চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। পেলোসির তাইওয়ান সফর কে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই হুমকি দিয়েছে চীন। যে কারণে পেলোসিকে তার সফরের ঝুঁকি সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বিশ্ব রাজনীতির এই টালমাটাল সময়ে তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, তাইওয়ান সফর না করতে। তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন স্পিকারের সাথে।
সিনএনএন জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এশিয়া সফর শুরু করবেন মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার। এই সফরকালে তার তাওয়ান যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই সফরসঙ্গী হওয়ার জন্য তিনি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট এমপিদের দাওয়াত করতে শুরু করেছেন।
কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা ভাবছেন, এই সফর হলে চীন সামনের দিনগুলোতে দ্বীপটির বিষয়ে আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে।
সিএনএন লিখেছে, ইউক্রেন যুদ্ধই মূলত এই সফর নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া দেখে চীন কী শিক্ষা নেয়- জো বাইডেন এবং তার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সেটাই পর্যবেক্ষণ করছেন।
হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা শুধু যে পেলোসির নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তিত তাই নয়, চীন এই সফরের কারণে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটাও তাদের ভাবচ্ছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, চীন গত দুই বছর ধরে অর্থনৈতিকভাবে যে সঙ্কটের মোকাবেলা করছে সেটি কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে হলে প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক বিজয়। কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনের আগে পেলোসির সফরকে ঘিরে জিনপিং তেমন কিছু করবেন কি না সেই চিন্তায় পড়েছেন মার্কিন নীতি নির্ধারকরা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাইওয়ান নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। চীন প্রায়ই তাইওয়ান প্রণালীতে যুদ্ধাজাহাজ পাঠাচ্ছে। বেশ কয়েকবার দ্বীপটির আকাশে ঢুকেছে চীনা যুদ্ধবিমান। পেলোসির সফরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই বেইজিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মঙ্গলবার চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সফর বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, চীনের সামরিক বাহিনী অবশ্যই তার অখ-তার বিরুদ্ধে তৎপরতা প্রতিহত করবে।


