বিল গেটস

বিল গেটস এর জীবনী : উক্তি, সম্পদের পরিমাণ

বিল গেটস এর জীবনী জানবো ; আসলে এই নামটি বললে আর কোন পরিচয়ের দরকার হয় না। স্কুল জীবনেই যাকে পেয়ে বসেছিল কম্পিউটারের নেশায়। সেই নেশাকেই শেষ পর্যন্ত পেশা বানিয়ে হয়ে গেছেন বিশ্বের সেরা ধনী। কোন নাটকীয়তা নেই যার উত্থানে। ধনী পরিবারে জন্ম, ভালো স্কুলে পড়ার কারণে শৈশবেই কম্পিউটারের সাথে পরিচয়। এরপর মেধা আর অধ্যবসায়ের সমন্বয় করে সাফল্যের সিড়ি বেয়ে তরতর করে উঠে যাওয়া; কিন্তু কেমন ছিলো বিল গেটসের শুরুর দিনগুলো, কিভাবে তিনি এলেন আজকের অবস্থান, কিংবা তার সম্পদই বা কত- সেসব নিয়েই আমাদের এই লেখা।

বিশ্বকে বদলে দিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে যে দু’একটি আবিষ্কার তার মধ্যে কম্পিউটার একটি। আর কম্পিউটার ব্যবহারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে মাইক্রোসফট। তাই তো আজকের দুনিয়ায় কম্পিউটার আর মাইক্রোসফট একে অপরের পরিপূরক। এক সময় কম্পিউটার ব্যবহার করতে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ হতে হতো; কিন্তু সেই অবস্থা থেকে বিশ্বকে মুক্তি দিয়েছে মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম।

যে সিস্টেম সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করেছে কম্পিউটারকে। আর এই পরিবর্তনের কারিগর বিল গেটস, তার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কর্পোরেশন আর তাদের তৈরি করা অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ।

হার্ভার্ড ড্রপআউট বলে বিল গেটসের একটি নেতিবাচক পরিচিতি আছে। অর্থাৎ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মোটিভেশনাল বক্তৃতায় এই কথাটি খুব প্রচলিত। যদিও কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। ঠিক নয়- কারণ বিল গেটস শৈশব থেকেই ছিলেন তুখোর মেধাবি।

হার্ভার্ডের গল্প

তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া একাডেমিক ব্যর্থতার কারণে নয়। গ্রাজুয়েশন কোর্সে স্থান পেয়েছিলেন জাতীয় মেধায়। হার্ভার্ডে ভর্তির আগে এসএটি টেস্টে ১৬০০ নম্বরের মধ্যে ১৫৯০ পেয়েছিলেন গেটস। কিন্তু দুই বছর হার্ভার্ডে পড়ার পরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। বাবার চাওয়া মতো আইনজীবি হওয়ার বদলে তাকে পেয়ে বসে কম্পিউটারের নেশা।

তাইতো বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছিলেন ব্যবসায় করার জন্য। শৈশব থেকেই যিনি বুদ হয়ে থাকতেন কম্পিউটারের নেশায়, স্কুল জীবনে কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই যার প্রোগ্রামিংয়ের সূচনা- সেই ছেলেটি যখন দেখলেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বিষয়টিকে পেশা হিসেবে নেয়ার সুযোগ আছে, তখন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন পর্যন্ত অপেক্ষা করেননি। বিল গেটস অবশ্য বিষয়টিকে দেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নেয়া হিসেবে।

তিনি বলেন, আমার পরিকল্পনা ছিলো উদ্যোগ যদি সফল না হয়, তবে আবার ফিরবো হার্ভার্ডে; কিন্তু তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। শুধু সামনেই চলেছেন পরের অনেকগুলো বছর। যা তাকে নিয়ে গেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর আসনে। একবার দুবার নয়, অনেকগুলো বছর তিনি থেকেছেন এই আসনে। টপিক : বিল গেটস এর জীবনী

বিল গেটস এর জীবনী

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় অঙ্গরাষ্ট্র ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরে স্বচ্ছল পরিবারের ১৯৫৫ সালে জন্ম উইলিয়াম হেনরি গেটসের। যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে উত্তর-পশ্চিম কোনায় অবস্থিত ওয়াশিংটন স্টেট। গেটসের বাবা ছিলেন আইনজীবী আর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে চাকরি করতেন মা। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মাঝে গেটস ছিলেন মেঝ। ১৩ বছর বয়সে লেকসাইড প্রেপ স্কুল নামের একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হন গেটস। সেখানেই তার কম্পিউটারের সাথে পরিচয়।

তখন কম্পিউটার ছিলো হাটি হাটি পা পর্যায়ের। লেকসাইড স্কুলে পড়তো অপেক্ষাকৃত ধনী পরিবারের সন্তানেরা। একবার শিক্ষার্থীদের মায়েদের নিয়ে গড়া মাদার্স ক্লাব চাঁদা তুলে স্কুলে একটি কম্পিউটার কিনে দেয়। গেটস তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তখন কম্পিউটার ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর একটি বস্তু। সে সময় মেইনফ্রেম কম্পিউটার থেকে সময় অর্থাৎ কম্পিউটার টাইম কিনে নিয়ে স্কুলে স্থাপিত টার্মিনালে কাজ করা যেত।

এটি বেশ ব্যায়বহুলও ছিল। সেই কম্পিউটারে গেটস তৈরি করে একটি টিক-ট্যাক-টো প্রোগ্রাম। শিশু-কিশোরদের কাছে যেটি কাটাকুটি খেলা নামে পরিচিত। মোট কথা গেটসকে আচ্ছন্ন করেছিল সেই মেশিনটি।

বিল গেটস এর প্রথম প্রোগ্রাম কোনটি

আর সব ছেলেরা যখন কিভাবে কম্পিউটার চালাতো হয় কিংবা গেম খেলতে হয় সেই চিন্তায় ব্যস্ত, গেটসের মাথায় মাথায় ভর করেছিল, এটি দিয়ে কিভাবে নতুন নতুন প্রোগ্রাম তৈরি করা যায় সেই চিন্তা। আর এটাই তাকে অন্যদের চেয়ে পৃথক করে গড়ে তুলেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ একবার তাকে দায়িত্ব দেয় ক্লাস শিডিউল কম্পিউটারাইজ করার। সেটি সফলভাবে করেন গেটস।

কম্পিউটার নিয়ে গেটসের এই খেলা চলতেই থাকে। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন একই স্কুলের ছাত্র পল অ্যালেনকে। নিজস্ব উদ্যোগে তারা সফটওয়ার নিয়ে কিছুদিন কাজ করেন কম্পিউটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমআইটিএসের সাথে। ১৯৭৫ সালে এমআইটিএস বাজারে আনে ইন্টেল ৮০৮০ সিপিইউ’র অ্যালটায়ার মাইক্রো কম্পিউটার। তখনই দুজনের মাথায় আসে নিজস্ব সফটওয়ার কোম্পানি খোলার। প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট। চলতে থাকে প্রোগ্রামিং।

১৯৮০ সালে বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম একক ব্যবহারের জন্য একটি কম্পিউটার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তৈরির জন্য মাইক্রোসফট দায়িত্ব পায়। বাজার থেকে কেনা একটি সফটওয়ারে কিছু পরিবর্তন এনে আইবিএমকে দেয়া হয়। আইবিএম সেটি ব্যবহারে সন্তুস্ট হয়। ১৯৮৫ সালটি ছিলো বিল গেটসের স্বপ্ন পূরণের বছর। ওই বছরের ২০ নভেম্বর মাইক্রোসফট বাজারে ছাড়ে প্রথম অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ওয়ান। কম্পিউটার দুনিয়া লুফে নেয় সেই সফটওয়ার।

মাইক্রোসফটে একই সাথে চলতে থাকে গেটসের সফটওয়ার ডেভলপমেন্ট ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম। দারুণ দক্ষতার সাথে কাজ চালাতে থাকেন তিনি ও অ্যালেন। প্রধান সফটওয়ার ডেভেলপার ও এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতে থাকেন গেটস।

পেশাদার ক্যারিয়ারে মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট, বোর্ড চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সফটওয়ার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেছেন। কখনো কখনো একসাথে কাজ করেছেন ২-৩টি পদেও। দিনে দিনে বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির কাজের পরিধি, সুনাম আর মূলধন। সেই সাথে সম্পদও বেড়েছে বিল গেটসের। হয়েছেন বিশ্বের সেরা ধনী।

বিল গেটস কত টাকার মালিক

উইন্ডোজ ওয়ান বাজারে ছাড়ার মাত্র ২ বছরের মাথায় বিলিয়নিয়রের তকমা পান গেটস। ১৯৮৭ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৪০০ ধনীর তালিকায় স্থান করে নেন। তখন তার সম্পত্তির পরিমান ১.২৫ বিলিয়ন অর্থাৎ ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার। নিজের চেষ্টায় বিলিয়নিয়ার হয়েছে এমন লোকদের মধ্যে তখন তার বয়স ছিলো সবচেয়ে কম। ১৯৯৫ সালে হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।

২০১৭ সাল পর্যন্ত মাত্র চার বছর শীর্ষ ধনীর তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন অন্য কেউ। বাকি বছরগুলো ছিলো বিল গেটসেরই দখলে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাকে ছাড়িয়ে যেন যুক্তরাষ্ট্রেরই আরেক ধনকুবের জেফ বেজোস। এরপর ২০১৯ সালে কিছুদিনের জন্য ফিরলেও সেরা ধনীর আসনটি আবার চলে যায় অ্যামাজন মালিকের দখলে।

২০২০ সালের জুলাই মাসে বিল গেটসের সম্পদের পরিমান ছিলো ১১ হাজার ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার। ততদিনে অবশ্য মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের কাজ থেকে নিজেকে সড়িয়ে নিয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালের শুরুতে তার মোট সম্পদের পরিমান ১০৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বিলিয়ন মানে একশো কোটি। সেরা ধনীদের তালিকায় বিলগেটসের অবস্থান চার নম্বরে।

বিল গেটস মেলিন্ডা গেটস

২০০৬ সালে মাইক্রোসফটের কিছু দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দেন গেটস। ২০০৮ সালে পুরোপুরি অবসরে যান তিনি। এরপর মনোযোগ দেন মানবসেবায়। প্রতিষ্ঠা করেন বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এরপর এই সংগঠনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাড়ানো শুরু করেন এই ধনকুবের। ব্যক্তিগত সম্পদের ৯৫ শতাংশই নিজের ও স্ত্রীর নামে গড়া এই ফাউন্ডেশনের নামে উইল করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। যা ব্যয় করা হবে বিশ্বব্যাপী মানবসেবায়।

তবে বিল গেটসের এই মানবসেবা অব্যাহত ছিলো তার মাইক্রোসফটে থাকার সময়েও। ২০০৭ সালেই তার দাতব্য কাজে ব্যয়ের পরিমান ছিলো দুই হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দারিদ্রবিমোচন খাতে ব্যয় করা হয় তার দান করা অর্থ। আরেক শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেটের সাথে যৌথভাবে কিছু দাতব্য কাজও শুরু করেছেন গেটস। দুই ধনকুবের মিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে গড়েছেন একটি দাতব্য তহবিল।

আবার ২১ শতকে যে মানুষগুলো এখনো ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছে তাদের জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, শিল্পী বনোর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছেন গেটস। তাদের নিয়ে একটি ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

বিল গেটস এর জীবন কাহিনী

ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যা আর এক পুত্র সন্তানের জনক বিল গেটসকে সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে গেছে প্রচণ্ড জেদ আর লেগে থাকার অভ্যাসই। কোন কাজে হাত দিলে সেটি শেষ না করা পর্যন্ত থামতেন না। নিয়মানুবর্তিতা ছিলো তার জীবনের প্রতিটি ধাপে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতোই গেটসের জন্য প্রতিদিনর রুটিন তৈরি করেন তার স্টাফরা এবং প্রতিটি মিনিট সেই নিয়মে ঘড়ি ধরে চলার অভ্যাস তার।

একটাই কথা, দিনে সময় তো মাত্র ২৪ ঘণ্টা, চাইলেই তো আর সেটিকে বাড়ানো যাবে না। সাফল্যের শীর্ষে উঠেও তাই এতটুকু ঢিলেমি তাকে কোনদিন স্পর্শ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শীর্ষ কর্মকর্তা থাকা অবস্থায়ও অফিস করেছেন ঘড়ি ধরে সাধারন কর্মীদের সাথে তাল মিলিয়ে। সাফল্য ভরা ক্যারিয়ারে বিল গেটস একটাই অতৃপ্তির কথা বলেছেন, সেটি হলো মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে অ্যান্ড্রয়েডের সাথে প্রতিযোগীতায় পেরে না ওঠা।

সাফল্য আর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জীবনে অসংখ্যা অ্যাওয়ার্ড, সম্মানসূচক ডিগ্রিসহ অনেক কিছুই অর্জন করেছেন একজন বিল গেটস। তবে সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন সম্ভবত মানুষের ভালোবাসা। কখনো কোন বিতর্ক তাকে ছুতে পারেনি। ব্যবসায়ী, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ হিসেবে যেমন সেরা ছিলেন- তেমনি অবসরের পর দাতব্য কার্যক্রমেও সেরা হয়ে আছেন এই কিংবদন্তী। জীবনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দিতে চান এই কাজেই। বিল গেটস এর জীবনী

বিল গেটস এর উক্তি

দিনে সময় তো মাত্র ২৪ ঘণ্টা, চাইলেই তো আর সেটিকে বাড়ানো যাবে না। তাই সবটাই কাজে লাগাতে হবে

আমি যখন ছোটো ছিলাম, তখন আমার অনেক অনেক স্বপ্ন ছিল। এ স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, কারণ আমার অনেক অনেক পড়ার সুযোগ ঘটেছিল।

আপনি গরীব হয়ে জন্ম নিলে সেটা  আপনার দোষ নয়, কিন্তু যদি গরীব থেকেই মারা যান, তবে সেটা আপনার দোষ।

সাফল্য একটি পরিপূর্ণ শিক্ষক। এটি স্মার্ট মানুষের চিন্তায় তারা কখনো ব্যর্থ হবে না এটি ঢুকিয়ে দেয়।

আমি ক্লাসে মাঝে মধ্যে ফেল করতাম, আমার এক বন্ধু ক্লাসে ফার্স্ট হতো। আমি মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান, আর আমার সেই বন্ধু মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ অফিসার।

আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন :  আহমেদ স্টোর

২১-০৭-২০২০

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top