মোহাম্মাদ রিজওয়ান পিক

মোহাম্মাদ রিজওয়ান : ক্যারিয়ার ও পরিসংখ্যান

মোহাম্মাদ রিজওয়ান

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের পেশওয়ারে জন্ম মোহাম্মাদ রিজওয়ানের। তিনি একজন পাঠান বা পশতুন জাতিগোষ্ঠির সদস্য। ৬ ভাইভোনের সংসারে তিন ভাইয়ের মধ্যে রিজওয়ান দ্বিতীয়। ছোটবেলায় মহল্লায় টেপটেনিস ক্রিকেটার হিসেবে ভালোই নাম কুড়িয়েছিলেন। তারপর স্থানীয় ইসলামিয়া কলেজে তার আসল ক্রিকেটের হাতেখড়ি। এরপর খেলেছেন স্থানীয় শামা ক্লাবে। সেখান থেকে সুযোগ পান পেশোয়ার অনূর্ধ-১৯ দলে।

২০০৮-০৯ মৌসুমে পেশোয়ার দলের হয়েই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাতেখড়ি রিজওয়ানের। প্রথম সাত ইনিংসে ৫টি হাফ সেঞ্চুরি করে তাক লাগিয়ে দেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার মধ্যে আবার চারটি অপরাজিত ইনিংস। এক পর্যায়ে সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ বাসিত আলীর নজরে আসেন রিজওয়ান।

বাসিত আলী তাকে নর্দান গ্যাসপাইপ লাইন লিমিটেড দলে ডেকে নেন। শুরু হয় পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে পুরো দস্তুর পথচলা। ২০১৪-১৫ মৌসুমে দলটিকে কায়েদে আজম ট্রফির শিরোপা এনে দেন। ওই মৌসুমে তার খেলাই জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয়।

ধার্মিক মোহাম্মাদ রিজওয়ান

ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ধার্মিক ও সদা হাস্যজ্জল একজন মানুষ মোহাম্মাদ রিজওয়ান। খেলার অবসরে বা বিমান যাত্রায় তাকে প্রায়ই কোরআন কিংবা তসবি হাতে দেখা যায়। প্র্যাকটিসের ফাঁকে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের নামাজেও বেশিরভাগ সময় ইমামতি করেন তিনি। পাকিস্তান দলের ব্যাটিং কোচ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ম্যাথু হেইডেন একবার জানিয়েছেন, রিজওয়ান তাকে একটি কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ উপহার দিয়েছেন।

Mohammad Rizwan Quran
টিম বাসে কোরআন পড়ছেন মোহাম্মাদ রিজওয়ান

হেইডেন বলেন, রিজওয়ানকে ধর্মপালন করতে দেখে আমি তার সাথে প্রায়ই ইসলাম ধর্ম বিষয়ে কথা বলতাম। আমর আগ্রহ জন্মে ধর্মটি সম্পর্কে। এরপর সে আমাকে একটি কোরআন উপহার দেয়।

নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে স্থানীয় মসজিদে জুমার খুতবা দিতেও দেখা গেছে রিজওয়ানকে।

আন্তর্জাতিক অভিষেক

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ সফর করে পাকিস্তান দল। ওই সফরে অনভিজ্ঞ একটি দল পাঠায় তারা। সেই দলে জায়গা হয় রিজওয়ানের। ১৭ এপ্রিল অভিষেক ওয়ানডেতে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। একই সিরিজে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও অভিষেক হয় তার। সেটি ২৪ এপ্রিল।

এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, একই ম্যাচে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমানের।

রিজয়ান উইকেটকিপার ব্যাটার। ওই সময়ে পাকিস্তান দলে ছিলেন সরফরাজ আহমেদ, যিনিও  উইকেটকিপার। রিজওয়ানের অভিষেকের কিছুদিন পর সরফরাজ পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব পান। যে কারণে আন্তর্জাতিক অভিষেক যেমন কিছুটা দেরিতে হয়েছে, তেমনি অভিষেকের পরও শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত জায়গা হয়নি রিজওয়ানের। ২০১৭ সালের জানুয়ারির পর দীর্ঘ দুই বছর ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে।

পরে অবশ্য সরফরাজকে সরিয়ে নিজেই স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে দলে।  ২০১৯ সালে দলে ফিরেই নিজেকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়। দেখিয়েছেন সহজাত ব্যাটিং প্রতিভার চমক।

মোহাম্মাদ রিজওয়ান : যত রেকর্ড

২০১৯ সালের পর থেকে বাবর আজমের সাথে রিজওয়ানের চমৎকার একটি জুটি গড়ে ওঠে। পাকিস্তান দলের ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ হয়ে ওঠেন দুজন। টি-টোয়েন্ট আর ওয়ানডেতে দাপটের সাথে খেলতে থাকেন। তবে টি-টোয়েন্টিতেই তার কার্যকারিতে বেশি দেখা যায়। ঠাণ্ডা মাথায়ও যে এত সফলভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা যায় সেটি রিজওয়ান প্রমাণ করেছেন। কোন তাড়াহুড়ো নেই, কোন মারদাঙ্গা ক্রিকেট নেই, কিন্তু বলে বলে ঠিকই রান তুলে নেন। আর সুযোগ পেলেই চার ছক্কা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে (জানু-ডিসে.) সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখন রিজওয়ানের দখলে। আইরিশ তারকা পল স্টার্লিয়ের কাছ থেকে ২০২১ সালে রেকর্ডটি নিজের করে নেন রিজওয়ান। ওই বছর ২৯ ম্যাচে ২৬ ইনিংস ব্যাটিং করে রিজওয়ান ১ হাজার ৩২৬ রান করেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ভারতে সূর্যকুমার যাদব (১ হাজার ১৬৪ রান, ২০২২ সালে।) রেকর্ড বইয়ের তিন নম্বর স্থানটিও রিজওয়ানের দখলে ২৫ ইনিংসে ৯৯৬ রান, ২০২২ সালে।

Rizwan wife
৩ কন্যার পিতা রিজওয়ান। ছোট কন্যার জন্ম ২০২৩ এর জানুয়ারিতে

পরপর দুটি বছরে এত পরিমাণ টি-টোয়েন্টি রান তাকে র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকেই রাখে সব সময়।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ২ হাজার রানের রেকর্ডও রিজওয়ানের দখলে। বাবর আজমের সাথে যৌথভাবে তিনি এই রেকর্ডে এক নম্বরে। দুজনেই ২ হাজার রান করেছেন ৫২ ইনিংসে। তালিকার ৩ নম্বরে আছেন বিরাট কোহলি, ৫৬ ইনিংসে তিনি ২ হাজার রান করেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও দারুণ খেলছেন রিজওয়ান। পাকিস্তান সুপার লিগের দল মুলতান সুলতান্সের অধিনায়ক তিনি।

রিজওয়ানের পরিসংখ্যান

এই লেখা যখন লিখছি (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) তখন আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রিজওয়ান আছেন ২ নম্বরে। এক নম্বরে সূর্যকুমার যাদব। আর তিনে বাবর আজম। ওয়ানডে ও টেস্টের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতেই সবচেয়ে বেশি কার্যকারিত প্রমাণ করেছেন রিজওয়ান। নিচে তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দেয়া হলো।

[table id=13 /]

লেখকের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top