মিসরের প্রখ্যাত মুসলিম স্কলার শেখ ইউসুফ আল কারযাভি ইন্তেকাল করেছেন। সোমবার তার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আল্লামা কারযাভি ছিলেন বিশ্ব ইসলামিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইউসুফ কারযাভি ছিলেন মিসরের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাতিক নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাতারে বসবাস করতেন। তার বয়স হয়েছিলো ৯৬ বছর।
১৯২৬ সালে মিসরের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া কারযাভি মাত্র ৯ বছর বয়সে কোরআনের হাফেজ হন। শৈশবে স্কুলে ব্রাদারহুড নেতা হাসান আল বান্না র একটি বক্ততা শুনে তিনি ইসলামিক বিষয়াদিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
আল আজহার ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৫৩ সালে ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব থেকে ডিগ্রি নেন। এছাড়াও পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোরআন, সুন্নাহ ও আরবি ভাষাসহ একাধিক বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন ডক্টর কারযাভি।
মিসরের স্বৈরশাসক জামাল আবদুন নাসেরের সময় তিনি কারাবরণ করে। কারাগার থেকে মুক্তির পর কাতারে চলে যান। প্রবাস জীবনে ১৯৭৭ সালে তার উদ্যোগে কাতার ইউনিভার্সিটিতে শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি চালু হয়। নিজে এই ফ্যাকাল্টির ডিন হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এছাড়া কাতার ইউনিভার্সিটিতে শরীয়াহ ও সুন্নাহ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয় তার উদ্যোগে।
২০১১ সালে মিসরে গণতন্ত্র ফিরলে তিনি আবার দেশে ফেরেন। সে সময় তাহরির স্কয়ারে জুমার নামাজে ইমামতি করেন এই আলেম।
তবে সেনা অভ্যুত্থানে মোহাম্মাদ মুরসির সরকারের পতনের পর আর মিসরে ফিরতে পারেননি এই আলেম।
আলেমদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান ছিলেন ইউসুফ আল কারযাভি ।
ইউসুফ আল কারযাভি
আলজাজিরা টিভি চ্যানেলে তার শরীয়া এন্ড লাইফ নামের অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলো। এই অনুষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ইসলাম সম্পর্কে খারাপ ধারনা দূর করতে বড় ভুমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়। অনুষ্ঠানটির গড় দর্শক ছিলো ৪০ থেকে ৬০ মিলিয়ন।
ধর্ম, দর্শন, রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১২০টির বেশি বই লিখেছেন ইউসুফ আল কারযাভি। পেয়েছেন অনেক আন্তর্জাতিক সম্মাননা।
সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী আলেম মনে করা হতো তাকে। মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে তিনি সরাসির জড়িত না থাকলেও দলটির ওপর তার প্রভাব ছিলো বলে মনে করা হয়।
স্বৈরশাসক আবেদল ফাতাহ আল সিসির কট্টর সমালোচক ছিলেন আল্লামা কারযাভি। যে কারণে তার আত্মীয়দের অনেক নিপীড়িন সইতে হয়েছে মিসরে। ২০১৩ সালে মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদর মুরসিকে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন।


