বসনিয়া ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলের দেশ। অঞ্চলটি বলকান অঞ্চল নামেও পরিচিত। বসনিয়া মুসলিম প্রধান দেশ হলেও সেখানে সার্ব ও ক্রোয়াটদের দাপট আছে। দেশটির আছে মুসলি গণহত্যার করুণ ইতিহাস। বসনিয়ার রাজধানীর নাম কি সহ বস নিয়া বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেব এই লেখায়।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
সরকারি নাম : বসনিয়া এন্ড হারজেগোভিনা
রাজধানী : সারায়েভো
স্বাধীনতা লাভ : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫
আয়তন : ৫১ হাজার ১২৯ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্য : ৩৩ লাখ ১ হাজার
জাতীয়তা : বসনিয়ান, হারজেগোভিনান
অফিশিয়াল ভাষা : বসনিয়ান, সার্বিয়ান, ক্রোয়েশিয়ান
মুদ্রা : মার্ক
ধর্ম : মুসলিম ৫১ শতাংশ, খ্রিস্টান ৪৬ শতাংশ
সরকার ব্যবস্থা : ফেডারেল পার্লামেন্টারি
পার্লামেন্ট : দুই কক্ষ বিশিষ্ট

বসনিয়া কোন মহাদেশে
দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপ- যেটি বলকান অঞ্চল নামের পরিচিত সেখানকার একটি মুসলিম প্রধান দেশ বসনিয়া ও হারজেগোভিনা। পূর্বে সার্বিয়া, দক্ষিণে মন্টেনিগ্রো, উত্তর ও পশ্চিমে ক্রোয়েশিয়া। প্রায় ভূবেষ্টিত দেশটির ২০ কিলোমিটারের ছোট উপকূল আছে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে আড্রিয়াটিক সাগরে। দেশটি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত। উত্তরাঞ্চলটি বসনিয়া ও দক্ষিণাঞ্চলটি হারজেগোভিনা। তবে দুই অঞ্চলের মধ্যে কোন স্থায়ী সুনির্দিষ্ট সীমানা নেই, আছে সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শগত পার্থক্য। বসনিয়া অঞ্চলটি আয়তনে বড়, দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮১ শতাংশ জুড়ে।
পুরো দেশটি প্রধানত পার্বত্য অঞ্চল। মধ্যাঞ্চলে আছে কিছু সমভূমি। আছে প্রচুর বনভূমি। দেশটির মোট ভূখণ্ডের ৫০ শতাংশ বনভুমি। যা প্রধানত পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত।
বসনিয়ার ইতিহাস
প্রাচীনকাল থেকেই মানব বসতি আছে ভূখণ্ডটিতে। তবে জায়গাটির শাসন বা নিয়ন্ত্রণ অনেকবার হাতবদল হয়েছে। ৬ষ্ঠ থেকে নবম দশকে ছিলো স্লাভিকদের নিয়ন্ত্রণে। দ্বাদ্বশ শতকে প্রতিষ্ঠিত বেনেট অব বসনিয়া ও পরবর্তীতে কিংডম অব বসনিয়া নামের রাজ্য, স্থানীয়দ্বের দ্বারা শাসিত হলেও হাঙ্গেরী ভূখণ্ডটিকে নিজেদের বলে দাবি করতো।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে অঞ্চলটি আসে তুরস্কের ওসমানীয় খিলাফাতের অধীনে। ওসমানীয়রাই এখানে ইসলাম নিয়ে আসে। প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ভাবেও আসে অনেক পরিবর্তন। তিনশ বছর ওসমানীয় শাসনের আমলে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করার ফলে দেশটি মুসলিম প্রধান হয়ে ওঠে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বসনিয়া যুক্ত হয় যুগোশ্লাভিয়ার সাথে। ১৯৯২ সালে যুগোশ্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর বসনিয়ায় স্বাধীতনার দাবি জোড়ালো হয়।
https://youtu.be/2mDc75ExetI
বসনিয়ার যুদ্ধ
কিন্তু সার্বিয়া দেশটিকে নিজেদের অধীনে রাখতে শুরু করে যুদ্ধ। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত ভয়াবহ যুদ্ধটি বসনিয়া যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সৈন্য এবং তাদের মদদপুষ্ট স্থানীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতাকামী বসনিয়াক বাহিনী।
যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এই ভূখণ্ডটি স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করে। তাতে বেশিরভাগ জনগন গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলেও সার্ব জাতির লোকেরা তা প্রত্যাখান করে। তারা চায় প্রতিবেশী সার্বিয়ার সাথে যুক্ত হতে। এরপর অঞ্চলটি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে অনেক দেশ স্বীকৃতিও দেয়; কিন্তু সার্বিয়া সেখানে সেনা পাঠায়। আরো আসে যুগোস্লাভ পিপলস আর্মি। তারা সাধারণ বসনিয়াকদের ওপর শুরু করে গণহত্যা। শুরুতে ক্রোয়াটরা স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও এক বছর পরে তারাও বসনিয়াকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শুরু করে। তবে কিছুদিন পর এক চুক্তির পর তারা আবার বসনিয়াকদের সাথে সমঝোতা করে।
মূলত ফেডারেশন অব বসনিয়া ও রিপাবলিকা স্রাবস্কার মধ্যে লড়াই চলে। তবে স্রাবস্কার হয়ে লড়াই করে সার্বিয়ার সেনাবাহিনী। ওই যুদ্ধে সার্বদের নৃশংসতা ছিলো ভয়াবহ। তারা মুসলিম নিধনের উৎসবে মেতে ওঠে। সার্বদের গণহত্যার ভয়াবহতা দেখে মুসলিম বিশ্ব থেকে বসনিয়াকদের সহযোগিতা করা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে জাতিসঙ্ঘ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাকিস্তান সেখানে ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল সহ প্রচুর অস্ত্র পাঠাতে থাকে। তারা বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিম যোদ্ধা সংগ্রহ করেও সেখানে পাঠায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল জাভেদ নাসির পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন যে, দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সেখানে গোপনে ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল পাঠিয়েছে। এই অস্ত্রগুলোই সার্ব বাহিনীকে দুর্বল করেছে।
১৯৯৫ সালে ন্যাটো ওই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে এবং সার্ব বাহিনীর অবস্থানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। এতে বসনিয়ার জয় ত্বরান্বিত হয়। তিন বছরের যুদ্ধ আর মুসলিমদের ওপর সার্বদের গণহত্যার নির্মম ইতিহাস পার হয়ে অবশেষে ১৯৯৫ সালে ডেটন চুক্তির মাধ্যমে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।
বসনিয়া কি মুসলিম দেশ
বসনিয়ায় প্রধানত তিনটি জাতির লোকদের বসবাস- বসনিয়াক, সার্ব ও ক্রোয়াট। মোট জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের কিছু বেশি বসনিয়াক বা বসনীয়। ৩০ শতাংশ সার্ব ও ১৬ শতাংশ ক্রোয়াট আছে দেশটিতে। তিন জাতির লোকদের আছে আলাদা বৈশিষ্ট ও আলাদা সংস্কৃতি। সার্ব ও ক্রোয়াটদের মাঝে প্রতিবেশী দুই দেশ সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার প্রভাব বিদ্যমান। আর বসনিয়াকদের বেশিরভাগই মুসলিম। তাদের সংস্কৃতি মূলত ইসলাম ও ওসমানীয় যুগের সমাবেশ।
জাতিগত এই বৈশিষ্টের কারণে বসনিয়ার শাসন ব্যবস্থাও জটিল আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে আছে দুটি পূর্ণ সায়ত্বশাসিত অঞ্চল। বসনিয়াক অধ্যুষিত অঞ্চলটির নাম ফেডারেশন অব বসনিয়া এন্ড হারজেগোভিনা। ক্রোয়াটদেরও বেশিরভাগের বাস এই অঞ্চলে। সারায়েভো শহরটি দেশের রাজধানীর পাশাপাশি এই অঞ্চলটিরও রাজধানী।
আর সার্ব অধ্যুষিত অঞ্চলটির নাম রিপাবলিকা স্রাবসকা। যার রাজধানী বানজা লুকা শহরে। রিপাবলিকা স্রাবস্কা শব্দের অর্থ সার্বিয়ান রিপাবলিক। এটি প্রধানত দুটি খণ্ডে বিভক্ত উত্তর পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে। শুধু পৃথক রাজধানীই নয়, দুই অংশের আলাদা সরকার, আলাদা পার্লামেন্ট, আলাদা প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীসভা, কাস্টমস, পুলিশ ব্যবস্থা এমনকি সেনাবাহিনীও রয়েছে।
মানচিত্রে বসনিয়ার দুটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল ফেডারেশন অব বসনিয়া এন্ড হারজেগোভিনা ও রিপাবলিকা স্রাবস্কা ( ২ ভাগে বিভক্ত)
দুই সায়ত্বশাসিত অঞ্চলের সেনাবাহিনী মিলে গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী। এখানেই শেষ নয়, বসনিয়াক অধ্যুষিত অঞ্চলের অধীনে আছে ১০টি ক্যান্টন। প্রতিটি ক্যান্টনের আবার আছে একজন প্রধানমন্ত্রী, একটি মন্ত্রীসভা, নিজস্ব সংস্থা ও একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
বসনিয়া কেমন দেশ
এতো গেল আঞ্চলিক সরকারগুলোর কথা। বসনিয়ার কেন্দ্রিয় সরকার ব্যবস্থা আরো জটিল। এখানে একই সাথে দয়িত্ব পালন করেন তিন জন প্রেসিডেন্ট। বসনিয়াক, সার্ব ও ক্রোয়াটদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত ৩ জন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে গঠিত দেশটির প্রেসিডেন্সি কাউন্সিল। চার বছরের জন্য নিজ নিজ জাতির লোকদের ভোটে নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্টরা। আট মাস করে প্রেসিডেন্সির প্রধান থাকেন তাদের মধ্যে একজন। এভাবে পালা করে চলে তিন জনের চার বছরের মেয়াদ।
তবে নির্বাহী ক্ষমতা থাকে মন্ত্রীসভার হাতে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতাও মন্ত্রীসভার প্রধানের হাতে। মন্ত্রীসভার প্রধানকে মনোনীত করেন প্রেসিডেন্টরা, তবে তার জন্য লাগে পার্লামেন্টের অনুমোদন। বসনিয়ার পার্লামেন্ট দুই কক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চকক্ষ হাউজ অব পিপলসের সদস্য ১৫ জন। তিন জাতির ৫ জন করে প্রতিনিধি থাকেন। নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪২ সদস্য সরাসরি জনগনের ভোটে নির্বাচিত। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ বসনিয়া অঞ্চলের, বাকিরা স্রাবসকা থেকে নির্বাচিত হয়ে আসেন। তিন জাতির প্রত্যেকের অধিকার ও কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই গিয়েই মূলত বসনিয়ায় এমন জটিল শাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বসনিয়ার রাজধানীর নাম কি
বসনিয়ার রাজধানী এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণে সবচেয় গুরুত্বপুর্ণ নগরী সারায়েভো। ১৪৫০ এর দশকে আধুনিক সারায়েভোর গোড়াপত্তন হয়েছিল ওসমানীয় সুলতনদের হাতে। যে কারণে এই নগরীর সব ঐতিহাসিক স্থাপনায় দেখা যায় তুর্কি নির্মাণশৈলীর ছাপ। সারায়েভোর প্রথম লাইব্রেরিটি স্থাপন করেছিলেন ওসমানীয় শাসকরা। তারা বেশ কিছু মসজিদ ও মাদ্রাসা স্থাপন করেন এখানে। এবার আশা করি বসনিয়ার রাজধানীর নাম কি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।
সারায়েভো নামটিও ওসমানীয়দের দেয়া। তবে তুর্কিদের হাতে গোড়াপত্তন হলেও আজকের সারায়েভো সবজাতির মিলনস্থল। নগরীতে অস্ট্রো-হাঙ্গরিয়ান যুগের অনেক স্থাপনাও দেখা যায়। ইউরোপের খুব কম নগরী আছে যেখানে একই মহল্লায় মসজিদ, গির্জা, সিনাগগ দেখতে পাওয়া যায়। সারায়েভোকে এই কারণে অনেকেই বলেন, জেরুসালেম অব ইউরোপ।
এর বাইরেও ইতিহাসের অনেক পাতা জুড়েই আছে সারায়েভো নগরী। এই নগরীর এক হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেটি ১৯১৪ সালের ঘটনা। বসনিয়া তখন অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান শাসনের অধীনে। সারায়েভোতে অস্ট্রিয়ান সম্রাজ্যের পরবর্তী উত্তরাধিকার আর্কডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিন্যান্ডকে হত্যা করে যুগোশ্লাভপন্থী ঘাতকরা। এই ঘটনার জের ধরে শুরু হয় যুদ্ধ, যা রূপ নেয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে।

এই হত্যাকাণ্ডের স্থানটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেই তাকে। এর খুব কাছেই অবস্থিত মিলজাকা নদীর ওপর ওসমানীয় যুগের লাতিন ব্রিজ। ১৫৩২ সালে নির্মিত গাজি হুসরেব বেগ মসজিদ নগরীর আরেকটি প্রাচীন স্থাপত্য। ওসমানীয় সম্রাজ্যের স্থানীয় গভর্নরের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই সারায়েভোর ইসলামি কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু চমৎকার কারুকার্জ খচিত এই মসজিদটি। মসজিদ কমপ্লেক্সের সাথেই আছে সেই আমালের মক্তব, মাদরাসা ও হাম্মামখানা।
এছাড়াও নগরীতে আছে বসনিয়া যুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ সারায়েভো নগরীর লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত টানেলটি। যেটিকে পরে রূপ দেয়া হয়েছে জাদুঘরে। সারায়েভো ওল্ড টাউন, টাউন হল ও ইহুদি মিউজিয়ামও দর্শকদের টানে।
ইতিহাস ও সৌন্দর্যের দেশ বসনিয়া
ইতিহাস ও আধুনিকতার মিশ্রনে আজকের সারায়েভো সত্যিই মনোরোম এক নগরী। পাহাড় আর সবুজের মাঝে গড়ে ওঠা আধুনিক দৃষ্টিনন্দন দালানকোঠা সারায়েভোকে করেছে ছবির মতো সুন্দর। পাহাড়ের ওপর কোন বাড়ির বারান্দায় দাড়িয়ে পুরো নগরীর দিকে তাকালে চোখ ফেরানো কঠিন। সারায়েভোর খাবারও প্রসিদ্ধ। বিভিন্ন জাতির মানুষের বসবাসের কারণে এখানের খাবারে রয়েছে বৈচিত্র। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত চেভাপি নামের একটি খাবার। যেটি দেশটির জাতীয় খাবার। গরুর গোশতের কাবাবের সাথে পরোটা দিয়ে তৈরি এই খবার স্বাদে অনন্য। সারায়েভোর কফিরও খ্যাতি আছে।
সারায়েভোর বাইরে গেলেও একই রকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়বে। পর্যটকদের আকর্ষণের আরেকটি কেন্দ্রবিন্দু উনা ন্যাশনাল পার্ক। নদী, পাহাড়, ঝর্না, আর বন্য প্রাণী- সব কিছু মিলে সুন্দরের আকর্ষণীয় এক প্যাকেজ যেন এই পার্ক। অনেকগুলো ঝর্না আছে এই পার্কে।
বসনিয়ার গণহত্যা
তবে সেব্রেনিসা গণহত্যার জায়গাটির প্রতি রয়েছে পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ। দেশটির পূর্বাঞ্চলে সার্বিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি একটি ছোট্ট শহর স্রেব্রেনিসা। ১৯৯৫ সালে জুলাইয়ে এই শহরে জাতিসঙ্ঘ নিয়োজিত ডাচ শান্তিরক্ষী বাহিনীর চোখের সামনেই রিপাবলিকা স্রাবসকার সার্ব আর্মি হত্যা করে ৮ হাজার মুসলিমকে। পুরুষ ও বালকদের বেছে বেছে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ওই সময়। জাতিসঙ্ঘের ডাচ শান্তিরক্ষীরা সেদিন হত্যকাণ্ড ঠেকানোর বদলে উল্টো মুসলিমদের নির্মূলে সার্বদের সহযোগিতা করেছে। সেই গণহত্যা বসনিয়াই শুধু নয়, সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে আছে।
এর বাইরে আরো অনেক উল্লেখযোগ্য স্থান আছে বসনিয়া এন্ড হারজেগোভিনায়। পুরো দেশটিই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। কোথাও পাহাড়েরর কোলজুড়ে বাড়ি, কোথাও পাহাড়ের বুক চিড়ে চলা সড়ক, সড়কের পাশে ঝর্না। কোথাও বা পাহাড় নদী আর সবুজের মিলন মেলা। মোসতার, বানজা লুকা, জাজকি, ট্রাভনিক, বিহাক শহরগুলোতে প্রতি বছর পা পড়ে হাজার হাজার পর্যটকের। টপিক : বসনিয়ার রাজধানীর নাম কি
লেখকের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ
১১-০৬-২০২০


