ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল : হেড টু হেড পরিসংখ্যান

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা

এসে গেছে আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের দর্শকদের আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল – এই দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যাওয়া। জার্সি, পতাকা আর প্রিয় দলের সমর্থনে আরো কত কী করে এদেশের মানুষ! কিন্তু বিশ্বকাপে এই দুই দলের মুখোমুখী লড়াই খুব একটা দেখা যায় না।

এর কারণ অবশ্য ফিফার বিশ্বকাপ ফিকশ্চার। বিশ্বকাপের ফিকশ্চার এমনভাবে করা হয়, যাতে এই দুই দলের সেমিফাইনালের আগে দেখা না হয়। সব বড় দলগুলোকে মাথায় রেখেই এমনভাবে সাজানো হয় ফিকশ্চার। এর কারণ নকআউট পর্বে দুটি বড় দলের ম্যাচ হলেই একটি নিশ্চত বাদ পড়বে। যেমন ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্স দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখী হয়েছিলো।

আর তাতে আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিলো। তাই বিশ্বকাপের আকর্ষণ ধরে রাখতে ফিফা চেষ্টা করে এমনভাবে গ্রুপিং করতে, যাতে বড় দলগলো সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখী না হয়।
তারপরও মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রম হয়। যেমন গত আসরে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ম্যাচ, এটা হয়েছিলে অবশ্য আর্জেন্টিনা প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার কারণে। ২০১০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখী হয় জার্মানি ও ইংল্যান্ড। সেখান থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনার রেকর্ড

তবে এত কিছু সত্ত্বেও গত ৩০ বছরে বিশ্বকাপে কখনো মুখোমুখী হয়নি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ দেখেছিলো এমন একটি ম্যাচ। ইতালিতে অনুষ্ঠিত ওই আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখী হয় লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি।

ওই আসরে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছিলে। ৩ ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছিলো তারা, অন্য দিকে আর্জেন্টিনা একটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। কিন্তু নকআউট পর্বে তুরিনের সেই ম্যাচে স্ট্রাইকার ক্যানিজিয়ার একমাত্র গোলে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ম্যারাডোনার দল। আর্জেন্টিনা সেই আসরে রানার আপ হয়েছিলো।

অর্থাৎ বিশ্বকাপে দুই দল সর্বশেষে মুখোমুখী হয়েছিলো ৩২ বছর আগে। এবং শেষ দেখায় জিতেছিলো আর্জেন্টিনা (১-০)। এর আগে আরো তিনবার দল দুটি বিশ্বকাপে মুখোমুখী হয়েছিলো, প্রতিবারই দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে। ১৯৮২ আসরে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।

সেবার অবশ্য দ্বিতীয় রাউন্ড ছিলো তিন দলের লিগ পদ্ধতির এবং দুটো দলই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়ে। আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে সেমিতে চলে যায় ইতালি।

১৯৭৮ আসরে দুই দলের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিলো। সেবার আর্জেন্টিনা ফাইনালে নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিলো। আর ব্রাজিল হয়েছিলো তৃতীয়।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দুই দল পরস্পরকে মোকাবেলা করেছিলো ১৯৭৪ আসরে। ব্রাজিল ২-১ গোলে হারিয়েছিলো আর্জেন্টিনাকে। সেবার আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়, আর ব্রাজিল হয়েছিলো চতুর্থ।

অর্থাৎ বিশ্বকাপে দুই দল ৪ বার মোকাবেলা করেছে। ব্রাজিল দুটিতে জিতেছে, আর্জেন্টিনা একটিতে। আরেকটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ব্রাজিল আর্জেন্টিনা লড়াই

এবারের বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত সব মিলে দুই দল ১১৩টি ম্যাচে মুখোমুখী হয়েছে। আর্জেন্টিনা ৪১ ও ব্রাজিল ৪৬টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। ২৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এসব ম্যাচে ব্রাজিল গোল করেছে ১৬৬টি, আর আর্জেন্টিনা করেছে ১৬২টি।

দুই দল প্রথম মোকাবেলা করে ১৯১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিলো ব্রাজিলকে।

দুই দলের মধ্যকার সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচে মাঠে নামা খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার জাভিয়ের জানেত্তি (১৬ ম্যাচ)। সবচেয়ে বেশি গোল ব্রাজিলের পেলের, ৮টি। সর্বোচ্চ ব্যবধান আর্জেন্টিনা ৬ : ১ ব্রাজিল (১৯৪০)।

কাতার বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি পড়ুন : বিশ্বকাপের সময়সূচি

আর্জেন্টিনা vs brazil পরিসংখ্যান

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ স্টোর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top