ইউক্রেন এর ধর্ম কী রাজধানীর নাম কী, দেশটি কোন মহাদেশে অবস্থিত এসব বিষয় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই লেখাটি। আশাকরি আপনার কাজে লাগবে তথ্য গুলো।
ইউক্রেন কোন মহাদেশে অবস্থিত
ইউরোপ মহাদেশের একটি দেশ। এর অবস্থান পূর্ব ইউরোপে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ দেশটি। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের সময় ইউক্রেন স্বাধীনতা ঘোষণা করে। রাশিয়ার পর এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ।
ইউক্রেনের উত্তরে বেলারুশ, পশ্চিমে পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, দক্ষিণ-পশ্চিমে রোমানিয়া ও মলদোভা দেশের অবস্থান। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্বে কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের উপকূল। আর পূর্ব দিকে পুরোটা জুড়েই রাশিয়া।
ইউক্রেন দেশের পরিচিতি
ইউরোপের দেশ হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো জোটের সদস্য নয় ইউক্রেন। দেশটির জনসংখ্যার ৭৮ শতাংশ ইউক্রেনীয়। এছাড়া ১৭ শতাংশের কিছু বেশি রুশ জাতির লোকেদের বসবাস রয়েছে। রুশরা প্রধানত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডোনবাস অঞ্চলে বসবাস করে।

স্বাধীনতার পর ইউক্রেনকে নিয়ে টানা হেচড়া শুরু হয় ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে। দেশটি কোন দিকে ঝুঁকবে সে নিয়েও দ্বিধায় ছিলো বহু বছর। যে কারণে স্বাধীনতার পর শুরুতে তারা নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন করে। তবে একটা পর্যায়ে রাশিয়াপন্থীরা দেশটির ক্ষমতায় আসে। অবশ্য ২০১৪ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে রুশপন্থী সরকার উৎখাত হয় এবং ইউক্রেন পশ্চিমাদের বলয়ে আসে।
ওই বছরই দেশটির ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়। যে কারণে ইউক্রেনের সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাথে আরো বেশি সম্পর্ক গভীর করে।
আরো পড়ুন :
মুসলিম বিশ্বের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক কেমন
ইউরোপের দেশ হলেও ইউক্রেনের অর্থনীতি খুব একটা মজবুত নয়। আন্তর্জাতিক সূচকে দেশটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে গরীব দেশগুলোর একটি ইউক্রেন। জনসংখ্যার ১ শতাংশ বাস করে দরিদ্রসীমার নিচে। দেশটির অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর। সূর্যমূখী ফুল, গম, ভূট্টাসহ বিভিন্ন ধরণের শস্য প্রচুর উৎপাদিত হয় দেশটিতে। এসব শস্য রফাতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশটি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম রফতানি করে ইউক্রেন।
কৃষির পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত পর্যটন। পাহাড়, সমুদ্র আর বৈচিত্রময় ভূপ্রকৃতি দেশটিতে প্রতিবছর প্রচুর বিদেশী পর্যটক ডেকে আনে।
ইউক্রেনের রাজধানীর নাম কি
ইউক্রেনের রাজধানীর নাম কিয়েভ। কিয়েভ পূর্ব ইউরোপের একটি বড় শহর। এটি ইউক্রেনের সবচেয়ে জনবহুল শহর। আর সমগ্র ইউরোপের সপ্তম জনবহুল শহর এটি। জনসংখ্যা ৩০ লাখের আশপাশে। কিয়েভের আয়তন ৮৩৯ বর্গ কিলোমিটার।
রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে আগ পর্যন্ত কিয়েভ অত্যন্ত সাজানো গোছানো শহর ছিলো। তবে যুদ্ধের পর এখন নগরীতে বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসের ছাপ। তার আগে ইউরোপীয় ও সোভিয়েত সংস্কৃতির মিশেলের নান্দনিক এক শহর ছিলো কিয়েভ। নগরীর স্থাপনায় উভয় অঞ্চলের ছাপ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সোভিয়েত যুগের ভাস্কর্য দাড়িয়ে আছে। সেই সাথে হয়েছে অনেক নতুন স্থাপনা।
কিয়েভকে গ্রিন সিটি নামে ডাকা হয়। নগরীতে আছে দুটি বোটানিক্যাল গার্ডেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও সড়কে প্রচুর গাছ দেখা যায়। এ জন্যই বলা হয়, গ্রীষ্মকালে এই নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত গাছের ছায়াতেই হেঁটে যাওয়া যায়। গায়ে রোদ লাগবে না।
কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে আছে স্বাধীনতা স্কয়ার। জায়গাটি গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে। নাগরিকরা সময় কাটাতে এখানে আসে, আড্ডা দেয়, আশপাশের রেস্ট্রুরেন্টগুলোতে খাওয়া দাওয়া করে।
কিয়েছে আছে বেশ কিছু জাদুঘর ও পার্ক। প্রতিটি আবাসিক এলাকায় রয়েছে পৃথক বাজার, ও শপিং মল। মোট কথা আধুনিক জীবনযাবনের সব সুবিধা দিয়েই নগরীটি সাজানো হয়েছে।
ইউক্রেনের আয়তন কত
দেশটির আয়তন ৬ লাখ ৩ হাজার ৬২৮ বর্গকিলোমিটার। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই আয়তন পাল্টে যেতে পারে। কারণ এই লেখা যখন লিখছি ততদিনে ইউক্রেনের লুহানস্ক, ডোনেটস্ক, ঝাপোরিঝিয়া ও খেরসনকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন ভøাদিমির পুতিন।
যদিও ইউক্রেন এখনো এই দাবি মেনে নেয়নি, তারা ক্রিমিয়াকেও এখনো নিজেদের ভূখ- বলে মনে করে। কাজেই যুদ্ধ শেষ হলে কী মীমাংসা হবে, তার ওপর নির্ভর করছে ইউক্রেনের আয়তন আগের মতোই থাকবে, নাকি বদলে যাবে।
ইউক্রেন জনসংখ্যা কত কোটি
২০২২ সালের শুরুর হিসাব অনুযায়ী ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যা ৪ কোটি ১২ লাখের আশপাশে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ৫০ লাখ লোক দেশটি ছেড়ে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার রাশিয়া যে চারটি অঞ্চল দখল করেছে সেখানেও আছে জনসংখ্যার বিরাট অংশ।
জনসংখ্যার ৭৮ শতাংশ ইউক্রেনীয়। এছাড়া ১৭ শতাংশ আছে রুশ। এরা ডোনবাস ও ক্রিমিয়ায় বসবাস করে। জাতিগত রুশরা বেশিরভাগই রুশ ভাষায় কথা বলে।
ইউক্রেন এর ধর্ম
ইউক্রেন এর ধর্ম : ইউক্রেনের জনসংখ্যার প্রধান অংশ ইস্টার্ন অর্থডক্স ধর্মের অনুসারী। বিশ্বের রাশিয়ার পরই দেশটিতে এই ধর্মের অনুসারীদের আধিক্য। এটি খ্রিস্টান ধর্মেরই একটি অংশ। রোমান ক্যাথলিকদের পর সংখ্যার দিক থেকে খ্রিস্টানদের মধ্যে অর্থডক্সরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া প্রোটেস্ট্যান্ড খ্রিস্টানও আছে অল্প কিছু।

আছে ইসলাম, ইহুদি ও হিন্দু ধর্মেরও লোক। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ইউক্রেনে মুসলিম জনগোষ্ঠি দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের এপ্রিলে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের ২০ হাজারের বেশি তুর্কি বসবাস করতো। এছাড়া আছে ক্রাইমিয়ান তাতার জনগোষ্ঠির মুসলিমরা। কিছু আরব, উজবেক, আজেরি ও ইউক্রেনীয় নওমুসলিমও আছে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দেশটিতে ইসলামের আগমন। ইউক্রেনের মুসলিমদের প্রায় সবাই সুন্নী ও হানাফি মাজহাবের অনুসারী। দেশটিতে মসজিদের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
তাতারদের বড় অংশ বসবাস করতো ক্রিমিয়ায়। সেখানে তারা ছিলো জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি রাশিয়া দখল করে নেয়ার পর তাদের বড় অংশ ঝাপোরিঝিয়াসহ ইউক্রেনের অংশগুলোতে চলে যায়।
মাহমুতোভা নামের এক তাতার নারী আলজাজিরাকে বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি ক্রিমিয়া থেকে উচ্ছেদ হতে হবে; কিন্তু ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন অঞ্চলটি দখল করলো, বুঝতে পারলাম সেখানে ধর্ম পালন করা যাবে না। তাই ক্রিমিয়া ছেড়ে চলে আসি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ বাহিনী হামলা চালানোর পর মুসলিমদের অনেকেই মাতৃভুমি রক্ষার লড়াইয়ে নামে। ৪৩ বছর বয়সী মুফতি সাঈদ ইসমাইলভ বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি দেশরক্ষার দায়িত্বে নাম লিখিয়েছি আমরা।
ইউক্রেনের ইহুদি জনসংখ্যার একটি অংশকে ইসরাইল আশ্রয় দিয়েছে। ইসরাইল বিশে^র বিভিন্ন দেশের ইহুদিদের তাদের দেশে আসতে উৎসাহ দেয়। এবার যুদ্ধের অজুহাতে তারা সহ¯্রাধিক ইহুদিকে তারা ইসরাইলে নিয়ে আসতে পেরেছে।
ইউক্রেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কি
ইউক্রেন একটি আধা প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার ব্যবস্থার দেশ। যেখানে কেন্দ্রিয় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে প্রেসিডেন্টের হাতে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি একজন কৌতুক অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। ২০১৯ সালে জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তবে ২০২২ সালে দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মার্শাল ল’ জারিা করা হয়। মার্শাল ল’ বলতে বোঝায়- দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দেয়। এই আইনের অধীনে সেনবাহিনী দেশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
এছাড়া দেশটির সরকার ও মন্ত্রী পরিষদের প্রধানকে বলা হয় প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম ডেনিস শামিহাল।
ইউক্রেন ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা
ইউক্রেনের মুদ্রার নাম রিভনিয়া। আর এর ভগ্নাংশকে বলা হয় কপিয়োক। মানে ১০০ কপিয়োক সমান ১ রিভনিয়া। ১.৭৬ ইউক্রেনীয় রিভনিয়া সমান ১ মার্কিন ডলার। অর্থা ইউক্রেনের ১ টাকা ৭৬ পয়সার বিনিময়ে ১ ডলার পাওয়া যায়।
অন্য দিকে বাংলাদেশের মুদ্রার সাথে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ২০২৩ সালের শুরুতে ১০৩ টাকা সমান ১ মার্কিন ডলার। তাই বাংলাদেশের টাকার তুলনায় ইউক্রেনের মুদ্রার মান অনেক বেশি।
সরাসরি বিনিময়ের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের ১ রিভনিয়ায় বাংলাদেশর ২ টাকার ৮৫ পয়সার মতো পাওয়া যায়। টপিক : ইউক্রেন এর ধর্ম
আমাদের ফেসবুক পেজটিতে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন : আহমেদ স্টোর


