ব্রুনাইয়ের টাকার মান

ব্রুনাইয়ের সুলতান ও তার প্রাচুর্যে ভরা দেশ

পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট এক দেশ ব্রুনাই। ছোট হলেও দেশটিতে প্রাচুর্যের অভাব নেই। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশটির মানুষের জীবনযাত্রা বিশ্বে প্রথম সাড়ির। সাজানো-গোছানো পরিপাটি দেশটিতে আছে বিশাল এক রাজপরিবার, যারা সাড়ে ছয়শো বছর ধরে শাসন করছে। ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান আল বলখিয়া।

সুলতানের একক শাসন চললেও সাধারণ মানুষের খুব একটা অভিযোগ নেই সেসব নিয়ে। কারণ সুলতান তাদের দিয়েছেন সব সুবিধা। ব্রুনাইয়ের মানুষরা খুবই অতিথিপরায়ন ও আন্তরিক। সব কিছু মিলে কেমন দেশ ব্রুনাই, কেমন তার রাজপরিবার- সেসব নিয়েই আলোচনা করবো এই ভিডিওতে।

ব্রুনাই কোন মহাদেশে অবস্থিত

প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের মাঝখানে যে দ্বীপপুঞ্জ, সেখানেই বিশাল এক দ্বীপ বর্নিও। আয়তনে দ্বীপটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। দ্বীপের বেশির ভাগ অংশই ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার দখলে। তবে দ্বীপটির যেদিকে দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূল সে দিকটায় রয়েছে ছোট্ট একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। দেশটির নাম ব্রুনাই। অফিশিয়াল নাম নেশন অব ব্রুনাই, দ্যা অ্যাবোড অব পিস।

ব্রুনাই ম্যাপ
ব্রুনাই দেশটি দুই ভাগে বিভক্ত, মাঝখানের অংশটুকু মালয়েশিয়ার একটি জেলা

স্থানীয় ভাষায় নেগারা ব্রুনাই দারুসসালাম। আয়তনে ছোট দেশ হলেও ব্রুনাই আবার দুইভাগে বিভক্ত। মালয়েশিয়ার একটি জেলা বিচ্ছিন্ন করেছে এর দুই অংশকে। আরবি দারুসসালাম শব্দের অর্থ শান্তির নীড়। মাত্র ৫ হাজার ৭৬৫ বর্গকিলোমিটারের দেশটি আসলেই খুব শান্তিপূর্ণ। যার সাড়ে চার লক্ষ বাসিন্দার রয়েছে নির্ঝঞ্ঝাট আর সুখী জীবন।

ব্রুনাই ভিসা
এই মানচিত্রে বুঝতে সুবিধা হবে ব্রুনাইয়ের আয়তন ও অবস্থান সম্পর্কে

সাড়ে ছয়শো বছর ধরে দেশটি শাসন করে আসছে একটি রাজপরিবার। এখনো বিশ্বে টিকে থাকা অল্পকিছু পরিপূর্ণ রাজশাসনের একটি ব্রুনাই। অফিশিয়ালি ব্রুনাইয়ের শাসককে বলা হয় সুলতান। সুলতানের একক শাসন নিয়ে বাসিন্দাদের মাঝে চাপা অসন্তোষ থাকলেও অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও অন্যন্য দিক থেকে জীবন যাপন খুবই উন্নত দেশটিতে। বিশ্বের উন্নত দেশের তালিকায় উপরের দিকেই নাম আছে ব্রুনাইয়ের।

যে কারণে তারা শাসন পদ্ধতি নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতেও চান না। ব্রুনাইয়ের বাসিন্দাদের কোন কর দিতে হয় না। নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা পুরোপুরি ফ্রি দেশটিতে। আবার কখনো কখনো বিশেষ উপলক্ষে সুলতান নাকি নাগরিকদের নগদ অর্থ উপহারও দেন!

ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান আল বলখিয়া

এতসব সুযোগ সুবিধা পেয়েই হয়তো নাগরিকরা দেশ শাসনের বিষয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন। দেশটির বর্তমান সুলতান হাসানাল বলকিয়া। ব্রুনাই সালতানাতের ২৯তম সুলতান তিনি। ১৯৬৭ সালে পিতা তৃতীয় ওমর আলী সাইফুদ্দিনের অবসরের পর তিনি সিংহাসনে আরোহন করেন। ব্রিটিশ রয়াল মিলিটারি একাডেমিতে শিক্ষা নেয়া সুলতান বলকিয়া ইতোমধ্যেই দেশ শাসনের ৫৩ বছর পার করেছেন।

ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু পর তিনিই এখন বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি সিংহাসনের অধিকারী। বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সী সুলতান বলকিয়া একই সাথে দেশটির প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও নিজের কাছে রেখেছেন। তার রয়েছে নির্বাহী ক্ষমতা। মোট কথা ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্র শাসনে সুলতানই সর্বেসর্বা।

মুসলিম প্রধান দেশটিতে তিনি চালু করেছেন কঠোর ইসলামিক আইন। ১৯৮৪ সালে ব্রুনাই ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ব্রিটিশ আইন চললেও সুলতান বলকিয়া ধীরে দেশে ইসলামিক অনেক আইন চালু করেন। স্থাপন করেছেন অনেক মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

ব্রুনাই সালতানাত

ব্রুনাইয়ের সালতানাদের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান মাহমুদ শাহ। ১৩৬৩ সালে তিনি এই সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। মাহমুদ শাহের পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিলো আগওয়ান আল বেতাতার। শাসন প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরেই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বিয়ে করেন তেমাসিক রাজকন্যাকে। আজকের সিঙ্গাপুরের তৎকালীন নাম ছিলো তেমাসিক। সুলতান মাহমুদ শাহের প্রধান সহযোগী ছিলেন তার দুই ভাই।

ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে স্প্যানিশদের আগমন ঘটে। স্প্যানিশদের সাথে যুদ্ধ হয় সুলতানদের। তবে স্প্যাশিরা অঞ্চলটিকে দখল করতে না পারলেও তাদের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বহু বছর ধরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলতে থাকে। এই সঙ্ঘাতের সূত্রধরেই দেশটিতে ব্রিটিশদের আগমন। ব্রিটিশদের সহযোগিতায় রাজপরিবার বিদ্রোহ দমনে সফল হয়। নানান কৌশলে ব্রিটিশরা এক পর্যায়ে ব্রুনাইকে আশ্রিত রাজ্যে পরিণত করে।

শাসনভার সুলতানের হাতে থাকলেও পররাষ্ট্র নীতি ও নিরাপত্তার দিকটি দেখতো ব্রিটেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেশটি জাপাানের দখলে গেলেও যুদ্ধের শেষ দিকে জাপানিদের বিতাড়িত করে মিত্র শক্তি। ১৯৫৯ সালে স্বশাসনের অধিকার দিয়ে ব্রুনাইয়ের সংবিধান প্রণয়ন হয় ব্রিটিশদের সহায়তায়।

ওই সময় ব্রুনাইয়ের মালয়েশিয়ার সাথে যোগ দেয়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে ১৯৬২ সালে একটি বিদ্রোহ সংগঠিত হয় বর্নিও দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের আরো কিছু এলাকা নিয়ে একটি স্বাধীন দেশ গঠনের জন্য। ব্রিটিশদের সহায়তায় বিদ্রোহ দমনের পর তৎকালীন সুলতান মালয়েশিয়ার সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। ’৬৭ সালে বর্তমান সুলতান হাসানাল বলকিয়া সিংহাসনে বসেন।

১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রুনাই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে স্বাধীনতার পরও ব্রিটেনের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলছে দেশটি। ব্রুনাইয়ে আছে ব্রিটেনের একটি সামরিক ঘাঁটি। ব্রুনাইয়ের অফিশিয়াল ভাষা ইংরেজী ও মালয়। দেশটির বাসিন্দাদের মাঝেও ৬৬ শতাংশ মালয়, ১০ শতাংশ আছে চীনা। আর ৬৭ শতাংশ মুসলিমদের দেশে আছে বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান যথাক্রমে ১৩ ও ১০ শতাংশ।

ব্রুনাই দেশ কেমন

স্বাধীনতার পর দ্রুত দেশের উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেন সুলতান বলকিয়া। ১৯২৯ সালেই দেশটিতে তেলের খনি আবিস্কৃত হয়। প্রকৃতির দান এই সম্পদকে পরিকল্পিত উপায়ে কাজে লাগাতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ব্রুনাইয়ে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির ৯০ শতাংশই তেল শিল্পের অবদান। দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে দেশটি যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চতুর্থ।

প্রাকৃতিক গ্যাসও দেশটির অর্থনীতির আরেক ভিত। প্রতিদিন ২৫.৩ মিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করে ব্রুনাই। তেল ও গ্যাস নির্ভর অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকে ছোট্ট দেশটি। আয়তনে ছোট হওয়ার কারণে খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রীতে দেশটি আমদানি নির্ভর। ৬০ শতাংশ খাদ্য আমাদিন করে দেশটি। তবে সব কিছুই সুলতানের তত্ত্বাবধানে সরকার সম্পাদন করে তাই জনগনকে এসব নিয়ে ভাবতে হয় না।

ব্রুনাইয়ের রাজধানীর নাম কি

দেশটির রাজধানী বন্দর সেরি বেগান নগরীতে পা রাখলে মনে হবে ইউরোপ বা আমেরিকার কোন উন্নত নগরী। তবে চারপাশের মসজিদের সুউচ্চ মিনারগুলো মনে করিয়ে দেবে যে, এটি একটি মুসলিম দেশ। দিনে পাঁচ বার ভেসে আসবে আজানের ধ্বনি। ব্রুনাই উপসাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা নগারীটতে পার্ক, বিলাসবহুল শপিং মলসহ বিনোদনের সব ব্যবস্থাই আছে। তবে মদ্যপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ হওয়া গড়ে ওঠেনি বার, পাব না নাইট ক্লাব।

এই প্রতিবেদনের ভিডিও দেখুন

এই নগরীর সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদটিকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলোর একটি হিসেবে। সোনালী গম্ভুজের এই মসজিদ নির্মাণ করা হয় ১৯৫৮ সালে। ইতালিয়ান মার্বেল পাথর আর আকর্ষণীয় নকশা মসজিদটিকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়।

ব্রুনাইয়ের রাজপ্রাসাদ

রাজধানী নগরীর সামান্য বাইরে ব্রুনাই নদীর তীরে অবস্থিত রাজপ্রাসাদ ইস্তানা নুরুল আমান। এটি একই সাথে সুলতানের বাসভবন কার্যালয়। বিশাল এই রাজপ্রাসাদটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাসভবন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফিলিপাইনের স্থপতি লিওনার্দো ভি লকসিন ইসলামিক ও মালয় ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে এই প্রাসাদের নকশা করেন।

বিশাল এই প্রাসাদে রুম রয়েছে ১ হাজার ৭৮৮টি। সর্বমোট ফ্লোরস্পেস ২১ লাখ ৫২ হাজার ৭৮২ বর্গফুট। বিশাল এক ভোজন কক্ষ রয়েছে- যেখানে এক সাথে খাবার গ্রহণ করতে পারেন ৫ হাজার মানুষ। প্রাসাদের মসজিদটিতে এক সাথে দেড় হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। সুইমিং পুল আছে ৫টি, লিফটের সংখ্যা ১৮টি। এর গ্যারেজের আয়তনই ১১০ একর।

ব্রুনাইয়ের টাকার মান
ব্রুনাইয়ের সুলতান বলখিয়ার রাজপ্রাসাদ

প্রতি বছর ঈদ উৎসবের তিনদিন জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে এই প্রাসাদের দরজা। এসময় সবাইকে সুস্বাদু খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেন সুলতান। শিশুদের জন্য চমৎকার প্যাকেটে নগদ অর্থ দেয়া হয় ঈদ বকশিশ হিসেবে। এছাড়া রমজানে প্রাসাদের মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়ের সুযোগ পান সাধারণ মুসল্লিরা।

ব্রুনাইয়ের সব রাজকীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হয় এই প্রাসাদে। রাজপরিবারের অনুষ্ঠানাদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিয়ের অনুষ্ঠানের। সুলতানের পরিবারের সদস্যদের বিয়ের অনুষ্ঠান খুবই জাকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয় দেশটিতে।

ব্রুনাইয়ের রাজপরিবার

দেশটির বর্তমান রানী আনাক হাজাহ সালেহা। ১৯৬৫ সালে সুলতান বলকিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। এরপরও অবশ্য দুবার বিয়ে করেছেন সুলতান। তবে শেষোক্ত দুই স্ত্রীর সাথেই তার তালাক হয়ে গেছে। সব মিলে ১১ সন্তানের জনক সুলতান বলকিয়া।

রাজ পরিবারের একেকটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উৎসব হয় ১০-১২দিন পর্যন্ত। বিয়ে উপলক্ষে রাজপ্রাসাদের বাইরেও সাধারণ জনগনের জন্য বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সালে সুলতানের ছোট ছেলে প্রিন্স আবদুল মালিকের বিয়েতে ১১ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান করা হয়। বিয়েতে বর ও কনেকে বসানো হয় সম্পূর্ণ সোনার তৈরি রাজকীয় চেয়ারে।

বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, সেলিব্রেটিসহ মোট ৬ হাজারের বেশি অতিথি ছিলো সে বিয়েতে। রাজপরিবারের প্রথা অনুযায়ী বিয়ের আগে কনেকে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে স্বর্ণ, হীরাসহ বিভিন্ন মূলবান রত্নের তৈরি একটি তোড়া উপহার দেয়া হয়। এমনকি কনের পায়ের জুতোতে থাকে দামি পাথরের কারুকাজ।

বিশ্বের সেরা মসজিদ
সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ

সুলতানের উপস্থিতিতে শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় থাকে নৈশভোজ পর্ব। সেখানে নতুন সাজে দেখা যায় নবদম্পতিকে। দুজনের পোশাকেই থাকে দামি সব রত্ন। বিশ্বে নামী ফ্যাশন ডিজাইনারদের তৈরি এসব পোশাকের মূল কোটি ডলারের বেশি। ১৯৯৬ সুলতানের বড় কন্যা প্রিন্সেস রাশিদার বিয়েতে পারফর্ম করেছিলেন মার্কিন পপ সিঙ্গার হুইটনি হিউস্টন। অবশ্য দেশটিতে শরীয়াহ আইন চালুর পর থেকে এসব অনুষ্ঠানের কনসার্টে থাকে ধর্মীয় পরিবেশনা।

ব্রুনাই সুলতানের বিলাসী জীবন

সুলতানের পরিবারের এসব বিশাল অনুষ্ঠানাদি যে রাষ্ট্রীয় খরচে হয় তেমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। ব্রুনাইয়ের বর্তমান সুলতান হাসানাল বলকিয়া বিশ্বের সেরা ধনী ব্যক্তিদের একজন। ১৯৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে বছর দশেক তিনি ছিলেনা বিশ্বের সেরা ধনী। পরবর্তীতে তাকে ছাড়িয়ে যান বিল গেটসসহ অন্যরা। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যদিও সুলতানের বিলাসী জীবনযাত্রা নিয়ে সমালোচনাও কম নেই পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। তার গ্যারেজে দামি আর বিখ্যাত সব ব্রান্ডের গাড়ি, দামী পোশাক কিংবা চুলের পরিচর্চার পেছনে অনেক টাকা খরচ নিয়ে বিভিন্ন সময় খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সুন্দর আর পরিপাটি ব্রুনাইয়ের রূপ কিংবা দেশটির মানুষের উন্নত জীবনযাত্রা দেখে যে কেউ বলতে বাধ্য হবে যে, সুলতানের অবদান কম নয় এর পেছনে।

 

আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত হতে লাইক দিন : আহমেদ স্টোর

১১-০২-২০২১

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top