সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া। হাজার দ্বীপের দেশ। সাগর, পাহাড় আর আগ্নেয়গিরির দেশও ইন্দোনেশিয়া। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি যেখানে প্রতিদিন উদগিরণ করে লাভা। সুনামী, আর ভূমিকম্পের ভয়ও যেখানে নিত্যসঙ্গী। কোন ছোটখাট রেস্ট্রুরেন্টে সকালের নাস্তা করতে গেলেও যেখানে খরচ হয়ে যেতে পারে কয়েক হাজার রুপিয়া। এক লিটার দুধ বা এক হালি ডিম কিনতে গেলেও খালি হয়ে যেতে পারে আপনার পকেট। যে কারণে ইন্দোনেশিয়া ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন অনেকে। বিশ্বের রোমান্টিক ডেস্টিনেশন হিসেবে খ্যাত বালি দ্বীপই বা কেমন?
চলুন জেনে নেই ইন্দোনেশিয়া আরো অনেক কিছু-
ইন্দোনেশিয়ার আয়তন কত
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটি। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর দিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া আর পূর্বে পাপুয়া নিউগিনি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান প্রধান দ্বীপগুলোর মধ্যে রয়েছে সুমাত্রা, জাভা, বর্নিও, সুলাওয়েসি, নিউ গিনি। এর মধ্যে নিউ গিনি দ্বীপটি বিশ্বের দ্বিতীয় বহত্তম দ্বীপ। তবে এই দ্বীপের সবটা ইন্দোনেশিয়ার নয়। দ্বীপের পূর্ব দিকের অর্ধেকটা নিয়ে গঠিত আরেকটি স্বার্বভৌম রাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনি। দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশটি পাপুয়া নামে পরিচিত।
দেশটির মোট দ্বীপ সংখ্যা ১৭ হাজারের বেশি হলেও মানব বসতি আছে ৬ হাজারের মতো দ্বীপে। অনেক দুর্গম দ্বীপ আছে যাতে এখনো মানুষের পা পড়েনি। তাই ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপের সঠিক সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক আছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভাষা
দেশ : ইন্দোনেশিয়া, রাজধানী : জাকার্তা, স্বাধীনতা লাভ : ১৭ আগস্ট ১৯৪৫
আয়তন : ১৯ লাখ ৪৫৬৯ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা : ২৬ কোটি ৭৭ লাখ (প্রায়), জাতীয়তা : ইন্দোনেশিয়ান
অফিশিয়াল ভাষা : ইন্দোনেশিয়ান, মুদ্রা : ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া
ধর্ম : ৮৭ শতাংশ মুসলিম, ১১ শতাংশ খ্রিস্টান, ১.৭ শতাংশ হিন্দু, বাকিরা অন্যান্য
সরকার ব্যবস্থা : প্রেসিডেন্সিয়াল, পার্লামেন্ট : পিপলস কনসালটেটিভ এসেম্বেলি (দুই কক্ষ বিশিষ্ট)
প্রদেশ : ৩৪টি, শিক্ষিতের হার : ৯৫ শতাংশ
ইন্দোনেশিয়ায় মানব বসতির ইতিহাস কয়েক লক্ষ বছরের পুরনো। ১৮৯১ সালে দ্বীপ দেশটিতে জাভা ম্যান নামের প্রাচীন যুগের মানুষের ফসিল আবিস্কৃত হয়। গবেষকদের মতে যাদের বসবাস ছিলো ৭ থেকে ১০ লক্ষ বছর পূর্বে।
ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সুমাত্রা দ্বীপে মুসলিমদের আগমন ঘটে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উন্নত সভ্যতা আর সংস্কৃতিকে খুব সহজেই আপন করে নেয় এখানকার বাসিন্দারা। এরপর পাশ্ববর্তী দ্বীপগুলোর মানুষও দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকলে ষোড়শ শতাব্দীতে মধ্যে মুসলিম প্রধান দেশ হয়ে ওঠে ইন্দোনেশিয়া। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম প্রধান দেশ এটি।
দেশটিতে মুসলিমদের সংখ্য ২৩ কোটিরও বেশি।
তবে ষোড়শ শতাব্দীতে ব্যবসায়ী বেশে আসা ওলন্দাজরা ধীরে ধীরে দেশটিতে ঔপনিবেশিক শাসনের বীজ বোনে। ১৮০০ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ নামে নেদারল্যান্ডের উপনিবেশে পরিণত হয় ইন্দোনেশিয়া। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি দখলে নেয় জাপান। তিন বছরের জাপানের দখলে থাকে এবং জাপানের আত্মসমর্পনের পর আত্মপ্রকাশ করে স্বাধীন দেশ হিসেবে।
কয়েক হাজার পৃথক ভূখণ্ড ও বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আগমনের কারণে ইন্দোনেশিয়া জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের দেশ। তিনশোর বেশি জাতিগোষ্ঠি রয়েছে দেশটিতে, যাদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। এসব সংস্কৃতি কোনটি স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা কোনটি বা বিদেশীদের দ্বারা প্রভাবিত। জাতিগত গোষ্ঠিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাভানিজরা। তারা সংখ্যায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি। আর আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে ৭০০টিরও বেশি। দেশটির প্রধান প্রধান দ্বীপগুলো হলো সুমাত্রা, জাভা, বর্নিও, সুলাওয়েসি, নিউগিনি।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর নাম কি
আয়তনে সুমাত্রা সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলেও ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপ জাভা। জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি লোক বাসকরে জাভা দ্বীপে। সংখ্যায় যা ১৪ কোটির বেশি এবং মোট জনসংখ্যার ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অবশ্য শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দ্বীপও জাভা। জাভাকে ঘিরে চারপাশের অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপেও আছে ৪০ লাখ মানুষের বসবাস।

ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু জাভা। দ্বীপটি যেমন মুসলিম সালাতানাদের কেন্দ্র ছিলো, তেমনি হিন্দু-বৌদ্ধ রাজবংশ কিংবা ঔপনিবেশিক ডাচ শাসনেরও কেন্দ্র ছিলো। আবার ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক ধ্বংসযজ্ঞে অনেক স্মৃতিও ধারণ করে আছে দ্বীপটি। জাভা দ্বীপের উত্তর পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত রাজধানী শহর জাকার্তা।
জাপানোর টোকিওর পর বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহর এটি। বাস করে সাড়ে তিন কোটির বেশি লোক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সেক্রেটারিয়েট অবস্থিত এই শহরে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার অপূর্ব সমন্বয়ের এক নগরী জাকার্তা।
প্রাচীন বাতাভিয়ার পথঘাট কিংবা স্থাপনাগুলো মনে করিয়ে দেবে ইন্দোনেশিয়ার ডাচ ঔপনিবেশিক অতীতের কথা। আবার আধুনিক মেন্টাং এলাকা যেন উন্নত বিশ্বের কোন বিলাসবহুল নগরী। আকাশচুম্বী দালান, হোটেল, রেস্তোরা, বার, নাইটক্লাব কি নেই সেখানে! ঢুকলেই কানে ভেসে আসবে গানের আসরের সুরের মূর্ছনা। আছো বড় বড় বিপনীবিতান।
আরো পড়ুন :
আফগানিস্তানের হিন্দু জনসংখ্যা, কেমন আছেন তারা
ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী
অবশ্য জাকার্তা থেকে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী সড়িয়ে নেয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সরকার। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার বৃদ্ধির কারণে জাকার্তা ক্রমশ বন্যাপ্রবণ হয়ে পড়ছে। সমুদ্রের পানি সামান্য বাড়লেও ডুবে যায় জাকার্তার অনেক এলাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যেভাবে বাড়ছে তাতে জাকার্তা ভবিষ্যতে পানির নিচে চলে যেতে পারে। তাই ইন্দোনেশিয়ার সরকার বর্নিও দ্বীপের পূর্ব কালিমানতান এলাকায় রাজধানী সড়িয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ২০১৯ সালের আগস্টে।
সেখানে একটি খালি জায়গায় গড়ে তোলা হবে নতুন শহর। ২০২৪ সাল নাগাদ নতুন শহরে রাজধানী স্থানান্তরিত হবে। বর্নিও দ্বীপটি অবশ্য পুরোটা ইন্দোনেশিয়ার নয়। এর উত্তরাঞ্চলটি মালয়েশিয়ার ভূখ-। বর্নিও দ্বীপের যে অংশ মালয়েশিয়ার অন্তর্ভূক্ত তা মালয়েশিয়ার মূল ভূখ-ের চেয়েও বড়। এরই মাঝে আবার আবার রয়েছে ছোট্ট দেশ ব্রুনাই। সে হিসেবে আয়তনে বিশাল বর্নিও দ্বীপটি তিনটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশের ভূখ-।
ইন্দোনেশিয়া ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা
ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। ওই অঞ্চলের একমাত্র জি-টোয়েন্টি সদস্য দেশ এটি। বিশেষ করে গত কয়েক দশকে দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে প্রচুর পরিমাণে। হচ্ছে ব্যাপক শিল্পায়ন। তেল গ্যাস, কয়লা ও স্বর্ণের খনি রযেছে দেশটিতে।
যার কারণে এক সময়ের কৃষিপ্রধান অর্থনীতি ক্রমেই শিল্প নির্ভর হয়ে উঠছে। তবে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হতে থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রার মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে খুবই কম। ১ মার্কিন ডলার সমান প্রায় ১৪৬০০ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া। বাংলাদেশের এক টাকার বিপরীতে যা ১৭২ রুপিয়া। অর্থাৎ বাংলাদেশের এক টাকা সমান ইন্দোনেশিয়ার ১৭২ রুপিয়া। দেশটিতে গিয়ে কোন চাকরিজীবী এক কোটি রুপিয়া বেতন পেলে, বাংলাদেশী মুদ্রায় হবে ৭২ হাজার টাকার কিছু বেশি।
আরেকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।
ইন্দোনেশিয়ার ২০০০০ টাকা সমান বাংলাদেশের ১৪৪ টাকা
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি
ছোট বড় অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্রময়। দেশটিতে পাহাড় আর আগ্নেয়গিরি রয়েছে অনেক। ইন্দোনেশিয়ায় রয়েছে চারশোর বেশি আগ্নেয়গিরি, যার মধ্যে ১৩০টি জীবন্ত। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের বড় কারণ হয়ে দেখা এসব আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগিরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ভূমিকম্প প্রবণ দেশও এটি। ইন্দো-এশিয়া প্লেট ও প্যাসিফিক প্লেটের মধ্যখানে রিং অব ফায়ারে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগলিক অবস্থান হওয়ার কারণে ভূমিকম্প, সুনামী ও অগ্নুৎপাতের ঘটনা বেশি হয় দেশটিতে।
জাভা দ্বীপের পূর্ব জাভা এলাকার সেমেরু ও মাউন্ট ব্রমো ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত দুটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। ব্রমোর আগ্নেয়গিরিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। ব্রমোতে সর্বশেষ ২০১০, ১১ ও ২০১৫ সালে বড় ধরনের অগ্নুৎপাত হয়েছে। আর সেমেরুতে প্রতি ২০ মিনিট পরপরই ছোট আকারের অগ্নুৎপাত চলে। এখানে সাম্প্রতি সময়ে বড় ধরনের অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

তবে বিপজ্জনক হওয়া সত্ত্বেও এই দুটি পবর্ত ইন্দোনশিয়ায় ভ্রমণকারী বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্পট। দেশীয় পর্যটকদের সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে দেশী বিদেশী পর্বতারোহীদের কাছে এই দুটি পর্বত পছন্দের তালিকার শুরুতেই থাকবে। একই সাথে পর্বতারোহোন ও আগ্নেয়গিরি দেখার দুই সুযোগ লুফে নিতে এই দুটি জায়গায় ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
বালি দ্বীপ ভ্রমণ
অবশ্য ইন্দোনেশিয়ার পর্যটনের কথা উঠলে সবার আগে আসবে বালি দ্বীপের নাম। এটি একটি প্রদেশ। জাভা দ্বীপের কাছেই বালি দ্বীপটি সাড়া বিশ্বের পর্যটকদের কাছেই অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশেষ করে নবদম্পতি কিংবা রোমান্টিক জুটির কারছে বালি যেন একখ- স্বর্গ। সাগর, পাহাড়, ঝর্ণা, আগ্নেয়গিরি- সব কিছু মিলে নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের আধার বালি দ্বীপ।
বালির কিউটা, নুসার দুয়া কিংবা সানুর সৈকতে মধুচন্দ্রিমার জন্য নবদম্পতির আনাগোনা তাই বারো মাসই দেখা যায়। সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জন্যও বালির খ্যাতি রয়েছে। সার্ফিংসহ বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য বিখ্যাত এসব সৈকত। উবুদ নামের একটি গ্রাম রয়েছে বালি দ্বীপে। যেখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি কাটাতে আসেন ইউরোপীয় পর্যটকরা। মাসের পর মাস রিসোর্ট ভাড়া করে নিরিবিল ছুটি উপভোগ করেন তারা।
উবুদে পর্যটকদের জন্য সারা বছরই শিল্প-সংস্কৃতির নানা আয়োজন থাকে। মাউন্ট বাটুর ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি দেখতে যান অনেকে। ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য এটি। বালি দ্বীপেই আয়োজন করা হয়েছিল ২০১৩ সালে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতা।
জাভা দ্বীপের ইয়োগিয়াকার্তা এলাকার বরুবুদুর বৌদ্ধ মন্দির ইন্দোনেশিয়ার আরেকটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। ৮ম শতাব্দীতে ৭৫ বছর সময় নিয়ে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাতের কারণে এই এলাকার নাগরিকরা অন্যত্র চলে যাওয়ায় কয়েকশ বছর এটির কথা কেউ জানতো না। অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি পুণরায় আবিস্কৃত হয়।

কমোডো ড্রাগন Comodo Dragon
কমোডো ন্যাশনাল পার্কটি বিখ্যাত কমোডো ড্রাগনের জন্য। কমডো, পাদার, রিনকাসহ ২৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত লেসের সুন্ডা দ্বীপপুঞ্চে রয়েছে কমোডো ন্যাশনাল পার্ক। বিশ্বের বৃহত্তম সরীসৃপ বিষাক্ত এই প্রাণীটির ৬৮ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। লম্বা হয় তিন মিটার পর্যন্ত। এদের বিষ মানুষসহ বিশাল আকৃতির প্রাণীদের ঘায়েল করতে যথেষ্ট। কমোডোর বিষ খুব সামান্য সময়ের মধ্যেই শিকারের হৃদযন্ত্র অকেজো করে ফেলতে পারে। এরা সাপের মতো নিজের থেকে আকারে বড় শিকারকেও গিলে ফেলতে পারে।
এছাড় গিলি আইল্যান্ডস, তোরাজা ল্যান্ড, নতুন রাজধানীর জন্য প্রস্তাবিত কালিমান্তান কিংবা পাহাড়ের বুক চিড়ে চলে যাওয়া তোবা লেক দর্শকদের আকর্ষণ করে। বর্নিও দ্বীপের ওরাংওটাংদের না দেখলে ইন্দোনেশিয়ার জীববৈচিত্র সম্পর্কে ধারণা অস্পষ্টই থেকে যেতে পারে।
নান্দনিক সৌন্দর্য আর নাগরিকদের আতিথিয়েতাই পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়াকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। পর্যটন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম একটি চালিকা শক্তি। ২০১৮ সালের এক হিসেবে দেখা গেছে দেড় কোটির বেশি পর্যটক ওই বছর ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করেছে। টপিক : ইন্দোনেশিয়া ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা
লেখকের ফেসবুক পেজে যুক্ত হতে লাইক দিন : আহমেদ
২৩-০৭-২০২০


