শাসক আয়দাই খান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। জানা যায়, আব্বাসীয় খলিফা মুক্তাদির তার কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন, যে দলে ছিলেন বিখ্যাত আরব দার্শনিক ও পর্যটক আহমেদ ইবনে ফাদলান। ধীরে ধীরে ওই এলাকার জনসংখ্যার বড় একটি অংশ ইসলামের ছায়াতলে আসে।
আরো পড়ুন :
রাশিয়া কেন পাকিস্তানের বন্ধু নয়
বঙ্গোপসাগর কোথায়, এর কৌশলগত গুরুত্ব কতখানি
স্থানীয় এক প্রাচীন উপখ্যানে বলা হয়েছে, ভলগা বুলগারের বাসিন্দারা ইসলাম গ্রহণে পর তারা কিয়েভের শাসক প্রথম ভ্লাদিমিরকে ইসলামের দাওয়াত পাঠায়। তবে ওয়াইন খেতে পারবেন না এই অজুহাতে ভ্লাদিমির সেই দাওয়াত গ্রহণ করেননি। তবে ক্রমেই রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। চেচনিয়া, দাগেস্তান, বাশকোরস্তান, তাতারস্তান- প্রভৃতি অঞ্চলে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
চলতি শতাব্দীর শুরু থেকেই রাশিয়ার সরকার মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে তৎপর হয়ে ওঠে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটন ও মস্কোর প্রভাব বিস্তারের যে লড়াই শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই রাশিয়া মুসলিম বিশ্বে নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে কাজ শুরু করে। ২০০৫ সালে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠক ওআইসির পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়া হয় রাশিয়াকে। মুসলিম প্রধান দেশগুলোর শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংগঠন ওআইসি, যার সদস্য সংখ্যা ৫৭।
সম্পর্ক উন্নতির শুরু
২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের নির্বাচনে জয় লাভের পর হামাসের একটি প্রতিনিধি দলকেও আমন্ত্রণ জানায় মস্কো। এর মাধ্যমে তারা ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্কটের মধ্যস্ততা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজেদের গ্রহ্যণযোগ্যতা আরো বাড়িয়ে তোলে। একই বছর রাশিয়া প্রতিষ্ঠা করে ‘গ্রুপ অব স্ট্রাটেজিক ভিশন : রাশিয়া-ইসলামিক ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি সংস্থা। ২০১৯ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার বাশকোরস্তান অঞ্চলের রাজধানী উফা নগরীতে এই সংস্থার এক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ২৭টি মুসলিম দেশের ৩৩জন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী।
মুসলিম জনগোষ্ঠির প্রতি রাশিয়ার নীতি কখনোই খুব বেশি ইতিবাচক ছিলো না। আর চেচনিয়ার রক্তাক্ত ইতিহাস তো রয়েছেই। তবু বিশ্ব পরিস্থিতির দাবি মেটাতে অনেক মুসলিম দেশ রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিশ্ব রাজনীতি কিংবা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতেই তারা রাশিয়ামুখী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য ও খামখেয়ালি আচরণের প্রতিবাদ করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তেমনই একটি দেশ তুরস্ক।
আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তানসহ অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের খামেখেয়ালি নীতির কারণে জনগনের মাঝে মার্কিনবিরোধী মানসিকতা গড়ে উঠেছে।
রাশিয়ার মুসলিমদের বড় অংশই তুর্কি বংশোদ্ভূত। যে কারণে রাশিয়া ও তুরস্ক- বরাবরই একে অন্যের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌছেছে। আর কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কে দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সারা বিশ্বেই সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কের একটি।
তুরস্ক রাশিয়া সম্পর্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্র ও ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুরস্ক গত এক দশকে রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ না পাওয়া, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি না করাসহ বেশ কিছু কারণে ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষুব্ধ আঙ্কারা। এক পর্যায়ে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কেনে। এরপর তেল-গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ অনেক ইস্যুতে সম্পর্ক জোরদার করেছে আঙ্কারা ও মস্কো। ভ্লাদিমির পুতিন ও রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ানের বন্ধুত্বও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বেশ আলোচিত একটি বিষয়।
রাশিয়াকে ওআইসির পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়ার পেছনে ভুমিকা ছিলো তুরস্কের। ওই সময় ওআইসির মহাসচিব ছিলেন তুরস্কের একমেলুদ্দিন ইহসানোগলু। তার আন্তরিকতার কারণেই রাশিয়া এই সুযোগ পায়। যদিও সিরিয়া, লিবিয়া বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটি বিপরীত অবস্থানে ছিলো। তবু তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি, বরং ক্রমশই ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ইরানকে সাথে নিয়ে দেশ দুটি সিরিয়ার শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কয়েক দফা সম্মেলন করেছে। ইরানের সাথেও রাশিয়ার সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখায় দেশটি রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
আরো পড়ুন :
সৌদি আরবকে যেভাবে বদলাতে চান এমবিএস
লেবাননকে নিয়ে সৌদি-ইরান রশি টানাটানি
অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আলজেরিয়ার পুরনো মিত্র হিসেবেই পরিচিত রাশিয়া। আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। যুদ্ধ চলাকালে গঠিত প্রভিশনাল সরকারকেও প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে তারা। এমনকি স্বাধীন দেশ হিসেবে আলজেরিয়া আত্মপ্রকাশ করার কয়েক মাস আগেই মস্কো তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কও স্থাপন করে।
মুসলিম বিশ্ব ও রাশিয়া
সম্পর্কের এই ধারা পরবর্তীতেও অব্যাহত থেকেছে। আর সব সেক্টরের মতো সামরিক খাতেও মস্কো ব্যাপক সহযোগিতা করেছ আলজেরিয়াকে। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দেশটি মস্কোর কাছ থেকে সামরিক সহযোগিতা পেয়েছে ১১ বিলিয়ন ডলারের। ১৯৯৩ সালের এক হিসেবে দেখা গেছে, আলজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র ভাণ্ডারের ৯০ শতাংশ অস্ত্রই সোভিয়েত ইউনিয়নের। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতেও আলজেরিয়াকে ব্যাপক সহযোগিতা করছে মস্কো।
মিসরের সাথেও রাশিয়ার সম্পর্ক বেশ গভীর। ২০২১ সালের শরুতে তারা রাশিয়া থেকে ৫টি সু-৩৫ ফাইটার জেটের একটি চালান গ্রহণ করেছে। এছাড়া আরো কিছু অস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে মিসর। জামাল আবদুল নাসেরের সময় থেকে মিসরের সাথে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিনিময় চলে আসছে। পাকিস্তানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বৃদ্ধির সুযোগে ইসলামাবাদের সাথেও ঘনিষ্ঠতা হয়েছে রাশিয়ার। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়াও চালিয়েছে। রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে গিয়ে অবশ্য ইমরান খানকে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারাতে হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
মুসলিম বিশ্বের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরবের সাথেও সম্পর্ক জোরদারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাশিয়া। সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ; কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নত করছে। ২০২১ সালের আগস্টে মস্কোর সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের একটি চুক্তি করেছে রিয়াদ।
গত তিন বছর ধরে মস্কো ও রিয়াদ সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা শুরু করেছে। এ সময় রাশিয়ার তৈরি সর্বাধূনিক অস্ত্র কেনার বিষয়ে সৌদি আরবের শাসকদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৭ সালে সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রথম সৌদি বাদশাহ হিসেবে মস্কো সফর করেন। ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের সাথেও পুতিনের সম্পর্ক ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

মার্কিন স্বেচ্ছাচারিতা
মুসলিম বিশ্বের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে ভুমিকা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির। সৌদি আরব ও মিসরের সাথে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা চুক্তিটি এমন একটি সময়ে হয়েছে, যার মাস খানেক আগেই সৌদি আরব, জর্দান, কুয়েত ও ইরাক থেকে ৮টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন। এছাড়া সৌদি আরব থেকে থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। যে কারণে রাশিয়ার সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক বৃদ্ধির পেছনে অনেকগুলো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।
রাশিয়া বরাবরই মুসলিম বিশ্ব বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে আসছে। পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলার প্রতিবাদও করেছে তারা। এছাড়া আফগানিস্তান, ইরান, পাকিস্তানসহ অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের খামেখেয়ালি নীতির কারণে জনগনের মাঝে মার্কিনবিরোধী মানসিকতা গড়ে উঠেছে। আর এই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে এসেছে রাশিয়া। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মুসলিম বিশ্বের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক জোরদারের পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে ৯/১১ ধরণের কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে চাওয়া। বিশেষ করে, উগ্রবাদীরা যাতে মস্কোর ওপর ক্ষিপ্ত না হয় সেটি নিশ্চিত করা।
আবার রাশিয়ার অনেকগুলো মুসলিম প্রতিবেশী দেশ রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতেও মুসলিম দেশগুলো ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর তাদের সাথে সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাই রাশিয়া মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে নিজের বাণিজ্যিক সুবিধা যেমন আদায় করতে চাইছে, তেমনি বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনসংখ্যার সমর্থন পাওয়ার আশাও রয়েছে।
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ স্টোর


