নিজের জন্য সেরাটা বেছে নেয়ার প্রবণতা মানুষের চিরায়ত। অন্য সব কিছুর মতো তাই একজন শিক্ষার্থীরও স্বপ্ন থাকে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি লাভ করার। সেই স্বপ্ন কারো ধরা দেয়, কারো বা স্বপ্নই থেকে যায়। এই লেখায় আমরা জানবো বিশ্বের সেরা ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে । বিভিন্ন সূচকে অনন্য বৈশিষ্টের অধিকারী এই বিশ্ব বিদ্যালয়গুলো কেন সেরা সেটিও জানতে চেষ্টা করবো।
বিশ্বের সেরা ইউনিভার্সিটি
বিশ্বের সর্বজন গ্রহণযোগ্য ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং আছে তিনটি। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং। ব্রিটেন ভিত্তিক কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান জরিপটি পরিচালনা করে। সেরা তিনটি জরিপের মধ্যে অন্য দুটি হলো চীনের অ্যাকাডেমিক র্যাঙ্কিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস ও ব্রিটেন ভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং।
তবে এই তিনটির মাঝে শুধুমাত্র কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ই পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল র্যাঙ্কিং এক্সপার্ট গ্রুপের অনুমোদন। ইন্টারনেট ট্রাফিক অ্যানালাইসিস প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সাও বলছে, এই র্যাঙ্কিংটির ওপরই সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আস্থা বেশি। বেশির ভাগ মানুষই সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জানতে এই র্যাঙ্কিংটির ওয়েবসাইট ভিজিট করে।
তাই আমরা কিউএস র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সেরা ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা তুলে ধরছি আপনাদের সামনে।
শিক্ষার মান ও পরিবেশ, প্রকাশিত গবেষণাপত্রের অনুপাত, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, বিদেশী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষক নিয়োগের মানদণ্ড ইত্যাদি বিষয়ের ওপর সারা বিশ্বে জরিপ চালিয়ে এই র্যাঙ্কিং করা হয়। ২০২৪ সালের জন্য প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৫টির মধ্যে ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ই যুক্তরাষ্ট্রের (যার দুটি আবার একই শহরে) আর তালিকার ২টি ব্রিটেনের।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT), যুক্তরাষ্ট্র
২০১৩ সাল থেকে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানটি ধরে রেখেছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বলা যায় এই তালিকায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৬১ সালে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রোকৌশল বিদ্যা ও গণিত শিক্ষার জন্য সুখ্যাত প্রতিষ্ঠান এমআইটি। এটি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি।
১৬৬ একর জায়গা জুড়ে এর ক্যাম্পাস। চ্যান্সেলর সিনথিয়া বার্নহার্ট। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার, অ্যাকাডেমিক স্টাফ প্রায় এগারোশ জন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক বিষয়ও পড়ানো হয় এখানে। মোট ৪৪টি বিষয়ে আন্ডার গ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট ছাড়াও মাস্টার্স অব সায়েন্স, ডক্টর অব ফিলোসফি, ডক্টর অব সায়েন্স, ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি দেয়া হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
এমআইটির গড়ে বার্ষিক গবেষণা ব্যয় একশো কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থের প্রধান জোগানদাতা দেশটির ফেডারেল সরকার। নাসা, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারী ডিপার্টমেন্টের সাথে যৌথভাবে গবেষণার কাজ করে এমআইটি। রাডার, ডিজিটাল সার্কিটসহ অনেক আধুনিক প্রযুক্তির আতুর ঘড় এমআইটির ল্যাবরেটরি। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা পদার্থ বিদ্যায় ৮ বার ও জীববিদ্যায় ৬ বার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
সব মিলে ২০২০ সাল পর্যন্ত এমআইটি সংশ্লিষ্ট ৭৯ জন বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া ৪১ জন মহাকাশচারী, মার্কিন বিমান বাহিনীর ১৬ জন চিফ সাইন্টিস্ট ছিলেন এমআইটির শিক্ষার্থী। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু, জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, চাদে অবতরণকারী এডুইন অলড্রিন ছিলেন এমআইটির শিক্ষার্থী।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ, ব্রিটেন

ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ শহরের এই ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১২০৯ সালে। ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটি বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয় শহর কর্তৃপক্ষের সাথে বিরোধের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষাবিদ ক্যামব্রিজ শহরে গিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পর এটি রাজকীয় অনুমোদন পায়।
৩১ আধাস্বায়ত্বশাসিত কলেজ ও ছয়টি অ্যাকাডেমিক স্কুলের অধীনে ১৫০টি ডিপার্টমেন্ট ও ফ্যাকাল্টি আছে এখানে। এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার প্রায়। শিক্ষক, গবেষকসহ অ্যাকাডেমিক স্টাফ ৬ হাজার ১৭০ জন। প্রশাসনিক স্টাফা আছে তিন হাজারের বেশি। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাসটি ১ হাজার ৫২০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ১২১ জন বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ১৯৪টি অলিম্পিক মেডেল জিতেছেন এর শিক্ষার্থীরা। জন মিল্টন, চার্লস ডারউন, লর্ড বায়রন, আইজ্যাক নিউজটন, জওয়াহেরলাল নেহেরু, বার্টান্ড রাসেলের মতো বিখ্যাতরা এখানকার শিক্ষার্থী ছিলেন।
ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ব্রিটেন

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে ২০২৪ সালের জন্য সেরা ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি অক্সফোর্ড। এর প্রতিষ্ঠার সঠিক তারিখটি জানা যায় না। ধারণা করা হয়, ১০৯৬ থেকে ১১৬৭ সালের মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আবার কেউ কেউ দাবি করেন এরও আগে প্রতিষ্ঠিত হয় অক্সফোর্ড।
দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। ৩৯টি আধা সায়ত্বশাসিত কলেজ ও ছয়টি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে পরিচালিত হয় অক্সফোর্ড। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ক্যাম্পাস বলতে কিছু নেই। কলেজগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন স্থানে। অনেকটা বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। কলেজগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদা হলেও একটি গ্রহণযোগ্য মান ধরে রাখা হয়।
প্রতি বছর সারা বিশ্বের অনেক শিক্ষার্থী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার জন্য ব্রিটেনে পাড়ি জমায়। পৃথিবী বিখ্যাত অনেক ব্যক্তিত্ব ডিগ্রি অর্জন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। উইকিপিয়ার তথ্য মতে, চারজন ব্রিটিশ রাজা, ৮ জন বিদেশী রাজা, ২৮ জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, কয়েকশো বিদেশী প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট, ৭২ জন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আছেন অক্সফোর্ডের সাবেক ছাত্রদের মাঝে।
শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৬ হাজারের বেশি। অ্যাকাডেমিক স্টাফের সংখ্যা ৭ হাজার। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বর্তমান চ্যান্সেলর ক্রিস প্যাটেন, ভাইস চ্যান্সেলর লুইস রিচার্ডসন।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

তালিকার চার নম্বর অবস্থানটি পৃথিবী বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের। পৃথিবীর প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হার্ভার্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৬৩৬ সালে। এটি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। ঔপনিবেশিক আমেরিকার ব্রিটিশ মিনিস্টার ও পাদ্রি জন হার্ভাডের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তিনি বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড। শুরুতে এটির নাম ছিলো হার্ভার্ড কলেজ, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ শহরের অবস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়টি গত ৯ বছর ধরে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা পাঁচটির মধ্যেই আছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লরেন্স ব্যাকাউ। ১০ অনুষদে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২ হাজার প্রায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট তিনটি ক্যাম্পাস। প্রধান ক্যাম্পাসটি ২০৯ একর জায়গাজুড়ে। ৫০টি বিষয়ে আন্ডার গ্রাজুয়েট ১৩৪টি বিষয়ে গ্রাজুয়েট ও ৩২টি বিষয়ে প্রফেশনাল ডিগ্রি দেয়া হয় হার্ভার্ড থেকে।
গবেষণার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে ভেরি হাই রিসার্চ এক্টিভিটি ক্যাটাগরিভূক্ত। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা গবেষণায় সেরা একটি প্রতিষ্ঠান।
পৃথিবী বিখ্যাত অনেক মানুষের পা পড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বারাক ওবামা, জর্জ বুশসহ ৮জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন হার্ভাডের ছাত্র। বিল গেটস, বেনজির ভুট্টো, বান কি মুনসহ আরো অনেক নামীদামী মানুষ ডিগ্রি নিয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ৭৯ জন নোবেল বিজয়ী, ১০৮ জন অলিম্পিক পদক জয়ী, ১০ জন অস্কার পুরস্কার জয়ী আছেন এই তালিকায়।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র
তালিকার পরের স্থানটিও যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে। এটির অবস্থানও দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাষ্ট্রে। নাম স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে টানা ৫ বছর দুই নম্বরে ছিল স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি। এরপর কিছুটা পতন হয়েছে। এটি মূলত একটি প্রাইভেট রিসার্চ ইউনিভার্সিটি।
ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় স্ট্যানফোর্ড শহরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। এর পুরো নাম লিল্যান্ড স্ট্যানফোর্ড জুনিয়র ইউনিভার্সিটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর ও শিল্পপতি লিল্যান্ড স্ট্যানফোর্ড এবং তার স্ত্রী জেন ১৫ বছর বয়সে মারা যাওয়া তাদের একমাত্র সন্তান লিল্যান্ড স্ট্যানফোর্ড জুনিয়রের নামে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭ হাজারের বেশি। অ্যাকাডেমিক স্টাফ ২ হাজার ২৪০ জন। ৮ হাজার ১৮০ একর জায়গা জুড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বিশাল ক্যাম্পাসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যবহার করেন বাইসাইকেল। আছে নিজস্ব স্টেডিয়াম। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্ক টেসিয়ার লেভিগেন।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রতিবছর গবেষণার কাজে ব্যয় করে একশো কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। ইন্টারনেট, গুগল, ইয়াহু, ইনস্টাগ্রামসহ পৃথিবীর অনেক যুগান্তকারী আবিষ্কারের সূত্রপাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারেই হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ৮৫ জন এখন পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। জিতেছেন ১৩৯টি অলিম্পিক স্বর্ণপদক। ১৭জন মহাকাশচারী ছিলেন স্ট্যানফোর্ডের শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হোভার ছিলেন এখানকার শিক্ষার্থী।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যুক্তরাষ্ট্র
সেরা দশে থাকা আরেকটি উল্লেখযোগ্য ইউনিভার্সিটি এটি। দীর্ঘদিন সেরা ৫ থাকলেও এবার নেমে গেছে দশ নম্বরে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি সংক্ষেপে যাকে বলাহয় ক্যালটেক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাষ্ট্রের পাসাডেনায় অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একটি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান ও প্রোকৌশল শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
পাসাডেনা শহরের পাশে ১২৪ একর জায়গা জুড়ে এর ক্যাম্পাস। এটি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি। ১৮৯১ সালে একটি ভোকেশনাল স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এটি, পরবর্তীতে হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়। শিকাগোর ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক অ্যামোস জে থ্রোপ এর প্রতিষ্ঠাতা। ইউনিভার্সিটি তার বর্তমান নাম পেয়েছে ১৯২০ সালে।
সারা বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রোকৌশল বিদ্যায় পড়তে আগ্রহী তরুণদের কাছে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি একটি স্বপ্নের নাম। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ জন। অ্যাকাডেমিক স্টাফ এক হাজার ৫৯ জন। মোট ছয়টি বিভাগ রয়েছে এখানে, তবে বিজ্ঞান ও প্রোকৌশল শিক্ষার জন্যই বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি।
আরো পড়ুন :
কতটা ক্ষমতাধর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী
বিশ্ববিদ্যলয়টির সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক,গবেষক মিলে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ৭৬ জন। বলা বাহুল্য এর বেশির ভাগই জিতেছেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে ক্যালটেকের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে। নাসাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে সব সময়ই কদর রয়েছে ক্যালটেকের ডিগ্রিধারীদের।
লেখকের ফেসবুক পেজে যুক্ত হতে লাইক দিন : আহমেদ


