নিপীড়িত মুসলিমদের এক জনপদের নাম চেচনিয়া । রাশিয়ার মুসলিম প্রধান এই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটির রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস। স্বাধীনতার দাবি তোলার জন্য যাদের ওপর অনেকবার চালানো হয়েছে গণহত্যা। কখনো লাখ লাখ মানুষকে পাঠানো হয়েছে নির্বাসনে। চেচেন স্বাধীনতাপন্থীদের দমনের জন্য এমন কোন পন্থা নেই যা গ্রহণ করেনি মস্কোর শাসকরা। আর এত কিছু সহ্য করে এখনো যে সাধারণ চেচেনরা টিকে আছেন তাদের দিন কাটে মস্কোর চাপিয়ে দেয়া কর্তৃত্ববাদী শাসনে। যেখানে ভিন্নমত মানেই শাসক গোষ্ঠির রোষানলে পড়ে জেল-জুলুম।
চেচনিয়ার মুসলিমদের অতীত ও বর্তমান নিয়ে এই প্রতিবেদন।
চেচনিয়া কোথায় অবস্থিত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ার যে ২২টি স্বায়ত্বশাসিত প্রজাতন্ত্র রয়েছে তার একটি চেচনিয়া। পূর্ব ইউরোপের উত্তর ককেশাস পার্বত্য অঞ্চলের এই ভূখণ্ডটি কাস্পিয়ান সাগরের খুব কাছে। চেচনিয়ার দক্ষিণে রয়েছে পূর্ব ইউরোপের দেশ জর্জিয়া। আর পূর্ব দিকে আছে রাশিয়ার দাগেস্তান রিপাবলিক, পশ্চিমে ইঙ্গুশেটিয়া এবং উত্তরে নর্থ ওশেটিয়া রিপাবলিক ও দাগেস্তানের কিছু অংশ। এর মধ্যে দাগেস্তান ও ইঙ্গুশেটিয়া রিপাবলিক দুটোও চেচনিয়ার মতোই মুসলিম প্রধান।
চেচনিয়ার আয়তন ১৭ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার। আর এর জনসংখ্যা ১৪ লাখের আশপাশে। বাসিন্দারা প্রধানত জাতিগত চেচেন। কিছু আছে রুশ, যাদেরকে পরবর্তীতে এই অঞ্চলে বসতি বানিয়ে দিয়েছে মস্কোর শাসকরা। চেচনিয়ার অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম। বাকিরা প্রধানত অর্থডক্স খ্রিস্টান। রাজধানী গ্রোজনি সবচেয়ে বড় শহর। গবেষকদের মতে, অঞ্চলটিতে মানব বসতির এমন কিছু নমুনা পাওয়া গেছে যা অন্তত খ্রিস্টপূর্ব ৪০ হাজার বছর আগের। এই ধারণাটি প্রমাণিত নয়, তবে ৮ হাজার বছর আগের গুহা পেইন্টিং, শিল্পকর্ম ও আরো কিছু প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে সেখানে।
প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ হওয়ার কারণে ককেশাস অঞ্চলের দখল নিয়ে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভিন্ন সম্রাজ্যের মধ্যে লড়াই হয়েছে। রুশ, পারস্য, ওসমানীয় সম্রাজ্যের শাসকরা বিভিন্ন সময় ককেশাস পার্বত্য অঞ্চলের দখল নিয়েছে। তবে চেচেনরা কখনোই রুশদের সহ্য করতে পারেনি। অন্য অনেক পক্ষের সাথেও তাদের লড়াই হয়েছে বহুবার; কিন্তু নিয়তি তাদের শেষ পর্যন্ত সেই রুশ ফেডারেশনের সাথে থাকতেই বাধ্য করেছে। যদিও খুব সহজে চেচনিয়া পরাজয় মানেনি। স্বাধীনচেতা এই জাতিটিকে এ জন্য চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। বিভিন্ন যুগে তাদের ওপর চলেছে বর্বরতা। অসংখ্য চেচেন মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে আধিপত্যবাদের বিরোধীতা করার জন্য।
চেচনিয়ার ইতিহাস
রুশ শাসক পিটার দ্য গ্রেট তার সম্রাজ্য ককেশাস অঞ্চলে সম্প্রসারিত করার মিশন শুরু করলে ১৭২২ সালে পারস্যের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত আশপাশের অনেক অঞ্চল রুশ সম্রাজ্যের অধীনে এলেও চেচেনরা রুশদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। কয়েক বছর পর দ্বিতীয় দফা আক্রমণ করেও তারা ব্যর্থ হয়। ১৭৮৫ সাল থেকে রুশদের সম্প্রসারণনীতির বিরুদ্ধে মুসলিমরা চেচেন নেতা মনসুর উশুরমা’র বিদ্রোহ অব্যাহত রাখে। পুরো ককেশাস অঞ্চল নিয়ে একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কায়েম করার লক্ষ্য ছিলো এই চেচেন নেতার। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হতে পারেননি। ১৭৯৪ সালে রুশদের হাতে আটক হলে মনসুর উশুরমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
১৮০৪ সালের যুদ্ধের পর ককেশাসের আরো অঞ্চল পারস্যের কাছ থেকে দখল নেয় রুশরা। তখন রুশদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন ইমাম শামিল। জার শাসকরা চেচেন ও ইঙ্গুশদের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরও পরাজিত করতে না পেরে তাদের দেশ ছেড়ে ওসমানীয় সম্রাজ্যের এলাকায় চলে যাওয়ার সুযোগ দেন। প্রাণ বাঁচাতে ৮০ শতাংশ লোক এলাকা ছাড়ে। তবে তারপরও বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই অব্যাহত রাখে অজেয় চেচেন যোদ্ধারা।
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বিপ্লবের গোলমালের সময় চেচনিয়া, দাগেস্তান ও ইঙ্গুশেটিয়াসহ উত্তর ককেশাসের বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়; কিন্তু ১৯২১ সালে সোভিয়েত শাসকদের বাহিনী আক্রমণ করে অঞ্চলটি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে একীভূত করে নেয়। কিছুটা স্বায়ত্বশাসন দেয়া অঞ্চলটিকে।
আবার শুরু হয় ককেশাসের মুসলিমদের স্বাধীনতার লড়াই।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক চেচেন ও ইঙ্গুশ যোদ্ধা রুশ বাহিনীর হয়ে হিটলারের বাহিনীর বিপক্ষে লড়াই করে। তাদের বেশ কয়েকজনকে সোভিয়েত হিরো উপাধিও দেয়া হয়; কিন্তু ১৯৪৪ সালে সোভিয়েত শাসকরা তাদের ওপর জার্মানিকে সহযোগিতার অভিযোগ আনে এবং আবারো দেশ ছাড়া করা হয় চেচেন ও ইঙ্গুশদের। এবার তাদের পাঠানো হয় কাজাখস্তানে। আর তাদের বসতবাড়িতে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্য অঞ্চল থেকে লোকদের এনে বাস করতে দেয়া হয়।
চেচনিয়ার রাজধানীর নাম গ্রোজনি

৫ লাখের বেশি মানুষকে নির্বাসিত করা হয়েছিল চেচনিয়া থেকে। পথে প্রচণ্ড ঠণ্ডায় অনেকের মৃত্যু হয়, আবার সোভিয়েত বাহিনীও বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে। ইতিহাসে যেটি অপারেশন লেন্টিল নামে পরিচিত। চেচনিয়ার গবেষণাগার ও লাইব্রেরিগুলোকে ধংস করা হয় সে সময়। জমি-জমা সরকারি দখলে নেয়া হয়।
জোসেফ স্টালিনের মৃত্যুর পর- পরবর্তী সোভিয়েত শাসকরা নির্বাসিত নাগরিকদের দেশে ফেরার সুযোগ দেয়; কিন্তু নিজ জন্মভূমিতে ফিরে তাদের পরতে হয় দখলদার রুশ নাগরিকদের বিরোধীতার মুখে। সোভিয়েত সরকারও তাদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে রাখে। এভাবেই কেটে যায় কয়েক যুগ। তবে থামে চেচেনদের স্বাধীনতা আন্দোলন।
চেচনিয়ার মুসলিম
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে দীর্ঘকালের রুশ দুঃশাসনের কবল থেকে পরিত্রাণ লাভের আশায় স্বাধীনচেতা চেচেনরা গণভোটের আয়োজন করে। অধিকাংশ জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে চেচেন রিপাবলিক অব ইচকেরিয়া নামের স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে চেচনিয়া । নতুন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন সাবেক সোভিয়েত জেনারেল জোখার দুদায়েভ; কিন্তু তৎকালীন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেৎসিন চেচনিয়া র স্বাধীনতা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ১৯৯৪ চেচনিয়ায় প্রেসিডেন্টের শাসন জারি করে সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। শুরু হয় যুদ্ধ, যা ইতিহাসে প্রথম চেচেন যুদ্ধ নামে পরিচিত।
রুশ বাহিনী কিছুদিন চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনি দখল করে রেখেছিলো। সে সময় তারা চেচেনদের ওপর হত্যা, ধর্ষণসহ ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ করে। তবে শেষ পর্যন্ত চেচেন স্বাধীনতাকামীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে আগ্রাসী রুশ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন চেচেন কমান্ডার শামিল বাসায়েভ ও সৌদি মুজাহিদ নেতা ইবনে আল খাত্তাব। আল খাত্তাবের অভিনব যুদ্ধ কৌশল আর শামিল বাসায়েভের সাহকিতা দুইয়ে মিলে নাস্তানুবাদ করে রুশ বাহিনীকে।
চেচেন বাহিনীর জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে যোদ্ধা ও তহবিল সংগ্রহে আল খাত্তাবের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিলো। তিনি রুশ বাহিনীর ওপর বিভিন্ন হামলার দৃশ্য ভিডিও করে সেগুলো প্রকাশ করতেন। যার ফলে চেচেন বিদ্রোহীদের বীরত্বের কথা রুশ বাহিনী চাইলেও গোপন করতে পারতো না। যার কারণে এই আরব যোদ্ধাকে দুটি বীরত্বপূর্ণ চেচেন সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়া আফগানিস্তান, তাজিকিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিকামী মুসলিমদের হয়ে লড়াই করেছেন তিনি। ২০০২ সালে রাশিয়ার গোয়েন্দা বাহিনী বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট মাখানো চিঠি পাঠিয়ে তাকে হত্যা করে।
চেচনিয়ার মানচিত্র

যুদ্ধ থামলেও চেচেন আর রুশ বাহিনীর মাঝে বিচ্ছিন্ন লড়াই চলতে থাকে; কিন্তু রুশরা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ১৯৯৯ সালে চেচেন বিদ্রোহীরা দাগেস্তানকে চেচনিয়ার সাথে একীভূত করে নিতে চাইলে আবার অস্থিরতা শুরু হয়। মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে কিছু হামলার ঘটনার জন্য দায়ী করা হয় চেচেন বিদ্রোহীদের। সেসময় রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সদ্য দায়িত্ব নেয়া ভ্লাদিমির পুতিন চেচনিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করেন। এবার বিমান হামলায় পুরো অঞ্চলটিকে বিধ্বস্ত করে দেয় রুশ বাহিনী। নিহত হয় অসংখ্য বেসামরিক চেচেন। রাজধানী গ্রোজনি দখলে নেয় রুশ বাহিনী।
২০০০ সালে চেচেন বিদ্রোহীদের কমান্ডার আখমদ কাদিরভকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয় মস্কো। ভ্লাদিমির পুতিনের দেয়া প্রোলোভনে স্বাধীনতাকামীদের ত্যাগ করেন এবং চেচনিয়ার আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট পদে বসেন তিনি। কাদিরভ স্বাধীনতা আন্দোলন ত্যাগ করার কারণেই মূলত বিদ্রোহীরা বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং রুশ বাহিনী চেচনিয়া দখল করে নেয়। এরপর স্বাধীনতাকামীদের ওপর রুশ বাহিনীর নির্মম অভিযান চলতেই থাকে।
কাদিরভ এক বিশ্বাসঘাতকের নাম
আখমদ কাদিরভের নেতৃত্বে চেচনিয়াকে সায়ত্বশাসন দেয় পুতিন সরকার। তাকে অঞ্চলটিকে কিছু ইসলামিক আইন চালুর সুযোগও দেয়। তবে শর্ত ছিলো একটাই- মস্কোর আনুগত থাকতে হবে এবং স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করতে হবে। মূলত এই কৌশল খাটিয়ে কাদিরভ সাধারণ চেচেনদের একটি বড় অংশের সমর্থন আদায় করেন। অন্যদিকে স্বাধীনতাকামীদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রাখেন। স্বাধীনতাকামীরা কাদিরভকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যায়িতক করে এবং ২০০৪ সালে বোমা হামলায় তাকে হত্যা করে।
সে সময় পিতার নিরাপত্তায় গঠিত বিশেষ বাহিনীর প্রধান ছিলেন তার ছেলে রমজান কাদিরভ। ২০০৭ সালে রমজানকে প্রেসিডেন্ট বানায় রাশিয়ার সরকার। রমজানের বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে অঞ্চলটিতে ভিন্নমতের লোকদের ওপর ব্যাপক দমন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। গুম, খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক অপরাধ ঘটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ফ্রিডম হাউজ মানবাধিকার র্যাঙ্কিংয়ে চেচনিয়াকে ‘খারাপের খারাপ’ ক্যাটাগরিতে স্থান দেয়।
যে তালিকায় আরো আছে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারের মতো দেশ। তবে পিতার মতোই মস্কোর নিঃশর্ত আনুগত্য করার কারণে রমজান কাদিরভের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। আবার পাশাপাশি কিছু মুসলিম আইনও সেখানে কায়েম রয়েছে। অনেকে যেটিকে বলছেন, সাধারণ মুসলিমদের মন জয় করার কৌশল।
আজকের চেচনিয়া
একের পর এক যুদ্ধে চেচনিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। এখন অঞ্চলটির বাজেটের বড় অংশ বরাদ্দ দেয়া হয় মস্কো থেকে। ২০১৭ সালের হিসাব মতে, চেচনিয়ার ৫৯ বিলিয়ন রুবল বাজেটের ৪৯ বিলিয়নই দেয়া হয়েছে রাশিয়ার ফেডারেল বাজেট থেকে। ২০০০ সালের পর থেকে সেখানকার অর্থনীতিতে কিছুটা উন্নতির ছাপ লক্ষণীয়। তথাপি সেখানে এখনো ২০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার। মস্কো চাইছে চেচনিয়াকে নতুন করে গড়ে তুলে সেখানকার ধ্বংসস্তুপকে ঢেকে দিতে। চেষ্টা করছে চেচনিয়ার নতুন প্রজন্মকে নির্যাতনের ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে; কিন্তু চেচেন মুসলিমদের ওপর যে রক্তবন্যা বয়ে গেছে তার দাগ মাটি থেকে মুফে ফেলা হলেও বিশ্ব ইতিহাস আর মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে জেগে থাকবে চিরকাল।
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ স্টোর
০৭-১০-২০২১


