Soudi Arabia

সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় দেশ সৌদি আরব, আর এশিয়া মহাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ। দেশটির উত্তরে জর্দান ও ইরাক, পূর্বে পারস্য উপসাগরের কূল ঘেঁষে রয়েছে কুয়েত, বহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দক্ষিণ-পূর্বে ওমান ও দক্ষিণনে ইয়েমেন। পশ্চিমে লোহিত সাগর, যার ওপারে রয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মিসর ও সুদান। সৌদি আরব একমাত্র দেশ যার পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের উপকূল রয়েছে।

সৌদি আরব

আধুনিক সৌদি আরব রাষ্ট্রের জন্ম ১৯৩২ সালে। আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ দীর্ঘ যুদ্ধের পর পিতৃপুরুষের হারানো ভূখণ্ড উদ্ধার করেন। ১৮৯০ সালে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে তারা নির্বাসিত জীবন যাপন করছিলো। রিয়াদ জয় করার আগ পর্যন্ত তারা নিজ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত ছিলো। বাইরে থেকে শক্তি সঞ্চয় করে ইবনে সৌদ ১৯০২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রিয়াদ আক্রমণ ও জয় করেন। পরবর্তীতে রাজ্যের সীমা বাড়াতে থাকেন একের পর এক। এই সময়ে ব্রিটিশদের আনুকূল্য পান তিনি।

সৌদি আরব পিক
মানচিত্রে সৌদি আরব

এর ফলে হেজাজ জয় করা সহজ হয়। মক্কা, মদিনা ও জেদ্দা হেজাজের অন্তর্ভূক্ত। ১৯৩২ সালে হেজাজ, নজদ, আল হাসা ও আসির অঞ্চল নিয়ে নতুন সৌদি আরব রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। নিজেই হন নতুন রাজ্যের বাদশাহ। এর আগে সৌদি আরবের অনেক অঞ্চল তুরস্কের ওসামনীয় খিলাফাহর অধীন ছিলো।

সৌদি আরব কোন মহাদেশে অবস্থিত

সৌদি আরব এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ। অঞ্চলটি মধ্যপ্রাচ্য নামে পরিচিত। অনেক সংবাদ মাধ্যম এটিকে পশ্চিম এশিয়া হিসেবেও চিহ্নিত করে। আয়তনে এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে এটি পঞ্চম বৃহত্তম। সৌদি আরব একমাত্র দেশ যার পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের উপকূল রয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরব একটি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ হিসেবেও পরিচিত। পারস্য উপসাগর বা আরব উপসাগরের অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের একেবারে মাঝখানে। এই উপসাগরের পশ্চিম তীরে রয়েছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের রাজধানীর নাম কি

মধ্যাঞ্চলীয় রিয়াদ নগরীটি সৌদি আরবের রাজধানী। এটি সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় নগরী। রিয়াদ শব্দের অর্থ দ্য গার্ডেন বা বাগান। ১৯৩২ সালে সৌদি রাষ্ট্র ঘোষণার সময়ই রিয়াদকে রাজধানী করা হয়। ১  হাজার ৯৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে সৌদি আরবের রাজপ্রাসাদসহ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও বিদেশী দূতাবাস সমূহ অবস্থিত।

নগরীর প্রশাসনিক কাউন্সিলের প্রধান একজন মেয়র। সৌদি আরবের রিয়াদ প্রদেশেরও কেন্দ্র এই শহরটি। রিয়াদের জনসংখ্যা ৭০ লাখের মতো। নগরীর জীবনযাত্রা খুবই উচ্চমানের। ধনী সৌদি নাগরিকদের বেশির ভাগই এখানে বসবাস করেন।

সৌদি আরবের আয়তন কত

দেশটির মোট আয়তন ২১ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি। রাষ্টভাষা আরবি। মুদ্রার নাম সৌদি রিয়াল। ধর্ম : শতভাগ মুসলিম। জাতীয় দিবস ২৩ সেপ্টেম্বর।

এই দেশে মুসলিমদের দুটি পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অবস্থিত। এছাড়া দেশটির পতাকায় পবিত্র কালেমায়ে তাইয়েবা খচিত রয়েছে।

সৌদি আরবের ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা

মুদ্রার নাম সৌদি রিয়াল। রিয়ালের ভগ্নাংশ হলো হালালা। ১০০ হালালায় ১ রিয়াল। কাগজের নোট রয়েছে ১, ৫, ১০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ রিয়ালের। এছাড়া কয়েন বা ধাতব মুদ্রা রয়েছে ১, ৫, ১০, ২৫, ৫০ হালালার এবং ১ ও ২ রিয়ালের।

বাংলাদেশ টাকার চেয়ে সৌদি রিয়ালের মান বেশি। এক রিয়ালে বাংলাদেশর ৩০ টাকা (প্রায়)। অর্থাৎ সৌদি আরবের ১ হাজার রিয়াল মানে বাংলাদেশর ৩০ হাজার টাকা (প্রায়)। মার্কিন ডলারের বিপরীতে সৌদি টাকার মান হচ্ছে ১ ডলার সমান ০.২৭ ডলার বা ২৭ সেন্ট। অর্থাৎ ১০০ সৌদি রিয়ালে ২৭ মার্কিন ডলার।

সৌদি আরবের ১০০ টাকা বাংলাদেশের কত

সৌদি আরব সময়

কিংডম অব সৌদি আরবিয়ার স্থানীয় সময় হচ্ছে গ্রিনিচ মান সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টা বেশি। অর্থাৎ গ্রিনিচ মান সময় এর সাথে ৩ ঘণ্টা যোগ করতে হবে। তাই বাংলাদেশর সময় থেকে সৌদির সময় ৩ ঘণ্টা কম। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে ৩ ঘণ্টা পিছিয়ে। কারণ বাংলাদেশের সময় হচ্ছে গ্রিনিচ মান সময়ের চেয়ে ৬ ঘণ্টা বেশি।

বাংলাদেশ যখন বিকেল ৪টা, সৌদি আরবে তখন দুপুর একটা। আশা করি সৌদি সময়ের মান বুঝতে সমস্যা হবে না।

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধান হলে কেন বাংলাদেশে সৌদি আরবের চেয়ে এক দিন পরে রোজা বা ঈদ উদযাপন করা হয়। এর কারণ হলো রোজা বা ঈদ অর্থাৎ আরবি মাস হিসাব করা হয় চাঁদের সময় অনুযায়ী। তাই এগুলোকে চন্দ্র মাস বলে।

সূর্যের সময়ে সৌদি আরব বাংলাদেশর চেয়ে ৩ ঘণ্টা পিছিয়ে থাকলেও চাঁদের সময়ে তারা ১৯ ঘণ্টা এগিয়ে। অর্থাৎ বাংলাদেশর চেয়ে ১৯ ঘণ্টা আগে সেখানে চাঁদ ওঠে। তাই একদিন আগে আরবি মাস গণনা শুরু হয় সৌদিতে। আশা করি বোঝাতে পেরেছি।

অথর্নীতি

সৌদি আরবের অর্থনীতি মূলত তেলনির্ভর। দেশটির জাতীয় বাজেটের ৭৫ শতাংশ আসে তেলখাত থেকে। আর মোট রফতানি আয়ের ৯০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। সমগ্র বিশ্বের ভূগর্ভের অভ্যন্তরে খনিজ তেলের যে মজুদ রয়েছে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগই সৌদি আরবে, পরিমাণে যা ২৬ হাজার কোটি ব্যারেল। তেল ছাড়াও দেশটি রয়েছে অল্প কিছু গ্যাস ও সোনার খনি।

তবে বর্তমানে মোহাম্মাদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ এর আওতায় দেশটি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। যে কারণে পর্যটনসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রচুর বিনিয়োগ করছে সৌদি আরব।

মাথাপিছু আয় ও মোটজাতীয় উৎপাদনের হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১১টি ধনী দেশের একটি। আর বৃহত্তর অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় দেশটির অবস্থান ২০ নম্বরে। সৌদি শ্রমবাজার প্রায় পুরোটাই বিদেশী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। তেলক্ষেত্রগুলোর ৮০ শতাংশং শ্রমিক বিদেশী।

তেল ছাড়াও দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কৃষি। কৃষির মধ্যে রয়েছে খেজুর চাষ ও পশুপালন। প্রতি বছর বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে নাগরিকদের কৃষিকাজে উৎসাহী করে সৌদি সরকার। এছাড়া দেশটিতে প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ করতে আসেন কোটি কোটি বিদেশী মুসলিম। যেটিও সৌদি সরকারের আয়ের বড় একটি উৎস।

ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন : আহমেদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top