দ্রুত সামরিক ড্রোনের উৎপাদন বাড়াচ্ছে ইরান এবং দেশটি এসব প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ ও মিলিশিয়া গোষ্ঠির কাছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ভেনেজুয়েলা কিংবা সুদানের মতো দেশ সহযোগিতা পাচ্ছে ইরানের কাছ থেকে। ইরানের ড্রোন কিনতে আগ্রহী আরো অনেকে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, স্যাটেলাইটের ছবি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ড্রোনের বিশাল বাজার তৈরি করার মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন অর্থ সঙ্কট দূর করছে, অন্য দিকে তৈরি করছে রাজনৈতিক প্রভাব বলয়।
চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছে ড্রোন বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। ইউক্রেনের যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এসব ড্রোন কিনতে চায় মস্কো। তারা ইরানের প্রতি এই পদক্ষেপ না নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ইরান দাবি করছে, রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধের আগ থেকেই তাদের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানি সেনাবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমারস হায়দারি বলেছেন, তার দেশ এখন বন্ধু দেশগুলোর কাছে অস্ত্র রফতানি করতে প্রস্তুত। তিনি আরো বলেছেন, তাদের তৈরি ড্রোন দেশের সীমানার বাইরেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
জেরুসালেম ভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও ড্রোন বিশেষজ্ঞ সেথ ফ্রান্তসম্যান নিউ ইয়র্ক টামইসকে বলেন, ড্রোন রফতানিতে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠছে ইরান। ইরানের তৈরি মোহাজের -৬ ড্রোন আফ্রিকা অঞ্চলে দেখা গেছে। যা থেকে বোঝা যায় দেশটি সম্ভাব্য গেম চেঞ্জার হয়ে উঠছে।
১৯৮০’র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ড্রোন উৎপাদন শুরু করে তেহরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে নানামুখী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটি বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা ও অ্যাটাক ড্রোন তৈরি করছে। যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ইরানের ড্রোন এখন বিশ^ বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো- এসব ড্রোনের দিকে ঝুঁকছে। কারণ তারা চাইলেই অন্য কোন দেশ থেকে ড্রোন কিনতে পারছে না।


