কানাডা কোন মহাদেশে অবস্থিত । কানাডা দেশটি কেমন

শীতের দেশ কানাডা Canada, বরফের দেশ কানাডা। বহুজাতি, ভাষা আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনের দেশও কানাডা। সারা বিশ্বের মানুষের মিলন মেলা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের এই দেশটিতে। শীত প্রধান দেশ হলেও কানাডায় শরতের পাতাঝড়া দিন কিংবা বসন্তের সাড়ি সাড়ি টিউলিপের বাগান মুগ্ধ করে সকলকে। উদার রাজনীতির দেশ হিসেবেই পরিচিত বিশ্বের অন্যতম ধনী এই দেশটি। কানাডা কোন মহাদেশে অবস্থিত এই প্রশ্নের উত্তরও আমাদের অনেকের জানা নেই। চলুন জেনে আসি কানাডা সম্পর্কে বিস্তারিত

তার আগে বলে নেই, যারা-

কানাডা ডিবি লটারি ২০২১

কানাডা জব ভিসা

অথবা

কানাডা যেতে কত টাকা লাগে

কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাদের জন্য আমার এই লেখাটি নয়। আপনারা দয়া করে কোন কনসালটেন্সি ফার্মের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। তবে এই পোস্ট আপনাকে কানাডা সম্পর্কে একটি ভালো ধারনা দেবে। চলুন এবার মূল পোস্টে-

 

দেশ পরিচিতি  কানাডা

রাজধানী : অটোয়া
ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ : ১ জুলাই, ১৮৬৭
আয়তন : ৯৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭০ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্য : ৩ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার (প্রায়)
জাতীয়তা : কানাডিয়ান
অফিশিয়াল ভাষা : ইংরেজী, ফরাসি
মুদ্রা : কানাডিয়ান ডলার
ধর্ম : ৬৭ শতাংশ খ্রিস্টান, ২৪ শতাংশ ধর্মহীন, ৩.২ শতাংশ ইসলাম, ১.৫ শতাংশ হিন্দু
সরকার ব্যবস্থা : ফেডারেল পার্লামেন্টারি ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
পার্লামেন্ট : দুই কক্ষ বিশিষ্ট
শিক্ষিতের হার : ৯৯ শতাংশের বেশি

কানাডা কোন মহাদেশে অবস্থিত Where is Canada

আমরা অনেকেই জানি না কানাডা কোন মহাদেশে অবস্থিত । উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের উত্তরাংশে অবস্থিত কানাডা। মানে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পাশে দেশটির অবস্থান  আয়তনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটি পূর্ব-পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরে আছে আর্কটিক সাগর আর দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র। বিশাল এই ভূখণ্ডের বড় একটি অংশ জনমানবহীন। দেশটি শীতপ্রধান। শান্তিপূর্ণ ও উদার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দেশটিতে আছে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কানাডার রানী।

কানাডায় মানব বসতি স্থাপনের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো। আধুনিক বিশ্বে ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হয় দেশটি। দীর্ঘ যুদ্ধের পর এক সময় যায় ব্রিটিশদের দখলে। ১৮৬৭ সালে চারটি প্রদেশ নিয়ে কানাডা রাষ্ট্রের সূত্রপাত। বর্তমানে কানাডায় আছে ১০টি প্রদেশ ও তিনটি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল।

বহুজাতিক এক দেশ কানাডা। সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সম্মিলন ঘটেছে এই ভূখণ্ডে। তাই জাতিগত বৈচিত্র যেমন আছে তেমটি আছে ভাষা ও সংস্কৃতিগত বৈচিত্র। দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে বাস করে শতাধিক ভাষাভাষী মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই মানুষদের আপন করে নিয়েছে দেশটি। অভিবাসীদের বিষয়ে কানাডা সব সময়ই উদার নীত গ্রহণ করে আসছে।

কানাডার মানচিত্র
বিশ্ব মানচিত্রে কানাডার অবস্থান

কানাডার জনসংখ্যা

২০১৬ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে কানাডার জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ মাত্র কানাডিয়ান। এছাড়া ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইংরেজ, প্রায় ১৪ শতাংশ স্কটিশ, ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ ফরাসি, ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ আইরিশ, ৯ দশমিক ৬ শতাংশ জার্মান।

এছাড়া চাইনিজ, ইতালীয়, ভারতীয় ও ইউক্রেনীয় লোকদের সংখ্যাও কম নয়। বাসিন্দাদের এই বৈচিত্রের কারণে দেশটির ভাষাগত বৈচিত্রও অনেক। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সব ভাষার কম বেশি ব্যবহার আছে দেশটিতে। আবার সব ধর্মের মানুষের মিলে মিশে বসবাস করার ক্ষেত্রেও কানাডা বিশ্বে অনন্য। দেশটির কোন রাষ্ট্র ধর্ম নেই, তবে বাসিন্দাদের সবার আছে ইচ্ছেমত ধর্ম পালনের অধিকার।

কানাডার রাজধানীর নাম কি

আয়তনে বিশাল দেশ হলেও কানাডার উন্নত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলি দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ হওয়ায় এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে দেশটির প্রধান প্রধান নগরী। অটোয়া, টরেন্টো, মন্ট্রিয়ল, কুইবেকের মত শহরগুলো এখানে অবস্থিত।

অটোয়া নগরীটি কানাডার রাজধানী। রাজনৈতিক কারণে কানাডা খুব বেশি প্রভাবশালী না হওয়ার কারণে দেশটির রাজধানী সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষের ধারণা কম। অন্টারিও প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নগরীটি। ২০২১ সালের পরিসংখ্যার অনুযায়ী অটোয়া নগরীর জনসংখ্যা ১০ লাখ ১৭ হাজার।

এটি কানাডার রাজনৈতিক কেন্দ্র ও ফেডারেল সরকারের কার্যালয় এখানে। এছাড়া আদালত, পার্লামেন্ট, বিদেশী দূতাবাসগুলো এই নগরীতে।

আরো পড়ুন :

আর্জেন্টিনা ফুটবলের দেশ, সৌন্দর্যের দেশ

ব্রাজিল : ফুটবল আমাজন আর ঐতিহ্যের দেশ

কানাডার অর্থনীতি

বৃহৎ অর্থনীতির দেশ কানাডা। ২০১৮ সালের এক জরিপে দেশটি বিশ্বের দশম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ মনোনীত হয়েছে। অর্থনীতির মূল চালিকা সেবাখাত ও ট্রেডিং বিজনেস। জনসংখ্যার বড় অংশই বিভিন্ন সেবা সংশ্লিষ্ট পেশার সাথে জড়িত। আর মুক্ত অর্থনীতির দেশ হওয়ার কারণে ট্রেডিং বিজনেসে দেশটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে একটি।

তবে দেশটির আছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদও। আটলান্টিক উপকূলীয় এলাকার মাটির নিচের রয়েছে প্রচুর খনিজ সম্পদ। উইকিপিডিয়া বলছে, বৈশ্বিক তেল রিজার্ভের ১৩ শতাংশ কানাডার দখলে। যেটি সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলার পর বিশ্বে তৃতীয়। কৃষিতেও পিছিয়ে নেই দেশটি। গম উৎপাদনে কানাডার অবস্থান প্রথম দিকে। এছাড়া ক্যানোলাসহ আরো অনেক কৃষি পণ্য প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয় এখানে।

নায়াগ্রার মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে কানাডাতেই

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কানাডার অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। গবেষণা ও উন্নয়ন খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশটি। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৪ জন কানাডীয় গবেষক নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন ও চিকিৎসা শাস্ত্রে।

নায়াগ্রা জলপ্রপাত Niagara Falls

কানাডার কথা উঠলে মনের পর্দায় সবার আগে যেটি ভেসে ওঠে সেটি নায়াগ্রা জলপ্রপাত Niagara Falls। বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় এই জলপ্রপাতটি আমেরিকা ও কানাডা দুই দেশের ভূখণ্ডে পড়েছে। তবে এর মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে কানাডাতেই। প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয় প্রকৃতির অপার বিস্ময় নায়াগ্রায়।

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে নায়াগ্রার অবস্থান। সীমান্তের ওপাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক স্টেট। নায়াগ্রায় রয়েছে মোট তিনটি জলপ্রপাত। তিনটি জলপ্রপাতের নাম : হর্স-শু ফলস বা কানাডা ফলস, আমেরিকান ফলস এবং ব্রাইডাল ভিল ফলস। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হর্স-শু ফলসের বেশির ভাগ অংশ পড়েছে কানাডার সীমান্তে। অন্য ছোট দুটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।

কানাডার আয়তন
সবুজ পানির লেক লুইস

আমেরিকা অংশ থেকে জলপ্রপাতটি পিছন থেকে দেখতে হয়। কানাডা থেকে সরাসরি সামনে থেকে দেখা যায়, ফলে দর্শণার্থীদের ভীড় হয় এখানেই বেশি। হর্সশু ফলস প্রায় ১৭৩ফুট উচু এবং ২৬০০ফুট চওড়া। বসন্তের শেষের দিকে বা গ্রীষ্মকালের শুরুতে জলপ্রপাত গুলো থেকে সেকেন্ডে ২০২,০০০০ ঘন মিটার পানি পতিত হয়। হর্স শু ফলসে অবস্থিত বিশেষ গেটের সাহায্যে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করে কানাডা। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী টরেন্টো থেকে ১২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি।

জলপ্রোপাতটি খুব কাছে থেকে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে পর্যটকদের জন্য। বোটে চড়ে যাওয়া যায় একেবারে মূল পানির ধারার কাছাকাছি, যেখানে পানি উড়ে এসে ভিজিয়ে দেয় শরীর। অথবা সুরঙ্গ পথে নিচে নেমে খুব কাছে থেকে জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখতে পারবেন আপনি। হেলিকপ্টারে উঠেও দেখতে পারবেন এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য।

কানাডার দর্শনীয় স্থান

গ্রীষ্মে নায়াগ্রা বোটানিক্যাল গার্ডেনও দেখার মত চমৎকার স্থান। এর চারিদিকের প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে পর্যটকদের। ১৯৩৬ সালে পার্কটি গড়ে তোলা হয় ৯৯ একর জমির উপর। এছাড়া নায়াগ্রাতে আরও আছে বাটারফ্লাই কনজারভেটরী পার্ক। এখানে প্রায় ৪৫ প্রজাতির প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়। অসাধারণ এক মোহনীয় দৃশ্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে।

কানাডা ইমেজ
বরফের সান্নিধ্য আরো বেশি সময় কাটাতে চাইলে সেরা স্থান হুইসলার

বিশাল দেশ কানাডায় দর্শনীয় স্থানের শেষ নেই। প্রকৃতির মাঝে কয়েক দিনের জন্য হারিয়ে যেতে চাইলে যেতে হবে আলবার্টা প্রদেশে অবস্থিত ব্যানাফ ন্যাশনাল পার্কে। বিখ্যাত রকি মাউন্টেনের মাঝখানে অবস্থান এই পার্কটি। অনেকে বলেন, কানাডার সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো এই পার্কেই অবস্থিত।

এখানে আছে বিখ্যাত মোড়াইন লেক, যার পানি ফিরোজা রঙের। দুই পাশে ছোট ছোট পাহাড়ের মাঝখানে স্বচ্ছ পানির এই লেকে বেড়ানোর অনুভূতির তুলনা মেলা ভার। বরফ ঢাকা পাহাড় কিংবা বিশার আকৃতির হিমবাহ- কী নেই এখানে! তবে এই পার্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান সম্ভবত পাশ্ববর্তী আরেকটি লেক।

সবুজ পানির এই লেকটির নাম লেক লুইস। রকি পবর্তমালার সৌন্দর্য উপভোগ করারও সেরা জায়গা এটি।

ভ্যানকুবার আইল্যান্ড

কানাডায় ভ্রমণকারীদের কাছে আরেক পছন্দেও স্থান ভ্যানকুবার আইল্যান্ড। ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এই দ্বীপটি যেমন সাজানো গোছানো, তেমিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। মূল ভূখণ্ড থেকে ফেরিতে (লঞ্চ) দুই ঘণ্টার পথ ভ্যানকুবার আইল্যান্ড। পাহাড়ি রাস্তায় হাটা কিংবা তাবু গেড়ে রাত্রি যাপনের জন্য এই অঞ্চলটির বিকল্প নেই। পাহাড়, খাড়ি, বনাঞ্চল, সমুদ্রসৈকত- সব কিছু দিয়েই যেন প্রকৃতি সাজিয়েছে দ্বীপটিকে।

কানাডা পিক
পোলার বিয়ার দেখতে যেতে হবে ম্যানিটোবা প্রদেশের চার্চিল শহরে

ভ্যানকুবারের টোফিনো ও নানাইমোর সৈকতে গেলে বোটে চড়ে তিমি মাছ দেখার লোভ সামলাতে পারেন না পর্যটকরা। কিলার হোয়েল ও হাম্পব্যাক হোয়েল দুটোই দেখা যাবে এখানে। সেই সাথে আছে সী লায়ন, শুশুক সহ অন্য সামুদ্রিক প্রাণী দেখারও সুযোগ। আর বরফে স্কি করতে চাইলে যেতে হবে মাউন্ট ওয়াশিংটনে। আছে ৫০০ মিটার লম্বা এক স্কি স্পট। যেখানে আছে স্কি করার সব রকমের ব্যবস্থা। শীতে এই পাহাড় যেন হয়ে ওঠে বরফের সমুদ্র।

এর বাইরে পুরো ভ্যানকুবার আইল্যান্ডই সৌন্দর্যে ভরপুর। এই দ্বীপের প্রেমে পড়ে গেলে আর দেখা হবে না কানাডার বাকি সৌন্দর্য। বরফের সান্নিধ্য আরো বেশি সময় কাটাতে চাইলে সেরা স্থান হুইসলার। কেউ বলে গ্রাম, কারো কাছে এটি ছোট্ট শহর। শীতকালীন খেলাধূলার জন্য বিখ্যাত হুইসলারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালের শীতকালীন অলিম্পিক। এখানে আছে মহাদেশের সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত স্কি সেন্টার।

আরো পড়ুন : 

চীন : মহাপ্রাচীরের দেশ

আজারবাইজান : আগুনের দেশ

অস্ট্রেলিয়া : ছবির মতো দেশ

পোলার বিয়ার

শীতের দেশে গেলে পোলার বিয়ার না দেখে ফিরতে মন চাইবে না হয়তো। কানাডার এই অনন্য সৌন্দর্য দেখতে যেতে হবে ম্যানিটোবা প্রদেশের চার্চিল শহরে। এখানকার অল্প সংখ্যক বাসিন্দা প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে। অক্টোবর নভেম্বরে প্রচণ্ড শীতে তাপমাত্র যখন হিমাঙ্কের নিচে থাকে, তখন এখানকারি পানি বরফে পরিণত হয়, পোলার বিয়ার দেখার সেরা সময় এটি।

তবে শীতের দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও কানাডার গ্রীষ্মকালীন সৌন্দর্যও আপনাকে বিমুখ করবে না। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। সাড়ি সাড়ি সবুজ বৃক্ষের পাতাগুলো গ্রীষ্মে সোনালী হতে শুরু করে। গ্রীষ্মে টরেন্টো, মন্ট্রিয়লসহ কোন কোন অঞ্চলের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।

আর গ্রীষ্মের শেষে সেপ্টেম্বরের পাতা ঝড়ার দিনগুলোতে কানাডার পথে প্রান্তরে সে এক অন্য সৌন্দর্য। যার তুলনা মেলা ভার। ফেব্রুয়ারি-মার্চে আসে বসন্ত। বসন্তে প্রচুর ফুল ফোটে কানাডায়। শীত উপভোগ করতে হলে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মধ্যে যেতে হবে। যখন কোন কোন অঞ্চলের তাপমাত্র নামে মাইনাস ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত। কানাডা কোন মহাদেশে অবস্থিত

কানাডার প্রধানমন্ত্রী Prime Minister of Canada

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর নাম জাস্টিন ট্রুডো Justin Trudeau। তিনি ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি তার ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদ চলছে। ৫০ বছর বয়সী ট্রুডো দেশটির ২৩তম প্রধানমন্ত্রী। তার রাজনৈতিক দলের নাম লিবারেল পার্টি অব কানাডা। জাস্টিন বিশ্ব রাজনীতিতে একজন উদার ও মহান নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। অভিবাসী সঙ্কটসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে তার ভুমিকা প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তবে কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিটিশ রাজা চার্লস। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র আছে দেশটিতে। যে কারণে ব্রিটেনের সিংহাসনে যিনি থাকবেন, তিনিই পদাধিকার বলে কানাডার রাষ্ট্র প্রধান হবেন।

কানাডার মুদ্রার নাম কি Canada Currency

কানাডার মুদ্রার নাম কানাডিয়ান ডলার। একশো সেন্ট-এ হয় এক ডলার। ১০ কানাডিয়ান ডলার সমান ৭.৩৬ মার্কিন ডলার। আর ১০ কানাডিয়ান ডলার সমান ৭৪৩ টাকা। অর্থাৎ ১ ডলার সমান ৭৪ টাকার কিছু বেশি।

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন :  আহমেদ স্টোর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top