Donald Lu

কে এই ডোনাল্ড লু

কে এই ডোনাল্ড লু? Who is Donald Lu. জানুয়ারির মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ সফর করেছেন আলোচিত মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু। তার সফরটি রাজনৈতিক কারণে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লু’র সফরের আগ থেকেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই মার্কিন কূটনীতিকের কর্মকাণ্ডই মূলত আলোচনার কারণ। বিশেষ করে পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের পতন তাকে আলোচনায় আনে।

চলুন জেনে আসি ডোনাল্ড লু এবং তাকে নিয়ে আলোচনার কারণ সম্পর্কে।

ডোনাল্ড লু যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্যএশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি কিরগিজস্তান ও আলবেনিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।

এছাড়া ইবোলা মহামারী নিয়ে কাজ করেছেন পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগে কাজ করছেন তিনি। অর্থাৎ একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক তিনি। এ সময়ে কাজ করেছেন ভারত, পাকিস্তান, জর্জিয়া, মধ্যএশিয়া ও ককেশাস পার্বত্য অঞ্চলে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে দীর্ঘদিন কূটনীতিক হিসেবে তার পোস্টিং ছিলো। যে কারণে এই অঞ্চলের রাজনীতি বিষয়ে তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।

ডোনাল্ড লুর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাষ্ট্রের হান্টিংটন বিচ শহরে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। এরপর যোগ দেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক।

মাতৃভাষা ইংরেজি ছাড়াও উর্দু, হিন্দি, রুশ, আলবেনিয়ান, জর্জিয়ান, আজারবাইজানি ভাষায় কথা বলতে পারেন ডোনাল্ড লু।

ডোনাল্ড লু’কে নিয়ে আলোচনা

২০২২ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে ইমরান খানের সরকার ক্ষমতা হারানোর পর আলোচনায় আসেন লু। ইমরান খান অভিযোগ করেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের প্রধান কুশীলব এই মার্কিন কর্মকর্তা।

ইমরান খানের অভিযোগ, ডোনাল্ড লু পাকিস্তানকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। যদি ইমরান খানের সরকার টিকে যায় সেটি দেশটির জন্য ভালো হবে না বলে তিনি হুমকি দেন। বলা হয়, ইসলামাবাদে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ ওমরকে ডেকে ডোনাল্ড লু বলেন, যদি পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে ইমরান খানের সরকার টিকে যায় সেটি পাকিস্তানের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।

এরপর ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের কিছু এমপি বিরোধী শিবিরে যোগ দেয় এবং আনাস্থা ভোটে জয় হয় বিরোধীদের। এরপর পাকিস্তানের সরকার গঠন করে বিরোধীরা, যার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শাহবাজ শরিফ। অভিযোগ করা হয়, ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের যোগসাজশ ছিলো এ বিষয়ে।

এছাড়া সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও নেপালে সফর করেছেন তিনি। এই দেশগুলোতেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার বদলের মতো ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। যে কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে লু’র সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা।

অত্যন্ত দক্ষ ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে অভিজ্ঞ এই মার্কিন কূটনীতিক এই অঞ্চলের দেশগুলোর রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে মনে করা হয়। তাই তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও মূলধারার গণমাধ্যমেও তার সফর নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, এই পরিস্থিতি ডোনাল্ড লু’র সফরকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে বলেও মনে করা হয়।

দৈনিক মানবজমিন লিখেছে, ‘রোববার রাতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় হয়েছে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে। সর্বত্রই মানুষের ‘অধিকার’ নিয়ে আলোচনা করে গেছেন ডোনাল্ড লু। আলোচনায় ঘুরেফিরে এসেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ। এখানে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে মানুষের আকাক্সক্ষার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top