ডাকাতির দায়ে জেলখাটা এক অপরাধী থেকে ভাড়াটে যোদ্ধা গ্রুপের প্রধান হয়ে ওঠা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন অনেক দিন ধরেই বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত সমালোচিত। ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজন হয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ করে বসেন। তার সর্বশেষ বিদ্রোহী তৎপরতাকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পুতিন।
৬২ বছর বয়সী প্রিগোজিনের জন্ম রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে। আলজাজিরা জানিয়েছে, ডাকাতি ও হামলার অভিযোগে ১৯৮১ সালে ১২ বছরের কারাদা- হয় তার। জেল থেকে বের হয়ে নিজের শহরে রেস্ট্রুরেন্ট ব্যবসায় শুরু করেন প্রিগোজিন। অল্প দিনেই ভালো শেফ হিসেবে খ্যাতি তৈরি হয় তার।
এরপর সেন্ট পিটার্সবার্গের ডেপুটি মেয়রের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রিগোজিনের, তারই সূত্র ধরে ভøাদিমির পুতিনের সাথেও সখ্যতা হয়। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ক্যাটারিং সার্ভিস ব্যবসায় শুরু করেন এবং রুশ সরকারের বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেন। এ সময় ‘পুতিনের বাবুর্চি’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
এরপর মিডিয়া ও ইন্টারনেট ব্যবসায় মনোযোগ দেন ইয়েভজেনি প্রিগোজিন । ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার কোম্পানি হস্তক্ষেপ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে ওয়াগনার গ্রুপের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল ও পূর্ব ইউক্রেনে বিদ্রোহী তৎপরতা শুরু হওয়ার সময় প্রথম আলোচনায় আসে ওয়াগনার গ্রুপ। শোনা যায়, এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা দিমিত্রি ভ্যালেভিচ উতকিন। তবে ২০২২ সালে পিগোজিন নিজেকে গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা বলে দাবি করেন। বিভিন্ন ইস্যুতে উস্কানিমূলক ও আগ্রাসী বক্তৃতা করে দ্রুতই আলোচনায় আসেন এই যুদ্ধবাজ ব্যক্তিটি।
২০১৪ সালে পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক ও ডোনেস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা শুরু হলে ওয়াগনার তাতে যোগ দেয়। এই গ্রুপটির মাধ্যমেই বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে মস্কো। সিরিয়া ও লিবিয়ার যুদ্ধেও যোগ দিয়েছে ওয়াগনার। সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের বাহিনীর পক্ষে এবং লিবিয়ায় খলিফা হাফতারের পক্ষে যুদ্ধ করে তারা। মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ও মালিতেও এই বাহিনীর কার্যক্রম আছে বলে ধারণা করা হয়।
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন : আহমেদ স্টোর


