এশিয়ার ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর এশিয়া কাপ। সাধারণত দুই বছর পরপর আয়োজন করা হয় এশিয়া কাপ। পালাক্রমে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হয় এই টুর্নামেন্ট। এ বছর অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, তাই দলগুলোকে প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে- এবার এশিয়া কাপও ৫০ ওভারে হবে। এই লেখায় জানাবো এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন তালিকা সহ বিভিন্ন তথ্য-
আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, গত আসরের তারা ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল(এসিসি)। উদ্দেশ্য ছিলো এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রিকেট সম্পর্ক জোরদার করা। পরের বছর ১৯৮৪ সাল থেকে থেকে শুরু হয় এশিয়া কাপ আয়োজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বসে এশিয়া কাপের প্রথম আসর। অংশ নেয় ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। শ্রীলংকা তখন আইসিসি পরিবারের নতুন সদস্য। ভারত চ্যাম্পিয়ন হয় সে আসরে।
এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন তালিকা
[table id=5 /]
এশিয়া কাপ কে কতবার নিয়েছে
সবচেয়ে বেশি বার এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। এখন পর্যন্ত ৭ বার তারা এই শিরোপা জিতেছে। সে হিসেবে ভারত এই আসরের সেরা দল। সর্বশেষ ২০১৮ স ালে ভারত এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। সেবার ফাইনালে তারা হারিয়েছে বাংলাদেশকে। এছাড়া ভারত ফাইনালে উঠে হেরেছে তিন বার।
এবারের এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি দেখুন এখানে
দ্বিতীয় সেরা দল শ্রীলঙ্কা। তারা এশিয়া কাপ জিতেছে ছয় বার। আরো ছয় বার তারা ফাইনালে হেরেছে। এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। ২০২২ আসরে তারা ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
পাকিস্তানের ঘরে এশিয়া কাপের শিরোপা গিয়েছে মাত্র ২ বার। প্রথম ২০০০ সালে ও দ্বিতীয়বার ২০১২ সালে। পাকিস্তান এই আসরের আরো তিন বার ফাইনাল খেলেছে। সে হিসেবে বড় তিন দলের মধ্যে পাকিস্তানের পরিসংখ্যান এশিয়া কাপে সবার চেয়ে খারাপ।
বাংলাদেশ কখনো এশিয়া কাপ জিততে পারেনি। তবে তারা তিন বার ফাইনাল খেলেছে। ২০১২ সালে পাকিস্তানের কাছে এবং ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ভারতের কাছে ফাইনালে হেরেছে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশ
১৯৮৬ সালে এশিয়া কাপের দ্বিতীয় আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশ ছিলো আইসিসির সহযোগী সদস্য রাষ্ট্র, এমনকি ওয়ানডে স্ট্যাটাসও পায়নি। এরপর ১৯৮৮ সালে এশিয়া কাপের তৃতীয় আসরে আয়োজক হয় বাংলাদেশে।

২০০৪ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বে হংকংকে হারিয়ে সুপার ফোরে গিয়েছিলো বাংলাদেশ। আর প্রথম ফাইনাল খেলে ২০১২ সালে মিরপুরে। সেবার গ্রুপ পর্বে প্রথমে ভারত ও পরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে যায় সাকিব-মুশফিকরা।
কিন্তু ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারে মাত্র ২ রানে। পাকিস্তানকে ২৩৬ রানে আটকে দিয়েও জেতা সম্ভব হয়নি অল্পের জন্য। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রান দরকার ছিলো, বাংলাদেশ নিতে পেরেছে ৬ রান।
মিডল অর্ডারে নাসির হোসেনের ৬৩ বলে ২৮ রানের কচ্ছপ গতির ইনিংসটিকে অনেকে দায়ী করেন পিছিয়ে পড়ার জন্য।
এরপর ২০১৬ ও ২০১৮ সালে পরপর দুই আসরে ফাইনালে উঠেছিলো বাংলাদেশ। প্রথমবার ৮ উইকেটে ও পরের বার ৩ উইকেটে হার মানতে হয় ভারতের।
২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে স্থগিত হয়ে যায় এশিয়া কাপ। আর সর্বশেষ ২০২২ এশিয়া কাপ অবশ্য ভালো কাটেনি বাংলাদেশের জন্য। গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা।
এশিয়া কাপ ২০২৩ সময়সূচি
২০২৩ সালের এশিয়া কাপ কোথায় হবে সেটা নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হলেও ভারত বলেছে, তারা পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে যাবে না। এরপর পাকিস্তান হুমকি দেয় তারাও ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না।
অনেক দেন দরবারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রস্তাব দেয় দুই দেশে এশিয়া কাপ আয়োজনের। যাকে বলা হয় হাইব্রিড মডেল। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল পাকিস্তানের প্রস্তাব মেনে নেয়। পাকিস্তানের সাথে যৌথ আয়োজক হয় শ্রীলঙ্কা।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুরুতে ভারত ছাড়া বাকি দেশগুলো পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর শ্রীলঙ্কার মাটিতে হবে টুর্নামেন্টের বাকি অংশ। সে হিসেবে পাকিস্তানের লাহোর ৪ অথবা ৫টি ম্যাচ হবে।
পাকিস্তান যদি ফাইনালেও ওঠে তবে তারা শ্রীলঙ্কার মাটিতেই ফাইনাল খেলবে।
এবারের এশিয়া কাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি দেখুন এখানে
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন : আহমেদ স্টোর


