যুক্তরাষ্ট্রে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তত ৮২ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ফেডারেল, স্থানীয় ও বিচার বিভাগের বিভিন্ন পদে তারা জয়ী হন। মোট ২৫টি অঙ্গরাষ্ট্রে মুসলিমরা প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স ও জেটপ্যাক রিসোর্স সেন্টারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জিও নিউজ।
বেশিরভাগ মুসলিম প্রার্থী জয় পেয়েছেন ভার্জিনিয়া, জর্জিয়া ও টেক্সাস অঙ্গরাষ্ট্রে। নির্বাচিতদের মধ্যে ১৭ জন নতুন প্রার্থী ছিলেন। ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবের মতো কিছু আলোচিত ও জনপ্রিয় মুসলিম কংগ্রেসওম্যান তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে রিপাবলিকান প্রার্থী মুহাম্মদ ওজ বিজয়ী হতে পারলে তিনিই হতে প্রথম মুসলিম সিনেটর।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম এমপি যারা
আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে গত বারের দুই এমপি রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। সোমালী বংশোদ্ভ’ত ইলহান ওমর মার্কিন পার্লামেন্টের প্রথম হিজাবী এমপি। মিনেসোটা অঙ্গরাষ্ট্রের ফিফথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে। ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন ইলহান।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিবও বড় ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন মিশিগান অঙ্গরাষ্ট্রের নিজ আসন থেকে। এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিটি কাউন্সিল ও স্থানীয় শিক্ষা বোর্ড থেকে ইউএস হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলিমরা জিতেছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ৭১ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই সময় সেটিই ছিল রেকর্ড। এবার জিতেছে তার চেয়ে ১১ জন বেশি। এবার মোট বিজয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ৮২ জন।
এছাড়া বিভিন্ন স্টেটের আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাবিলা সাইদ। যার বয়স মাত্র ২৩ বছর। নাবিলা ইলিনয় অঙ্গরাষ্ট্রের আইনসভার সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ডেমোক্র্যাট দলের ব্যানারে। জয়ের পর টুইটারে নাবিলা জানিয়েছেন, এতদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন থেকে জিততে পেরে আমি ভীষণ খুশি। একই আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবদেল নাসের রশিদ।
জর্জিয়া অঙ্গরাষ্ট্রের আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী নেত্রী রুয়া রুম্মান। তবে হেরে গেছেন রিপাবলিকান দলের ব্যানারে সিনেটের নির্বাচন করা জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ড. মেহমেদ ওজ। সামান্য ব্যধানে তিনি পরাজিত হন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন ফেটারম্যানের কাছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাংলাদেশীদের জয়
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাজিমাত করেছেন চার বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী। জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, কানেকটিকাট স্টেট সিনেটর মো. মাসুদুর রহমান ভোটে জিতেছেন। তারা ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে হ্যাম্পশায়ার হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিজয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান আবুল খান।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০টিতে। আর রিপাবলিকান পার্টি হাতে গিয়েছে ৪৯টি আসনে। জর্জিয়ার নির্বাচনের ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই নূন্যতম ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় ওই অঙ্গরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফা ভোট হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর।
তবে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কাছাকাছি রয়েছে। সংবাদমাধ্যম বলছে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলেও নিম্নকক্ষ নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কারণ রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে এখন পর্যন্ত ২১১টি আসনে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে ২০৪টি আসনে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।


