ভিলেজ পলিটিক্সে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে গত ৮-১০ বছরে। আমূল বদলে গেছে বললেও সম্ভবত ভুল হবে না। একটা সময় ভিলেজ পলিটিক্স মানেই ছিলো, সাদা দাড়ি, পাঞ্জাবি-লুঙ্গি পরা মুরুব্বিদের নেতৃত্ব। যুবক নেতাও যে ছিলো না, তা নয়; কিন্তু সেই যুবক নেতারাও আচরণে ছিলেন মুরুব্বিদের মতোই।
তখন পিঠে হাত বুলালেই ভোট পাওয়া যেত। প্রার্থী যদি কোন কৃষকের রান্না ঘরে গিয়ে ভাত খেত কিংবা গৃহিনীর কুশল জানতে চাইতো- ‘তার চেয়ে ভালো মানুষ আর হয় না’; কিন্তু সেসব দিন অতীত হয়ে গেছে। মুরুব্বিদের বদলে নেতৃত্ব এখন ‘ভাই’দের হাতে।
‘ভাই’দের হাত ধরে গ্রামে এখন রাজনীতির নতুন একটি ধারা চলে এসেছে। আমি যেটাকে বলি – পাওয়ার পলিটিক্স। ‘পাওয়ার পলিটিক্স’ মানে মারামারি আর ক্ষমতার জোর নয়। পাওয়ার পলিটিক্স মানে আপনাকে এখন মটর সাইকেল মহড়া দিতে হবে, সোস্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকতে হবে, যে কোন উপলক্ষে ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড টাঙাতে হবে, প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে হবে।
আগে রাজনীতি ছিলো ভোট কেন্দ্রিক, নির্বাচন সামনে এলে গ্রামের রাজনীতি সক্রিয় হতো; কিন্তু এখন বারো মাস রাজনীতি চলে। যারা নেতৃত্ব দেন তাদেরও বারো মাস ‘মাঠে’ থাকতে হয়। ভোটের আগে ঢাকা থেকে এসে প্রার্থী হওয়ার দিন শেষ।
আগে বাড়ির মুরুব্বিরা ঠিক করে দিতেন- পোলাপান কাকে সমর্থন দেবে। অথবা মুরুব্বিদের মতি-গতি দেখে ছোটরা বুঝে যেত তাদের কী করা উচিত; কিন্তু এখনকার ছেলেরা ফ্রেন্ড সার্কেলে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা কার প্রোগ্রামে যাবে। এক্ষেত্রে কে তাদের পার্টি, খেলাধূলা স্পন্সর করে কিংবা এসব কাজে উৎসাহ দেয় তার দিকেই ঝোঁকে তারা।
এখন ১৫ বছরের ছেলেরাও নেতার নামে ব্যানার টাঙায়। নেতার যে কোন উপলক্ষে তারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। তেমনি নেতারও দায়িত্ব হয়ে উঠেছে এই কর্মীদের চাঙ্গা রাখা। নেতাকে তাই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হচ্ছে। আগে মহল্লার ‘মাথা’ লোকটাকে দলে ভেড়াতে পারলে ওই মহল্লার ভোট নিজের পক্ষে নেয়ার সুযোগ ছিলো, কিন্তু এখন কেউ কারো কথায় ভোট দেয় না। তাই নেতাকেও জনে জনে সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়।
তারুণ্যের সময়
এক্ষেত্রে তরুণদের সাথে যার সম্পর্ক বেশি তারাই এগিয়ে থাকে। কারণ এখন তরুণরাই সমাজের ধারাকে প্রবাহিত করে। মুরুব্বির কথায় সমাজ চলে না। এখনকার দিনের ইন্টারমিডিয়েট কিংবা অনার্সে পড়–য়া একটি ছেলে তার পরিবারে সব ভোট এক বাক্সে নিতে পারে। এটা তাদের গুণ কিংবা যুগের বদল।
গত কয়েক দিনে কিছু তরুণের সাথে কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি, তুমি কেন অমুকের পক্ষ নিয়েছো। উত্তরে ভিন্নত ছিলো। তবে বেশির ভাগই মনে করে- তার নেতা তাকে চেনে, খোঁজ-খবর নেয়- এতেই সে খুশি।
এই সম্পর্ক রক্ষাটা পাওয়ার পলিটিক্সের বড় একটা উদাহরণ। এতে যারা এগিয়ে থাকবে তারা ভালো করবে তা বলাই যায়।
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকু : আহমেদ স্টোর


