Inter Miami

ইন্টার মিয়ামি : মেসির নতুন ক্লাব

বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসির নতুন গন্তব্য আমেরিকা। দেশটির মেজর লিগ সকারের যে ক্লাবটিতে তিনি যোগ দিচ্ছেন তার নাম ইন্টার মিয়ামি । যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাষ্ট্রের ফোর্ড লডারডেল শহরের এই ক্লাবটির পুরো নাম ইন্টার মিয়ামি এফসি। চলতি গ্রীষ্মেই মেসিকে দেখা যেতে পারে ক্লাবটির গোলাপি জার্সিতে।

মেসির পিএসজি ছাড়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপের ফুটবলে শেষ হলো বড় একটি অধ্যায়ের। গত মৌসুমেই সৌদি আরবের ক্লাবে যোগ দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এবার মেসিও বিদায় নিলেন ইউরোপের মাঠ থেকে। মেসির সামনে সৌদি ক্লাবে যোগ দেয়ার প্রস্তাব ছিলো, তবে তিনি বেছে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। ৩৫ বছর বয়সী মেসি নিজেই এই তথ্য প্রকাশ করেছেন জুন মাসের ৮ তারিখে।

ইন্টার মিয়ামির ইতিহাস ও ডেভিড বেকহ্যাম

মেসির এই নতুন ক্লাবটি বিখ্যাত কোন ক্লাব নয় এমনকি ক্লাবটির বয়সও মাত্র কয়েক বছর। ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। আর তারা প্রথম লিগে খেলেছে ২০২০ সালে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ক্লাবটি যখন প্রথম খেলতে নেমেছে, ততদিনে মেসির হাতে ডজন ডজন ট্রফি উঠেছে। এটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ডেভিড বেকহ্যাম।

মেসি ও রোনালদোর যুগ শুরু হওয়ার আগে বিশ্ব ফুটবলে ডেভিড বেকহ্যাম ছিলেন সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা। ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার ক্যারিয়ারের শেষ দিকে খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব লস এঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বেকহ্যাম লস এঞ্জেলেসে কাটিয়েছেন। যেটি চলচ্চিত্র তারকাসহ বহু সেলেব্রেটির বসবাসের নগরী। যে কারণে এই সময়টাতে যুক্তরাষ্ট্রেও বেকহ্যামের অবস্থান শক্ত হয়েছে।

নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে বেকহ্যাম ছিলেন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। শুধু মাঠেই নন, মাঠের বাইরেও তার ফ্যাশনেবল জীবনযাপন আলোচিত ছিলেন। তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম একজন খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার ও পপ সঙ্গীত শিল্পী। যেটিও বেকহামের পরিচিতি বৃদ্ধিতে ভুমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের সূত্র ধরেই ২০১৮ সালে ব্যবাসায়ী জর্জ মাস ও জোস মাসের সাথে মিলে ইন্টার মিয়ামি ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন বেকহ্যাম।

ইন্টার মিয়ামির পারফরম্যান্স কেমন

ডেভিড বেকহ্যামের হাত ধরে ক্লাবটির জন্ম হলেও পারফরম্যান্সে বেকহ্যামের ক্যারিয়ারের কোন ছায়া দেখা যাচ্ছে না ক্লাবটি। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ লিগ ‘মেজর সকার লিগে’ সাড়ে তিন মৌসুম পার করেছে ক্লাবটি।
চলতি মৌসুমে ১৬ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগের ইস্টার্ন কনফারেন্সের সবার শেষে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল লিগের দুটি বিভাগ রয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগটিতে আছে ১৫টি দল, যার মধ্যে দলটির অবস্থান ১৫ নম্বরে। ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স বা পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগটিতে খেলছে ১৪টি দল।

এ যাবতকালে ক্লাবটির সেরা পারফরম্যান্স গত মৌসুমে পূর্বাঞ্চলীয় পয়েন্ট তালিকার ছয় নম্বরে থাকা এবং প্লে অফ খেলার সুযোগ পাওয়া। তবে প্লে অফের প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পরে দলটি।

আলজাজিরা লিখেছে, ইন্টার মিয়ামিতে খেলতে হলে মেসিকে এখন ‘কনফারেন্স’ বা ‘প্লে অফের’ মতো বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত হতে হবে। কারণ মার্কিন লিগের যে কাঠামো সেটার ফুটবলের বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ডের সাথে কোন মিল নেই।

সেখানে লিগ পদ্ধতিতে প্রথম রাউন্ডের পর দুই অঞ্চলের (কনফারেন্স) সেরা দলগুলো নিয়ে হয় নকআউট প্লে অফ রাউন্ড। লিগের কোন দ্বিতীয় স্তর না থাকায় সেখানে কোন রেলিগেশন বা প্রমোশন সিস্টেম নেই।

গত সপ্তাহে ইন্টার মিয়ামির হেড কোচকে বরখাস্ত করা হয়েছে চলতি মৌসুমের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে।
২০২১ সালে ডেভিড বেকহ্যাম সমর্থক ও কর্মকর্তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় ক্লাবও এক দিনে গড়ে ওঠেনি।

ইন্টার মিলানের সাথে দ্বন্দ্ব

সারা বিশ্বের ফুটবল সমর্থকরা মেসির নতুন ক্লাবের নামের সাথে ‘ইন্টার’ শব্দটি দেখে হয়তো ইতালির বিখ্যাত ক্লাব ইন্টার মিলানোর সাথে সংযোগ খুঁজতে শুরু করেছেন। ইন্টার মিলান ১৯ বার ইতালিয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এ বছর তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে।

কিন্তু ক্লাব দুটির মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। বরং নাম নিয়ে আছে দ্বন্দ্ব। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইন্টার’ নামটি কারা ব্যবহারের বৈধতা পাবে তা চলছে লড়াই। মেসির ক্লাবটির পুরো না ‘ক্লাব ইন্টারন্যাসিওনাল ডি ফুটবল মিয়ামি’ (Club Internacional de Futbol Miami ) আর ইতালীয় ক্লাবটির নাম ‘ফুটবল ক্লাব ইন্টারন্যাসিওনাল মিলানো’(Football Club Internazionale Milano)। আর উভয় ক্লাবই সংক্ষেপে ইন্টার নামটি ব্যবহার করতে চায়। এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।

কিন্তু কোন দলই এখন পর্যন্ত নাম বদল কিংবা মার্কেটিং কৌশল বদলায়নি। তবে ফুটবল বিশ্ব যেমন অনেকগুলো ‘ইউনাইটেড’ বা ‘রিয়াল’ নামের ক্লাব আছে, দুটি করে লিভারপুল ও বার্সেলোনা নামের ক্লাব আছে। তেমনি ইন্টার মিলান ও ইন্টার মিয়ামিও হয়তো থাকবে পাশাপাশি।

ইন্টার মিয়ামি
ক্লাবের জার্সি ও লোগো

জার্সি ও লোগো

যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে মেসিকে দেখা যাবে ইন্টার মিয়ামির গোলাপি রঙের জার্সিতে। শুরু থেকেই ক্লাবটি তাদের প্রাথমিক জার্সি রং হিসেবে গোলাপিকে বেছে নিয়েছে। সেই সাথে মোজা ও শর্টসের রংও গোলাপি।

ক্লাবটি বলছে, এই রঙের মাধ্যমে দক্ষিণ ফ্লোরিডার প্রাণবন্ত অস্তিত্বকেই তুলে ধরা হচ্ছে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক রিডলে বলেন, ভালো খবর হচ্ছে আপনি যখন টিভি অন করেই গোলাপি রঙের জার্সি দেখতে পান, তখন আমাদের কথাই মনে পড়বে।

সাদা রঙের বকের ছবি রয়েছে ক্লাবটি লোগোতে, এ ধরণের পাখি ওই অঞ্চলে প্রায়ই দেখা যায়।

হিগুইন খেলেছেন এখানে

মেসির আগে আরেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার গঞ্জালো হিগুইন খেলেছেন এই ক্লাবটির হয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ, নাপোলি, জুভেন্টাসে ক্যারিয়ারের সোনালী সময়টা কাটিয়ে শেষ দিকে ইন্টার মিয়ামিতে খেলেছেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। ২০২০ সালে চুক্তির পর ২০২২ সালে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ২৯টি গোল করেছেন তিনি।

তবে হিগুইন এমন একটি সময়ে এই ক্লাবে এসেছিলেন, যখন তাকে নিয়ে কোন মাতামাতি ছিলো না। ক্যারিয়ার ছিলো গোধূলি বেলায়। কিন্তু মেসির ব্যাপারটি ভিন্ন। মেসি নিশ্চয়ই তার যুক্তরাষ্ট্র মিশন হিগুইনের চেয়ে আলাদা হবে বলেই আশা করে আছেন।

সমর্থকরাও আশা করছে তেমন কিছ।

আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন : আহমেদ স্টোর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top