যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা United States of America. সংক্ষেপে বলা হয় ইউএসএ USA. এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক সব দিক থেকেই এটি একক পরাশক্তি। ৫০টি স্টেট বা অঙ্গরাষ্ট্র নিয়ে গটিত দেশটি। এসব স্টেটের আলাদা আইন ও নিয়মকানুন থাকলেও তারা কেন্দ্রিয়ভাবে একটি সরকারের অধীন। যেটিকে বলা হয় ফেডারেল সরকার ব্যবস্থা। টপিক : আমেরিকার রাজধানীর নাম কি
এই সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি, সামরিক নীতি ও অর্থনীতি নির্ধারণ করে। এর বাইরে অন্য বিষয়গুলো প্রতিটি স্টেটের আলাদা আইন রয়েছে। যেগুলো স্থানীয়ভাবে পার্লামেন্টের মাধ্যমে তৈরি হয়। ফেডারেল সরকারের পার্লামেন্টের দুটি কক্ষ রয়েছে। নিম্নকক্ষের নাম হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ, যার সদস্য সংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সিনেট, যার সদস্য সংখ্যা ১০০।
প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল – ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি বহু দশক ধরে দেশটির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৭৭৬ সালে দেশটি ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ৫০টি ছোট ছোট দেশ মিলে এক সাথে ফেডারেল সরকার গঠন করে, যার নাম দেয়া হয় ইউনাইটেড স্টেসস অব আমেরিকা। অর্থাৎ আমেরিকার ঐক্যবদ্ধ দেশগুলো। বা আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকার রাজধানীর নাম কি
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর নাম ওয়াশিংটন ডিসি। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নগরীটি। এর নামকরণ করা হয়েছে দেশটির স্থপতি ও প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের নামে।
নগরীটিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী স্থাপনের আইন পাশ হয় ১৬ জুলাই, ১৭৯০ সালে। ১৮০০ সালে সেখানে রাজধানী সরিয়ে নেয়া হয়। এর আগে রাজধানী ছিলো পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়াতে। তবে সেখানে একটি বিদ্রোহের ঘটনার পর নীত নির্ধারকরা উপলব্ধি করেন যে, কোন অঙ্গরাষ্ট্রের ভেতর থাকার চেয়ে দেশের ফেডারেল রাজধানী নিরপেক্ষ কোন অঞ্চলে থাকা উচিত। অর্থাৎ যেটি কোন অঙ্গরাষ্ট্রের ভেতরে হবে না। এবং এখানে শুধু ফেডারেল সরকারের আইন চলবে।

এরপর পার্লামেন্টে রেসিডেন্স অ্যাক্ট নামে একটি আইন পাস করা হয়। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ নতুন অঞ্চল গঠনের জন্য ভূখণ্ড দান করে। এই ভূখণ্ডকে কেন্দ্রশাসিত এলাকা ঘোষণা করা হয় এবং এখানকার একটি শহরে গড়ে তোলা হয় রাজধানী। যার নাম রাখা হয় ওয়াশিংটন ডিসি। ওই সময়ই আরো অনেক কিছুর মতো হোয়াইট হাউজের নির্মাণ কাজও শুরু হয়। ১৮০০ সালের ১৭ নভেম্বর ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট অধিবেশন বসে।
ডি সি অক্ষর দুটি দ্বারা ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’ বা কলম্বিয়ার অঞ্চল বোঝানো হয়। নতুন গঠিত ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিকে কলম্বিয়া নামকরণ করা হয়েছিল। সেখানে তিনটি আঞ্চলিক প্রশাসনও চালু করা হয়। তবে পরবর্তীতে সবকিছু ফেডারেল সরকারের অধীনে নেয়া হয়। বর্তমানে একজন মেয়র অঞ্চলটির স্থানীয় প্রশাসন তদারকি করেন।
এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, ওয়াশিংটন নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টেটও রয়েছে। সেটির অবস্থান দেশটির একেবারে পশ্চিম দিকে। এই স্টেটের রাজধানী অলিম্পিয়া। আর সবচেয়ে বড় শহর শিয়াটল, যেটি বিল গেটসের শহর হিসেবে পরিচিত।
আমেরিকায় এখন কয়টা বাজে
সম্পূর্ণ অন্য গোলার্ধে অবস্থান হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পার্থক্য অনেক বেশি। কোন কোন ক্ষেত্রে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। আবার অনেক বড় দেশ হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য রয়েছে। দেশটির মূলভূখণ্ডেই ৭টি টাইম জোন মেনে চলা হয়।
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বাংলাদেশ সময় থেকে ১০ ঘণ্টা পিছিয়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশে যখন শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টা, নিউ ইয়র্কে তখন শুক্রবার সকাল ১০টা। এটি হচ্ছে ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম। এর আওতায় রয়েছে নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, ফিলাডেলফিয়া, জ্যাকসনভিলসহ আশপাশের এলাকাগুলো।
সেন্ট্রাল জোনে রয়েছে ফ্লোরিডা, মিশিগান, টেক্সাস প্রভৃতি অঙ্গরাষ্ট্রসহ আশপাশের এলাকা। এটি আরো এক ঘণ্টা পিছিয়ে, অর্থাৎ বাংলাদেশের সময় থেকে ১১ ঘণ্টা আগে। আর মাউন্টেন টাইম জোন বাংলাদেশ থেকে ঠিক ১২ ঘণ্টা পিছিয়ে। এই অঞ্চলে রয়েছে অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো, কলরাডো প্রভৃতি অঙ্গরাষ্ট্র।
এরপর প্যাসিফিক স্ট্যান্ডার্ড টাইম জোনের আওতায় আছে ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল। এটি বাংলাদেশ থেকে ১৩ ঘণ্টা পিছিয়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশে যখন শুক্রবার রাত ৮ টা, সেখানে তখন শুক্রবার সকাল ৭ টা।
অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত আটটায় নিউ ইয়র্ক সময় শুক্রবার সকাল ১০টা, লস এঞ্জেলেসে, শুক্রবার সকাল ৭টা, ডালাসে সকাল ৯টা। তবে দেশটির বেশ কিছু অঞ্চল এবং অধীনস্ত কিছু দ্বীপে আবার পৃথক টাইম জোন রয়েছে।ৎ
আমেরিকার মুদ্রার নাম কি
সম্ভবত এটি বিশ্বের সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন। কারণ মোটামুটি সবাই জানেন যে, এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে মার্কিন ডলার। মার্কিন ডলার বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রার নাম। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিময় ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান ঠিক করা হয় মার্কিন ডলারের সাথে বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের মাপকাঠি হচ্ছে মার্কিন ডলার। একশো সেন্টে এক ডলার। দেশটির বাজারে সবচেয়ে বেশি চলে ১, ৫, ১০, ৫০ ও ১০০ ডলারের কাগজের নোট। ১, ৫, ১০ ও ২৫ সেন্টের কয়েন বা ধাতব মুদ্রারও ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।
বাংলাদেশী মুদ্রার বিপরীতে বর্তমানে মার্কিন ডলারে দাম এক ডলার সমান ১০৮ টাকা(জুলাই, ২০২৩)।
আমেরিকার জনসংখ্যা কত
আয়তনে বিশাল এক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির জনসংখ্যা তত বেশি নয়। যে কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ অভিবাসী হিসেবে প্রবেশ করে সেখানে। কেউ বৈধভাবে, কেউ বা অবৈধ পথে। তবে অবৈধ পথে প্রবেশ করা লোকদেরও বিতাড়িত করে না দেশটি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র জানে, বিদেশীরা সেখানে গিয়েই তাদের দেশকে উন্নত করেছে। অভিবাসীদের শ্রমেই সমৃদ্ধ হয়েছে আমেরিকা।
২০২০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটিতে বৈধ বাসিন্দা ৩৩ কোটির ১৫ লাখের মতো। যা চীন ও ভারতের পর জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থান। প্রতিদিন গড়ে ৮৬৪ জন বৃদ্ধি পায় দেশটির জনসংখ্যা।
জনসংখ্যার বেশির ভাগই অভিবাসী বা তাদের পরবর্তী প্রজন্ম। বর্তমানে দেশটির আদিবাসী জনসংখ্যা বা নেটিভ আমেরিকারনদের সংখ্যা ৩৭ লাখের মতো। যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ মাত্র। জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ শ্বেতাঙ্গ ৫৭.৮ শতাংশ, যাদের পূর্ব পুরুষ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা উত্তর আফ্রিকার। হিস্পানিক ও ল্যাটিন আমেরিকানরা আছে ১২ শতাংশ। এছাড়া ৬ শতাংশ এশিয়ান বংশোদ্ভূত।
আমেরিকা কোন মহাদেশে অবস্থিত
যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অবস্থান উত্তর আমেরিকা মহাদেশে। এই মহাদেশটির বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে দেশটির অবস্থান। এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উত্তরে রয়েছে কানাডা। দক্ষিণে আছে মেক্সিকো। বাকি দিকগুলোতে রয়েছে সমুদ্র। আয়তনে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব দিকে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর। ইউরোপ থেকে দেশটিতে যেতে হয় আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে। দক্ষিণে আছে মেক্সিকো উপসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগর। এই অঞ্চলে রয়েছে কিউবা, গুয়েতেমালা, নিকারাগুয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজভূক্ত দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর। সাগরের ওপারে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশ। টপিক : আমেরিকার রাজধানীর নাম কি
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ স্টোর


